বেছে নিন মানানসই হেয়ারস্টাইল - Shajgoj বেছে নিন মানানসই হেয়ারস্টাইল - Shajgoj

বেছে নিন মানানসই হেয়ারস্টাইল

জুন ১২, ২০১৪

হাল ফ্যাশনে হেয়ার স্টাইল অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হেয়ার কাট, কালার, রিবন্ডিং বা কার্লিং, পার্ম আরো কত কী – সবই এখন ফ্যাশনের অন্তর্ভুক্ত। তবে যে ফ্যাশন বা স্টাইলই করতে ইচ্ছা হোক না কেন, সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে একটা ভালো ও মানানসই হেয়ার কাট; কেননা চুলের আকার-আকৃতি ঠিক না থাকলে কোন রকম স্টাইলই ফুটে উঠবে না। চেহারার ভিন্নতা, চুলের প্রকৃতি ও ব্যক্তিত্বের কথা মাথায় রেখে কার জন্য কেমন হেয়ার স্টাইল উপযোগী আজকে চলুন তাই জেনে নিই।

প্রথম ধাপঃ

এমন হেয়ার কাট বছাই করুন যা আপনার চেহারার সৌন্দর্য্য বর্ধন করে-

সাধারণত, চেহারার সাথে বৈপরীত্ব রেখেই হেয়ার কাট করা হয়ে থাকে। নামী-দামী হেয়ার স্টাইলিস্টরা এ নিয়ম মেনেই ভিন্ন ভিন্ন গ্রাহকদের ভিন্ন ভিন্ন হেয়ায় স্টাইল তথা হেয়ার কাট সাজেস্ট করে থাকেন।

আপনার চেহারার আকার সম্পর্কে জানুন-

চেহারার আকার জেনে ফেললেই হেয়ার স্টাইল নিয়ে আপনার বহুবিধ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এক নিমিষেই; অনেকের কাছে হয়ত নিজের চেহারার আকার নির্ণয় করাটাই কঠিন কাজ। কিন্তু দেখুন এটি আসলেই কত সহজ। প্রথমেই সমস্ত চুল মুখের কাছ থেকে সরিয়ে নিন এবং আঁচড়ে বেঁধে নিন। এবার আয়নার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ান, একদম সোজা হয়ে দাঁড়াবেন একটুও আঁকাবাঁকা হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এবার লিপস্টিক বা বডি বাটার দিয়ে আয়নায় ফুটে উঠা আপনার প্রতিচ্ছবিতে আউটলাইন করুন (শুধু মুখমন্ডল)।

Step-1

গোলাকার- এ ধরনের চেহারাতে গোলাকৃ্তির গাল লক্ষ্য করা যায়, কপাল ও থুতনি থাকে চওড়া এবং চিকবোনও বেশ চওড়াই হয়ে থাকে। চেহারার ধরণ এমনটি হলে থুতনির নিচ পর্যন্ত লং বব, কাঁধ অবধি লং লেয়ার কিংবা স্টেপ উইথ ফ্রন্ট লেয়ারও কাটতে পারেন। সোজা লম্বা চুল বা ছোট আকৃতির বব কাট দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

চৌকোণাকার- সম্পূর্ণ মুখমন্ডল চওড়া, কোণাকার চোয়াল, প্রশস্ত চিকবোন ও চওড়া কপালের অধিকারীদের মুখমন্ডলকে চৌকোণাকৃতি ধরা হয়। আপনারা চাইলে কার্ল, লং বা স্লীক লেয়ার কিংবা ব্যাঙস উইথ ইউ লেয়ার কাট দিতে পারেন যা কিনা পিঠ পর্যন্ত যাবে না বরং চোয়ালের গোড়া অবধি থাকবে আর এতে আপনার চোয়াল সুন্দর দেখাবে।

ডিম্বাকৃতি- এটি দেখতে অনেকটা গোলাকার মুখের মতই তবে আরো একটু লম্বা ধরনের। এ ধরনের চেহারার সাথে যে কোনও হেয়ার কাট ভীষণ মানানসই। তাই আপনার পছন্দের যে কোনও কাট ট্রাই করতে পারেন।

পানপাতাকৃতি- এদের ক্ষেত্রে সরু থুতনি ও চওড়া কপাল লক্ষ্যণীয়। চিকবোন কপালের মত বা তার চেয়েও বেশি প্রশস্ত হয়ে থাকে। যে কোনও ধরনের ব্যাঙস কাট আপনাকে ভালো মানাবে ,তবে লং লেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

বরফি আকৃতি- এমন মুখে শুধু প্রশস্ত চিকবোন দেখা যায় এবং কপাল ও থুতনি তুলনামূলক ভাবে সরু হয়। সামনে শর্ট ব্যাঙস ও পেছনে লেয়ার কাটুন।

লম্বাকৃতি- লম্বা মুখমন্ডলের ক্ষেত্রে কপাল, চিকবোন, থুতনি সমান আকৃতির হয়ে থাকে। যে কোনও হেয়ার কাটকেই শর্ট করে কাটলে এমন মুখে মানিয়ে যায়। যেমন-সাইড ব্যাঙস, ববস, ইত্যাদি। ঢেউ খেলানো কার্লি স্টাইলও ভালোই যায় এমন চেহারায়।

দ্বিতীয় ধাপঃ

চুলের ধরন অনুযায়ী হেয়ার স্টাইল করুন-
সবার চুলের ধরন বা গঠন এক নয়, একেক জনের চুল একেক রকম। শুষ্ক, তৈলাক্ত, স্বাভাবিক, লম্বা, খাটো, সোজা, কোঁকড়া সহ আরো অনেক রকম চুল দেখা যায়।

670px-Choose-a-Hairstyle-Step-2

ভিন্ন ভিন্ন চুলে ভিন্ন ভিন্ন কাট ভালো যায়। যেমন-
– আপনার চুল যদি পাতলা ও সিল্কি হয় তাহলে ব্যাঙস ও লম্বা কাট গুলো থেকে বিরত থাকুন বরং বেছে নিন ভলিউম লেয়ার এর মত কাট গুলো আর চুলের আকার কাঁধ পর্যন্তই রাখুন।
-যদি আপনার চুল হয় রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন ও কার্লি তবে চুলের আকার খুব একটা ছোট করে কখনোই কাটবেন না। এতে চুল আরো বেশি ফুলে থাকবে।
– আর যদি আপনার চুল স্বাভাবিক প্রকৃতির হয়ে থাকে তাহলে লম্বা বা খাটো যে কোনও আকারেই ভালো দেখাবে আপনার চুল।

তৃতীয় ধাপঃ
একটি ভালো হেয়ার কাট আপনাকে আত্মবিশ্বাসীই করে না বরং আপনার মধ্যে যা যা আপনার পছন্দ তাও তুলে ধরতে সাহায্য করে। এটি আপনাকে আকর্ষনীয় করে তোলার পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিত্বকেও প্রভাবিত করতে পারে, তাই এর সদ্ব্যবহার করা অবশ্য কর্তব্য।

670px-Choose-a-Hairstyle-Step-3
-যদি আপনি চান যে ঘাড় লম্বা দেখাক তবে হেয়ার কাট ছোট রাখুন।
– যদি চোখ দুটিকে প্রমিনেন্ট করতে চান তাহলে ব্রো-স্কীমিং ব্যাংস কাটটা দিতে পারেন।

চতুর্থ ধাপঃ

খুঁত ঢেকে ফেলুন-
-আপনার কান যদি বেশি বড় হয়ে থাকে তবে বেশি ছোট হেয়ার কাট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং পনিটেইল, খোঁপা বা বেণী থেকেও।
– আর যদি কপাল বেশি বড় হয় তাহলে ব্যাংস কাটে তা কমিয়ে আনা যায়।
-আপনার ঘাড় যদি আপনার কাছে বড় মনে হয় তবে লং লেয়ার আপনার সে অসুবিধা দূর করতে পারে।

পঞ্চম ধাপঃ

প্রতিদিনের যত্ম-আত্মিতে মনোযোগ দিন-
– যদি আপনার কাছে ৫ মিনিটের বেশি সময় না থাকে তাহলে লেয়ার কাট আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
– আপনি যদি চুলের সাইজ ছোটই রাখতে চান তবে প্রতি ৩-৪ সপ্তাহ পরপর চুল কাটতে হবে।
– বড় চুলে ৬-৮ সপ্তাহ পর পর ট্রিমিং করতে ভুলবেন না যেন।

ষষ্ঠ ধাপঃ

ইচ্ছে হলে মন মত রঙ্গে রাঙ্গিয়ে তুলতে পারেন আপনার কেশ। তবে এটি জরুরী নয়; রং বিহীন, আপনার প্রাকৃতিক রঙের চুলও হতে পারে অনেক সুন্দর। তাই রঙ করার আগে ভেবে দেখুন আপনার সাথে সেটা যাচ্ছে কি না।

সপ্তম ধাপঃ

সবগুলো একত্রিত করুন

এবার আপনার চেহারার গঠন, চুলের প্রকার, যত্নআত্নির কথা বিবেচনা করে একটা ফাইনাল হেয়ার কাট বেছে নিন এবং পছন্দ মত কোন পার্লার বা সেলুন এ গিয়ে দিয়ে নিন আপনার উপযুক্ত হেয়ার কাটটি।
আপনার মূল্যবান চুল থাকুন সুরক্ষিত ও সুন্দর আর আপনার বেছে নেওয়া হেয়ার কাট আপনার মুখে এনে দিক সেই বড় মাপের হাসি। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনায় এ পর্যন্তই।

লিখেছেনঃ রোজা স্বর্ণা

ছবিঃ হেয়ারস্টাইল-ও্মেন.কম, উইকিহাও.কম