ইদের পরবর্তী সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের উপায় কি? - Shajgoj



ইদের পরবর্তী সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের উপায় কি?


অগাস্ট ২৯, ২০১৮



ইদ-উল-ফিতর-এ যেমন তেমন করে খাওয়া-দাওয়ার দিকে খেয়াল রাখা গেলেও কোরবানির ইদে এটা সম্ভব হয় না। কোরবানির ইদের রেশ এখনো রয়ে গেছে। আর দাওয়াতের রেলগাড়ি এখনো থামেই নি অনেকের! যারা মোটামুটি সারা বছরই হেলদি ডায়েট মেনে চলেন তারাও একটুখানি ওজন বাড়িয়ে ফেলেন এই সময়। সেই সামান্য  ফুলে যাওয়া বা একটু খানি পেট বেড়ে যাওয়া কমাতে ঠিক কী কী করবেন সেই জন্যেই আজকের এই লেখা। এটা মোটেও তাদের জন্যে নয় যাদের ওজন অনেক বেশি। যারা সাধারণত উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ধরে রাখেন তারা হঠাৎ ওজন বেড়ে গেলে একটু অস্বস্তিতেই পড়েন। জামাটা হয়তো টাইট হয়ে গেলো বা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছে- এরকম সমস্যা প্রায়ই হয়ে থাকে তাদের। তারা খুব সহজেই কীভাবে এই ইদের আনন্দের সাথে ফ্রি-তে আসা অতিরিক্ত মেদ কমাবেন সেটাই জেনে নেই চলুন।

 

  • ফুড ডাইরি: চাইলে এটা মনে মনে রাখতে পারেন আবার ছোট্ট একটা নোটপ্যাড-ও নিতে পারেন। এছাড়া ব্যবহার করতে পারেন গুগল কিপ-ও। সেখানে আপনার সারা দিনের খাবারের লিস্ট করে রাখবেন একপাশে। এই লিস্ট তৈরি করবেন ক্যালোরি হিসেব করে। অন্য পাশে রাখবেন কী কী খেলেন সারা দিনে, তার একটা লিস্ট। চেষ্টা করবেন দিন শেষে যেন এই দুই লিস্ট-এর ক্যালোরি হিসেব প্রায় সমান সমান থাকে।
  • পানি: হুট করেই আমাদের একটুখানি ক্ষুধার ভাব হয়। তখনই আমরা হয়তো দুটো বিস্কিট বা চা খেয়ে ফেলি। এটা বাদ দিতে হবে। এর বদলে এক গ্লাস পানি খেয়ে নেবেন। কারণ এই ক্ষুধাভাবটা আসলে পানির তৃষ্ণা, মোটেও খাবারের চাহিদা নয়। আর এমনিতেও আমাদের বেশীরভাগেরই পানিটা খুব কম পান করা হয়। তাই পানির চাহিদাটাও পূরণ করা জরুরী।
  • চিনি কম: কী? এই নামের অমিতাভ-টাবু অভিনীত সেই মিষ্টি মুভির কথা মনে পড়ছে? হাহা! আমার খুব প্রিয় মুভি-গুলোর মধ্যে এটি একটি! কিন্তু বাস্তবেও ওজন কমাতে চাইলে আপনার রেগ্যুলার সুগার ইনটেক কমানো ছাড়া উপায় নেয়। আপাতত কোল্ড ড্রিংকস, বাইরের ফ্রুট জুস- সমস্তই বাদ দিন। চায়ে বা কফিতে চিনি একদম নগণ্য পরিমাণ (চিনি না দিলেতো ভালোই) ব্যবহার করুন। অনেকে জিরো ক্যালোরি সুগার ব্যবহার করেন। এটা পরিহার করুন! এই আর্টিফিশিয়াল সুগার ওয়েট গেইন, মেটাবলিক সিনড্রোম, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কারডিওভাস্ক্যুলার ডিজিজ ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়াতে ভুমিকা রাখে। আর হ্যাঁ, কেক-পেস্ট্রি থেকে আপাতত ক’দিনের ছুটি নিন!
  • হাঁটুন: যারা একটু ওজন বাড়িয়েছেন, তাদের বেলায় খুব বেশি এক্সারসাইজ-এর দরকার পড়ে না। এর বদলে নিয়ম করে একটু হাঁটলেই হয়। প্রতিদিন ত্রিশ মিনিট হাঁটুন। লিফট-এর বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। এতে আপনি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন। হাঁটতে বোরিং লাগে? আরে কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনুন! ভলিয়ুম-টা লও রাখবেন কিন্তু অবশ্যই! শ্রবণশক্তিটাও তো ঠিক রাখতে হবে, তাই না?
  • ১০-এর নামতা: যেকোনো খাবারের প্রতি আপনার ক্রেভিং থাকে সাধারণত দশ মিনিটের মত । সুতরাং হঠাৎ করেই মনে পড়লো , “ফ্রিজ-এ এখনো মতিচুরের লাড্ডু রয়েছে, একটা খেয়েই নেই”-এই ক্রেভিং-টা কম বেশি সবারই হয়। আমারতো রোজ রাতে ঘড়ির কাঁটায় ৮ টা বাজলেই মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছে করে। ঠিক সেই সময়েই নিজেকে কোনও কাজে ব্যস্ত রাখুন। ফোন-এ কারো সাথে কথা বলুন। বা কাপড়ের আলমারিটা গুছিয়ে ফেলুন। ঐ দশ মিনিট পেরিয়ে গেলে আপনার আর খেতে ইচ্ছা করবে না। ট্রাস্ট মি!
  • সাইজ ম্যাটারস: যেহেতু একটুখানি ওজন বেড়েই গেছে, তাই রোজকার খাবারের মেন্যু থেকে শর্করার পরিমাণটা একটু কমিয়ে দিন। তবে ভুলেও প্রোটিন বা ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার বাদ দেবেন না। আপনি হয়তো দুটো রুটি খান, তার জায়গায় দেড়টা রুটি খান। মাছ-মাংস ভুনা না খেয়ে গ্রিল করে খান। স্যান্ডউইচ-এ মাখন-মেয়নেজ দুটোই না লাগিয়ে যেকোনো একটা রাখুন অথবা কোনটাই না দিয়ে হোমমেইড সস দিয়ে শসা-টমেটো দিয়ে খেতে পারেন।

সবশেষে বলবো, আশাবাদি থাকুন। কঠিন কোন ডায়েট-এ যেতে যাবেন না। হাসিখুশি থাকুন। ঠিক মত ঘুমান। দেখবেন ইদ-এর এই ফ্রি-তে দিয়ে যাওয়া মেদ ১-১.৫ মাসের মধ্যেই উড়ে গেছে!

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

 

লিখেছেন- মাহবুবা মিমি

ছবি- ইমেজেসবাজার.কম