গরমে চাই শীতল কিছু - Shajgoj

গরমে চাই শীতল কিছু

gorome-chai-shitol-kichu

কী অসহ্য গরম রে বাবা! প্রাণ হাসফাঁস করে কেবল, গলা শুকিয়ে আসে, পানির ঝাপটা না দিলে ত্বকের শান্তি হয় না। কত জ্বালা এই গরমে!

হ্যাঁ, গরমকালের যন্ত্রণা তো ভালোই আছে তবে প্রকৃতিতে কিছু আশীর্বাদও কিন্তু আছে যেসব আপনাকে সাহায্য করবে গরম মোকাবিলা করতে। কী সেসব? সেসব মনে করিয়ে দিতেই তো লিখছি আজকে!

হাতের কাছে যা পাবেন, তাই ছেঁচে রস বানিয়ে বরফ মিশিয়ে পেটে চালান করে দিন! পেট ঠান্ডা, তো পুরো শরীর ঠান্ডা থাকবে কিছুক্ষণ। যাই হোক, মজা করে বলা হলেও কথাটা পুরো মিথ্যা নয়। যেসব ফলের শরবত বানানো যায়, সেগুলো অবশ্যই শরবত বানিয়ে পান করবেন। পানীয় কিন্তু অপরিহার্য এক জিনিস গরমকে প্রতিহত করতে।

[picture]

(১) সাধারণ ডাবের পানিতে একটুখানি লবণ আর লেবু মিশিয়ে নেড়ে নিন, আর দেখুন কী চমৎকার স্বাদবদল হয়ে যাচ্ছে। চাইলে দিয়ে নিতে পারেন একটু পুদিনাপাতাও। দারুণ সতেজ একটা পানীয় তৈরি হয়ে যাবে চট করেই!

(২) আমের উন্মাদনা তো চাইলেও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়! কাঁচা আমের টকঝাল শরবতকেও কি ভোলা যায়? এই গরমে তো মোটেও না! আম কুচি করে কেটে নিয়ে খানিকটা ছেঁচে নিলেই তা শরবত বানানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। আর জুসার থাকলে তো চিন্তাই নেই। তারপর পানি মিশিয়ে লবণ, গোলমরিচ বা কাঁচামরিচ আর একটু চিনি গুলে দিলেই তৈরি আপনার কাঁচা আমের শরবত। বরফ মেশাতে নিশ্চয় আপনি নিজেই ভুলবেন না?

(৩) লেবুর শরবত চিরন্তন এক জিনিস। রোজকার পানীয়ের তালিকায় এক গ্লাস ঠান্ডা ঠান্ডা লেবুর শরবত তো থাকাই উচিত। প্রাণ জুড়াবে আর শরীরেরও উপকার হবে। সাধারণ লেবু শরবতে ভিন্ন স্বাদ আনতে ট্যাং যোগ করতে পারেন। কিংবা বিট লবণ আর পুদিনা পাতার তরতাজা স্বাদ শরবতকে আরো মজাদার বানাতে পারে।

(৪) তরমুজের মিষ্টি শরবত আরেক দারুণ পানীয় এই গরমে। দানাগুলো ফেলে দিয়ে রসটা চিপে গ্লাসে ভরে শুধু শুধুই পান করতে ভালো লাগে। চিনি মেশানো যায় যদি তরমুজটা পানসে হয়, তা নাহলে চিনি ছাড়াই ঠিক আছে। মজাদার আর স্বাস্থ্যকর এইসব পানীয় আপনার গরমকালকে অনেকটাই শীতল বানাবে নিঃসন্দেহে।

(৫) ত্বকের গরম মোকাবিলায় কী করণীয়? এক বোতল গোলাপজল ফ্রীজে রেখে দিন, বাসায় থাকার সময়টা মাঝেমধ্যেই পানির সাথে গোলাপজল মিশিয়ে মুখে ঝাপটা দিন। শান্তি পাবেন। গোসলের পানি শীতল করতে বালতিতে বোতল ভরে ঠান্ডা পানি ঢেলে নিন। কয়েকটা নিমপাতা, গোলাপ, চাঁপা বা আর কোনো ফুল ছড়িয়ে দিন তাতে। সুঘ্রাণে মনের শান্তি, আর ত্বকও খুশি হবে। ত্বকে র‍্যাশ হলে নিমপাতা বেটে লাগিয়ে নিন আক্রান্ত জায়গায়। সাথে কিছুটা হলুদ মিশিয়ে দিলে আরো ভালো। গরমকালে এই নিম-হলুদের বাটা মিশ্রণ আপনার ত্বকের নিয়মিত সঙ্গী হতে পারে। চোখে শসা রেখে কয় মিনিটের বিশ্রাম করার অভ্যাস করুন প্রায় নিয়মিত। বাইরে থেকে এসে যখন গরমে আর ধুলায় চোখ জ্বালা করে বেশি, তখন এটা খুব উপকারী।

গরম তো থাকবেই, প্রতি বছর আসবে তীব্র রূপ নিয়ে আমাদের জ্বালাতে। তাতে দমে গেলে তো নিজেরই ক্ষতি! বরং তাকে পাশ কাটানোর প্রস্তুতি রাখা চাই এমন করেই।

 

 

লিখেছেন- মুমতাহীনা মাহবুব

0 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...