ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ডায়েটে রাখুন ১০টি প্রয়োজনীয় খাবার!

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ডায়েটে রাখুন ১০টি প্রয়োজনীয় খাবার!

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে হাতে মাল্টা নিয়ে দেখাচ্ছে একজন মডেল

উজ্জ্বল আর নিখুঁত ত্বক কে না চায়, বলুন তো? সুন্দর ত্বক পেতে আমরা কত রকমের পন্থা-ই না অবলম্বন করি। যেমন- স্কিন ট্রিটমেন্ট, স্কিন কেয়ার রুটিনে কত রকমের স্টেপ, ঘরোয়া টোটকা, ফেসিয়াল আরও কত কী! যাই হোক না কেন, পারফেক্ট স্কিনের জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করা এবং ভেতর থেকেও পুষ্টির যাতে ঘাটতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেলেই তো ত্বক হয়ে উঠবে ফ্ললেস। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ডায়েটে রাখুন কিছু প্রয়োজনীয় খাবার।

সুতরাং আপনার সব প্রচেষ্টাই বিফলে যাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি ডায়েটের দিকে মনযোগী হবেন অথবা আপনার ডায়েটে স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করবেন। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ডায়েটে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু ফুড আইটেম। জানেন কি, সহজলভ্য কোন দশটি খাবার আপনার স্কিনকে করে তুলবে উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত? ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে কোন ফুডগুলো আসলেই কার্যকরী, চলুন জেনে নেই এখনই।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক খাবার

১. লেবু জাতীয় ফল

শরীরের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে এক গ্লাস ফ্রেশ লেবুর শরবত কে না পছন্দ করে? কিন্তু এটি শুধুমাত্র পানীয় না, এর স্বাস্থ্য উপকারিতা কিন্তু অনেক। লেবু, কমলা, মোসাম্বি, জাম্বুরা, মাল্টা এগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে দারুন কার্যকরী। কারণ এতে আছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিনস, যা স্কিনকে হাইড্রেটেট রাখে আর ন্যাচারালি স্কিনটোন ব্রাইট করতে হেল্প করে। মেলানিন কমিয়ে স্কিনকে উজ্জ্বল করে তুলতে লেবু জাতীয় ফল বেশ ভালো কাজ করে। হজমের সমস্যা থেকেও স্কিনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরতে পারে। লেমন ওয়াটার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ ও সচল রাখতে সাহায্য করে। তাই রেগুলার ডায়েটে রাখুন লেবু বা লেবু জাতীয় ফল।

লেবু কুচি ও পাকা লেবু

টিপস

ফলের জুস খাওয়ার সময় চেষ্টা করবেন বাইরের প্যাকেটজাত জুস না কিনে বাসাতে ফ্রেশ জুস বা শরবত বানিয়ে নিতে। কারণ প্যাকেটজাত জুসে বিভিন্ন প্রিজারভেটিভস অ্যাড করা থাকে, অতিরিক্ত চিনিও মেশানো থাকে। স্বাস্থ্যের জন্য এসব উপাদান ক্ষতিকর, তাই ভেজালমুক্ত জুস বাসাতেই বানিয়ে নিন।

২. শসা

আচ্ছা, আমরা যখন ত্বকের যত্নে শসার কথা কল্পনা করি, নিশ্চয়ই আমাদের চোখের সামনে এই ছবিটা ভেসে উঠে, একজন চোখের উপর শসার স্লাইস আর মুখে ফেইসপ্যাক লাগিয়ে বসে আছে! তাই না? ফেইসপ্যাকে শসা ব্যবহার কেন করা হয়, জানেন কি? এতে আছে কুলিং ইফেক্ট, যা ত্বকে এনে দেয় প্রশান্তি। শুধুমাত্র ফেইসপ্যাকে নয়, রেগুলার শসা খেলে আপনি অনেক উপকার পাবেন। শসাতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি আর ভিটামিন কে। আর এই উপাদানগুলো আপনার স্কিনকে রাখে হেলদি্ আর গ্লোয়িং। আরও উপকারিতা আছে, বয়সের ছাপ বা বলিরেখা কমাতে ও স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখতে দারুন কার্যকরী এই উপাদানটি।

টিপস

দুপুরে বা রাতের খাবারের সাথে রাখতে পারেন শসার সালাদ। আপনি স্যান্ডউইচ তৈরিতে যদি কয়েক স্লাইস শসা অ্যাড করেন, তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে পারফেক্ট সন্ধ্যার নাস্তা হবে।

৩. ইয়োগার্ট / টকদই

আপনি জানেন কি, ত্বকের বিভিন্ন ছোটখাটো সমস্যার সাথে অন্ত্রের বা Gut এর একটি সম্পর্ক আছে! টকদইয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের প্রোবায়োটিকস, যেটা হজমে সাহায্য করে। স্কিনের অনেক ধরনের সমস্যার সল্যুশন দেয় এটা। ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়, ব্রেকআউটের সমস্যা কমিয়ে স্কিনকে করে উজ্জ্বল ও লাবন্যময়। আপনি প্রতিদিনের ডায়েটে টকদই রাখতে পারেন।

একটি সাদা বাটিতে টক দই

টিপস

শুধু টকদই খেতে পছন্দ না করলে, ফ্রুট সালাদ কিংবা স্মুদির সাথে মিশিয়ে স্বাদে পরিবর্তন আনতে পারেন খুব সহজেই। যদি একনে সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে অতিরিক্ত টকদই আপনার জন্য বেস্ট ডেইরী প্রোডাক্ট হিসাবে বিবেচিত নাও হতে পারে। এই ব্যাপারে পুষ্টিবিদের সাথে আলোচনা করতে পারেন।

৪. গ্রীন টি

শরীরকে ডিটক্স করার জন্য গ্রীন টি নিঃসন্দেহে একটি দারুন উপাদান। এতে আছে প্রচুর পরিমাণ ন্যাচারাল অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এতে আছে Phytonutrient যেটাকে বলে Epigallocatechin Gallate (EGCG), স্কিনকে ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া ডার্ক স্পট কমাতে এবং অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে এই উপাদানটি। এতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বককে হেলদি রাখতে ও স্কিনটোন ব্রাইট করতে দারুন কার্যকরী।

টিপস

গ্রীন টি তে একটু খানি লেবুর রস অ্যাড করলে বা মধু মিশিয়ে নিলে টেস্ট ভালো হয়! সকালে ও সন্ধ্যায় ১ কাপ করে গ্রীন টি পান করতে পারেন।

৫. দুধ

দুধে আছে ল্যাকটিক এসিড, যেটা স্কিনকে ফেয়ার করতে হেল্প করে। আর প্রোটিন ত্বকের কোলাজেন বুস্ট করতে দরকারি ভূমিকা রাখে। রেগুলার ২ কাপ করে দুধ পান করলে ত্বকে অকালে বয়সের ছাপ পরা রোধ হয়। সেই সাথে ত্বকে আসে হেলদি গ্লো। দুধকে বলা হয় আদর্শ খাদ্য, কেননা এতে সব ধরনের খাদ্যগুণ আছে। দরকারি মিনারেলস আর পুষ্টি উপাদান সবই পেয়ে যাবেন দুধ থেকে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে রেগুলার ডায়েটে রাখুন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে দুধ পান করছে একজন মেয়ে

টিপস

অনেকেই বলেন যে গরুর দুধ গন্ধ লাগে, সেক্ষেত্রে একটু মধু যোগ করতে পারেন। কলা বা আম বা পেঁপে ব্লেন্ড করে মিল্ক শেইক বানিয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারনে বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে বা দুধে অ্যালার্জি থাকলে এটি অ্যাভোয়েড করুন।

৬. গাজর

বলা হয়ে থাকে, গাজর চোখের সুস্থতার জন্য ভালো কাজ করে। কিন্তু এটি নানা রকম পুষ্টি উপাদানের অসম্ভব ভালো একটি উৎস, যেটি হেলদি এবং গ্লোয়িং ত্বকের জন্য সহায়ক। এতে আছে বিটা ক্যারোটিন। স্কিনের আউটার লেয়ারে কোষের বৃদ্ধি করে, হেলদি স্কিন সেলসকে প্রোমোট করে ত্বককে স্মুথ রাখে। গাজরে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, যেটা ড্যামেজড কোলাজেন রিস্টোর করে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি সহজলভ্য এবং সহজেই ডায়েটে অ্যাড করা যায়।

টিপস

বিভিন্ন খাবারে ব্যবহারের পাশাপাশি আপনি এটা কাঁচাও খেতে পারেন কিংবা জুস বা স্মুদি হিসাবেও পান করতে পারেন। অতিরিক্ত গাজর খেলে Carotenemia হতে পারে যদিও এমন ঘটনা বিরল৷ এই সময় স্কিন অরেঞ্জ কালার হতে পারে। সুতরাং অতিরিক্ত গাজর খাওয়ার সময় একটু সাবধানতা বজায় রাখাই ভালো।

৭. কাঠবাদাম / আমন্ড

আমার পরিচিত অনেকেই স্মৃতিশক্তি বর্ধক হিসাবে প্রতিদিনই কয়েকটা কাঠবাদাম খেয়ে থাকেন। কিন্তু জানেন না যে, এটা স্কিনের জন্যও দারুন উপকারি! কাঠবাদাম ভিটামিন ই এর সবচেয়ে ভালো উৎস। এটি ড্যামেজড স্কিন সেলসকে রিপেয়ার করে এবং ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। স্নেহজাতীয় খাবার ত্বককে সুস্থ্য ও সুন্দর রাখে। এতে থাকা Linoleic acid বা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড ত্বকের রুক্ষতা ও শুষ্কভাব কমিয়ে ফেলে।

একটি বাটিতে ও  একটি কাঠের চামচে অনেক গুলো কাঠবাদাম

টিপস

শুধু শুধু কাঠবাদাম তো খাওয়া যায়ই, এছাড়াও হালকা করে ভেজে গুঁড়ো করে রাখতে পারেন। এই বাদামের গুঁড়ো যেকোনো মিষ্টি জাতীয় খাবারের সাথে অ্যাড করলে দারুন ফ্লেবার পাবেন।

৮. পালং শাক

এমন একটি সবুজ সবজি এটি, যার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। এতে আছে lutein এবং zeaxanthin, এগুলো স্কিনের জন্য খুবই বেনিফিসিয়াল। পালং শাকে আরো আছে ভিটামিন এ, ই, কে- যা স্কিনকে স্বাস্থ্যজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এই পুষ্টি উপাদানগুলো স্কিনের তারুণ্যও বজায় রাখে, সেই সাথে বার্ধক্যের ছাপ পরার প্রক্রিয়াকে বিলম্ব করে।

টিপস

হাই হিটে রান্না করলে নিউট্রিশনাল ভেল্যু কমে যায়। স্টিম করে খেতে পারেন। অথবা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে কম তাপে রান্না করতে পারেন।

৯. আপেল

প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আপেলের মত গালও টসটসে হবে! এমন কথা আমরা অনেকেই শুনেছি, তাই না? আপেলে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, এ, সি আর অন্যান্য দরকারি নিউট্রিয়েন্ট। আর আমরা তো আগেই বলেছি এসব ভিটামিন স্কিনকে সুরক্ষিত রাখে এবং উজ্জ্বলও করে তোলে। আনইভেন স্কিনটোন রিপেয়ারে, হেলদি গ্লো ধরে রাখতে এবং ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত দেখাতে এই ফলটি দারুন কাজ করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে আপেল খাচ্ছে একজন মেয়ে

টিপস

খোসাসহ আপেল খেলে পুষ্টিগুণ বেশি পাবেন। আপেল কেটে রেখে দিলে কালো হয়ে যায়, সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে রাখলে এই সমস্যার সমাধান পাবেন।

১০. ডার্ক চকলেট

অবশেষে শাক সবজি আর ফলমূলের লিস্টের পর এই অংশটি অবশ্যই চকোলেটপ্রেমীদের জন্য দারুন একটি খবর! আপনি জানেন কি, ডার্ক চকলেটে flavanol নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে, যেটা স্কিনকে মসৃণ ও সুন্দর রাখতে দারুন ইফেক্টিভ। কোকোয়া বিন স্কিনকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি অকালবার্ধক্য রোধ করে। পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে ত্বক সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি হার্টও ভালো থাকে।

টিপস

খেয়াল রাখবেন, ডার্ক চকলেটের পরিবর্তে মিল্ক চকলেট খেয়ে ফেলবেন না! কারণ চকলেটে কোকোর পরিমাণ যত কম হবে, সেই সাথে এটি ততটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। কেননা এতে আনহেলদি ফ্যাট কনটেন্ট বাড়ে, সুগারও অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

আপনার স্কিনের জন্য কোন খাবারগুলো ক্ষতিকর?

আচ্ছা, হেলদি ফুড সম্পর্কে তো জানলাম! অস্বাস্থ্যকর এমন কিছু ফুড আছে, যেটা আপনার স্কিনে ব্রণের প্রবণতা বাড়ায়, স্কিনকে তৈলাক্ত করে দেয়। ডিপ ফ্রায়েড খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এর মধ্যে অন্যতম। প্রবলেম ফ্রি স্কিন পেতে হলে জাঙ্ক ফুড, তেলে ভাজা খাবার, পেস্ট্রি এসব খাওয়া কমিয়ে দিন!

তাহলে জেনে নিলেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ডায়েটে কোন ১০টি খাবার রাখতে হবে। রেগুলার স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি আপনার ফুড সিলেকশনের দিকেও নজর দিন। নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন। তাহলে আজ এই পর্যন্তই। ভালো থাকুন।

 

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

13 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...