ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন | ব্রাইটেনিংয়ের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর?

ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন | ব্রাইটেনিংয়ের জন্য কোনটি বেশি কার্যকর?

2

স্কিন ব্রাইটেনিংয়ের জন্য ভিটামিন সি আর আলফা আরবুটিন দু’টোই বেশ ভালো অপশন। ব্রাইটেনিং মানে এই না যে স্কিন রাতারাতি একদম ফর্সা হয়ে যাবে। বরং স্কিন হবে আগের তুলনায় হেলদি ও গ্লোয়ি। মানে চোখে পড়ার মতো চেঞ্জ আসবে! এটাই আমরা চাই, তাই না? ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন নিয়েই আজকের ফিচার। কোন ইনগ্রেডিয়েন্টটি আপনার জন্য বেস্ট অপশন সেটা নিয়ে যদি কনফিউশনে থাকেন, তাহলে চোখ রাখুন আজকের আর্টিকেলে। প্রথমে আমরা ভিটামিন সি নিয়ে বিস্তারিত জানবো।

ভিটামিন সি

আমাদের শরীরে নিজ থেকে ভিটামিন সি তৈরি হয় না, বরং ভিটামিন সি আমরা পেয়ে থাকি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যের মাধ্যমে। কিন্তু এই খাদ্যের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হলেও স্কিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয় না। যার ফলে স্কিনে ভিটামিন সি এর ঘাটতি দেখা দেয় এবং স্কিন ধীরে ধীরে ড্রাই হতে থাকে, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যেতে থাকে। ভিটামিন সি একটি কার্যকর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং এটির শুদ্ধতম ফর্ম হলো L- Ascorbic acid। চলুন এখন জেনে নেই এর উপকারিতাগুলো কী কী।

স্কিনকেয়ার বেনিফিটস

ভিটামিন সি সিরাম

১) ভিটামিন সি পিগমেন্টেশন কমানো, মেলাজমা বা মেছতা দূর করা, দাগছোপ কমানো এমন অনেক বেনিফিট দেয়। ফ্রি রেডিক্যাল এর কারণে স্কিনের যে ড্যামেজ হয়, তা থেকেও স্কিনকে সুরক্ষা দেয়।

২) মেলানিন প্রোডাকশন কমিয়ে স্কিনকে আগের তুলনায় ব্রাইট করে, এছাড়াও ভিটামিন সি কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়িয়ে দেয়। আর কোলাজেন আমাদের স্কিন ইলাস্টিসিটি ঠিক রেখে প্রিম্যাচিউর এজিং সাইনস প্রিভেন্ট করে যা সাইন্টিফিক্যালি প্রমাণিত।

ত্বকের ভিটামিন সি চাহিদা ভিটামিন সি যুক্ত ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার, সিরাম, টোনার, এসেন্স, অ্যাম্পুল ইত্যাদির মাধ্যমে পূরণ করা যায়। ভিটামিন সি যুক্ত সিরাম পুরু ও ডার্ক কালারের বোতলে বা এয়ার টাইট প্যাকেজিং করা হয় যাতে এটি সহজেই অক্সিডাইজড না হয়ে যায় এবং স্ট্যাবল থাকে।

গ্রুমি সিরাম

কোন ফর্মে ভিটামিন সি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে ব্যবহৃত হয়?

ভিটামিন সি এর পপুলার ফর্ম L- Ascorbic acid। কিন্তু বাতাস, আলো, অক্সিজেন, যেকোনো হেভি মেটাল এর সংস্পর্শে এলে এটি এর কার্যকারিতা হারায়, অক্সিডাইজ হয়ে যায়। তাই L- Ascorbic Acid কে ইফেক্টিভ ও স্ট্যাবল রাখতে এর সঠিক ফর্মুলেশন অনেক জরুরি যা স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টগুলোতে বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাচ্ছে।

১) স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টসে L- Ascorbic acid এর সাথে Tocopherol (ভিটামিন-ই এর একটি ফর্ম) ও Ferulic acid কে রাখা হয় উপাদান তালিকায় যা এই অ্যাসিডের স্ট্যাবিলিটি বাড়িয়ে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

২) এছাড়াও গ্লুটাথিওন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্টকেও রাখা হয় অনেক সময় যা L- Ascorbic acid এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। অনেক সময় ভিটামিন সি সিরামের ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্টে Ascorbyl Glucoside দেখা যায়, এটি হচ্ছে ভিটামিন সি বা L- Ascorbic acid এর জেন্টল ফর্ম, তাই স্কিনে কোনো ইরিটেশন হয় না।

৩) অনেকক্ষেত্রে L- Ascorbic acid এর পরিবর্তে এর কিছু ডেরিভেটিভস ব্যবহার করতে দেখা যায়। যেমন- Magnesium Ascorbate, Magnesium Ascorbyl Phosphate, Sodium Ascorbyl Phosphate, Calcium Ascorbate ইত্যাদি।

কত % স্কিনের জন্য সেইফ?

ভিটামিন সি ১০-২০% এর মধ্যে থাকলে তা স্কিন ব্রাইট করতে, কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়াতে, ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ ও হাইপার পিগমেন্টেশন কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ১০-২০% ভিটামিন সি স্কিনকেয়ারের ক্ষেত্রে নিরাপদ। তবে ২০% এর বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে স্কিনের ভালো তো হয়ই না, উল্টো সেনসিটিভিটি বাড়ে এবং স্কিন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

বিগেইনার গাইডলাইন

যারা বিগেইনার, তাদের উচিত কম মাত্রার অর্থাৎ ১০% থেকে ব্যবহার শুরু করা এবং যাদের ড্যামেজড স্কিন তাদের উচিত আগে ব্যারিয়ার ঠিক করে তারপর ব্যবহার করা। এছাড়াও ভিটামিন সি একটি অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট, তাই এটি স্কিনকে সান সেনসিটিভ করে ফেলে। সানস্ক্রিন এমনিতেই মাস্ট হ্যাভ, স্কিনকেয়ারে ভিটামিন সি যারা ব্যবহার করছেন তাদের জন্য তো সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই ও ২/৩ ঘন্টা পর পর রিঅ্যাপ্লাই করা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

ভিটামিন সি কি সেনসিটিভ স্কিনে অ্যাপ্লাই করা যায়?

এই উপাদানটি সবার স্যুট নাও হতে পারে। প্রথমে প্যাচ টেস্ট করে চেক করুন আপনার এতে অ্যালার্জি, ইরিটেশন বা র‍্যাশ হচ্ছে কিনা। যদি ভিটামিন সি জাতীয় প্রোডাক্টে আপনার স্কিন রিঅ্যাক্ট করে, তাহলে সেগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

ভিটামিন সি যেহেতু সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন না, তাহলে একটি প্রশ্ন থেকে যায় যে স্কিন ব্রাইটেনিংয়ের জন্য তারা কি ব্যবহার করবে? এক্ষেত্রে আরও একটি সেইফ ইনগ্রেডিয়েন্ট হলো আলফা আরবুটিন যা সব ধরনের ত্বকের অধিকারীরা ব্যবহার করতে পারবে। চলুন এবার এই উপাদানটি নিয়ে জেনে নেই!

আলফা আরবুটিন

ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন

আলফা আরবুটিন হলো একটি কার্যকরী স্কিন ব্রাইটেনিং ইনগ্রেডিয়েন্ট ও পাওয়ারফুল অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যাদের সেনসিটিভ স্কিন, তারা ভিটামিন সি ব্যবহার না করতে পারলেও আলফা আরবুটিন সহজে ব্যবহার করতে পারেন। আলফা আরবুটিন এর রঙ ফর্সাকারী বা উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার ক্ষমতাও সায়েন্টিফিকভাবে প্রমাণিত। আরবুটিন হলো বিভিন্ন গাছের পাতার মধ্যে থাকা এক ধরনের উপাদান। ব্লু বেরি, বেয়ার ট্রি ইত্যাদি গাছের পাতা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

স্কিনকেয়ার বেনিফিটস

আমাদের ত্বকে থাকা মেলালিন ত্বকের রং নির্ধারণ করে এবং এই মেলালিনকে কন্ট্রোল করে ত্বকে থাকা টাইরোসিনেজ এনজাইম। এই টাইরোসিনেজ এনজাইম সূর্যের সংস্পর্শে আসলে মেলানিন প্রোডাকশন বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে সূর্যের আলোতে স্কিন ডার্ক হয়ে যায়। আলফা আরবুটিন মূলত আমাদের ত্বকে থাকা এই টাইরোসিনেজ এনজাইমের অ্যাকটিভিটিকে বাধা প্রদান করে যার ফলে মেলালিন প্রোডাকশন বৃদ্ধি পায় না এবং ইউভি রে এর সংস্পর্শে আসলেও স্কিন সেলস কালচে হয় না। ফলে স্কিন ধীরে ধীরে ব্রাইট হয়ে ওঠে। এভাবেই আলফা আরবুটিন স্কিনকে ইভেনটোনড করে এবং দাগ ছোপ কমায়।

সিরাম অ্যাপ্লাই

আলফা আরবুটিন এর একটি সুবিধা হলো এটি সেনসিটিভ স্কিন ফ্রেন্ডলি, তাই যারা সেনসিটিভ ত্বকের অধিকারী তারা নিশ্চিন্তে আলফা আরবুটিন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আলফা আরবুটিন সেইফ হলেও এর কিছু ব্যবহারবিধি আছে যা মেনে চলতে হবে অবশ্যই। ব্যবহারবিধি জানতে প্রোডাক্ট প্যাকেজিং চেক করে নিতে হবে।

কত % স্কিনের জন্য সেইফ?

২-৪% সেইফ রেঞ্জ, ৪% এর উপরে আলফা আরবুটিন সিরাম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ রিসার্চে দেখা গেছে, ৪% এর বেশি পার্সেন্ট এর ব্যবহারে স্কিনের দাগ, কালচেভাব তো কমেই না বরং স্কিন ড্যামেজ হয়ে যায়। আলফা আরবুটিন সিরাম টিনেজে ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়াও প্রেগনেন্ট ও ব্রেস্ট ফ্রিডিং করান এমন মায়েদের উচিত এই সময় অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট এড়িয়ে যাওয়া। মোটামুটি ২০ বছর থেকে আলফা আরবুটিন ব্যবহার করা যায়। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এক-দেড় মাসের মধ্যেই এর কার্যকারিতা দেখা যায়।

সতর্কতা

আলফা আরবুটিন ব্যবহার এর শুরুতেই প্যাচ টেস্ট করতে হবে এবং কোনো প্রকার রিঅ্যাকশন দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে অথবা কিছুদিন পর আরেকবার ব্যবহার করে দেখতে হবে স্কিনের সাথে মানানসই হয় কিনা। আলফা আরবুটিন কিন্তু ভিটামিন সি, রেটিনল, নিয়াসিনামাইড এর সাথে ব্যবহার করা যায়। কারণ এটি খুব জেন্টল একটি উপাদান, এটি সহজে অন্য উপাদানের সাথে ক্ল্যাশ করে না।

ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন

ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন

স্কিনকেয়ারে আলফা আরবুটিন এবং ভিটামিন সি দু’টোই খুবই কার্যকরী ব্রাইটেনিং এজেন্ট এবং যাদের যেটা স্যুট করে সেটা নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন। যাদের ভিটামিন সি তে ইরিটেশন হচ্ছে, তারা স্কিন ব্রাইটেনিংয়ের জন্য আলফা আরবুটিন বেছে নিন। ভিটামিন সি সিরাম স্যুট না করলেও ভিটামিন সি যুক্ত ক্লেনজার, ময়েশ্চারাইজার আপনার স্কিনে বেনিফিট দিতে পারে। তাই ট্রাই করে দেখুন! বিগেইনার হলে আগে বেসিক স্কিনকেয়ার রুটিন ঠিকমতো ফলো করুন। তারপর আপনি সিরাম অ্যাড করতে পারবেন। বেসিক স্কিনকেয়ারে সানস্ক্রিন মাস্ট, এটি কিন্তু মিস করা যাবে না।

ভিটামিন সি vs আলফা আরবুটিন, এটা নিয়ে আর কোনো কনফিউশন নেই আশা করি। সেলফ কেয়ারের প্রোডাক্ট পারচেজ করতে আমার ভরসার জায়গা হচ্ছে সাজগোজ। সাজগোজের ৪টি শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) ও সীমান্ত সম্ভার থেকে বেছে নিতে পারেন অথেনটিক প্রোডাক্ট আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

 

লিখেছেন- জাফরিন জাহান, শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

4 I like it
2 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...