সোজা জটহীন ঝলমলে চুল আমাদের সবারই বেশ পছন্দ। জন্মগতভাবে যাদের চুল সোজা তারা তো অবশ্যই ব্লেসড! কিন্তু যাদের চুল পুরোপুরিভাবে সোজা নয়, বেশ রুক্ষ এবং জট বেঁধে থাকে, তারাই জানেন সিল্কি-স্ট্রেইট চুলের মর্ম কি! আমরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে পার্লারে রিবন্ডিং করাতে চলে যাই, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করাই, বিভিন্ন রকম এক্সপেন্সিভ হেয়ার ট্রিটমেন্ট প্রোডাক্টস, হেয়ার সিরাম কিনি, হেয়ার স্ট্রেইটেনিং মেশিন কিনে ফেলি। আমার এক ছোটবোন তো একবার ওর মায়ের সাথে হেয়ার স্ট্রেইটেনিং আয়রন কিনে না দেয়ায় ঝগড়া করে কাপড় ইস্ত্রি করার আয়রন দিয়ে চুল আয়রন করতে গিয়ে হাতই পুড়িয়ে ফেললো! এত কিছুর পরেও কি হয় জানেন তো? বছরখানেকের মাথায় এই হুজুগের খেসারত দিতে বসা লাগে! রুক্ষ, নিষ্প্রাণ, ড্যামেজড চুল, আগাগুলো আয়রন করে করে ফেটে গিয়েছে, চুল মাঝখান থেকে ভেঙে ভেঙে পড়া যাচ্ছে। এবং তারপর যথারীতি হায়-হুতাশ করে আমরা আবার ও অনলাইন আর অফলাইনে ম্যাজিকাল চকচকে প্রোডাক্টের পিছনে একগাদা টাকা খরচ করতে চলে যাই। কি লাভ?
- আপনার!
- আপনার!
- আপনি!
- ৫০ এম.এল ১০০% পিওর কোকোনাট অয়েল (নারকেল তেল)
- দুই কাপ কোরানো নারকেল
- ছয় টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল
- দুই টেবিল চামচ কর্ণফ্লাওয়ার
- তিন টেবিল চামচ লেবুর রস
- ৬০ এম.এল. পানি
এবার আরেকটা পাত্রে কর্ণফ্লাওয়ার আর লেবুর রসের সাথে নারকেলের দুধটা ভালো করে মিশিয়ে নিন। একটা ছোট হাঁড়ি বা ননস্টিক প্যান চুলায় বসিয়ে একদম ধিমে আঁচে ঐ মিশ্রণটা আস্তে আস্তে জ্বাল দিতে থাকুন। বেশ ঘন ক্রিমি স্ট্রাকচারের হয়ে আসলে চুলা বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হবার জন্য রেখে দিন।
এবার গায়ে কোন পুরাতন তোয়ালে পেঁচিয়ে পুরো মাথার চুলকে কয়েক ভাগে ভাগ করে ধীরে ধীরে আগাগোড়া পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। লাগানো শেষ হলে চুল সোজা করে আঁচড়ে নিন এবং ঐ অবস্থাতেই রেখে দিন, কমপক্ষে এক ঘণ্টার জন্য। এ সময় চুল বাঁধবেন না, চেষ্টা করবেন সোজা অবস্থায় রাখতে। তারপর বেশি করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল শুকিয়ে গেলে আবার আগাগোড়া নারকেল তেল মেখে ঘুমিয়ে যান। পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন। চুল আঁচড়ে কি দেখতে পাচ্ছেন?
সিল্কি, স্ট্রেইট, জটহীন, ঝলমলে চুল! সপ্তাহে অন্ততপক্ষে দুই-তিন দিন নিয়মিত প্যাকটি ব্যবহার করেই দেখুন। তিন-ছয় মাসের মধ্যে আপনার অবাধ্য চুলগুলো বাধ্য হয়ে উঠবে for sure. পার্লারে আর মার্কেটে দৌড়াতে ও হবে না। আর হেয়ার স্ট্রেইটেনিং আয়রন দিয়ে চুলকে রেগুলার বেসিসে তন্দুরি ও বানাতে হবে না। শুধু প্রয়োজন একটু সময় আর ধৈর্য! দিনশেষে কিন্তু চুলের বেস্ট ফ্রেন্ড তেলই। তেল বিনা কোন সাইড ইফেক্টে প্যাকটির ১০০% ইফেক্টিভিটির জন্য চুলকে প্রস্তুত করবে। তাই দিনশেষে কিন্তু ন্যাচারাল প্রোডাক্ট-গুলোই আপনার চুল আর ত্বকের বেস্ট ফ্রেন্ড।
Stay Beautiful, Stay Gorgeous.
লিখেছেন - ফারহানা প্রীতি






