পার্জিং vs ব্রেকআউট : এই দুইয়ের পার্থক্য জানেন কি?

পার্জিং vs ব্রেকআউট : এই দুইয়ের পার্থক্য জানেন কি?

Untitled-1

সুন্দর এবং ক্লিয়ার স্কিন কে না চায়! স্কিনকে ভালো রাখতে আমাদের কতই না তোড়জোড়! আর ত্বকের যত্নে তাই আমরা অনেক ধরনের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, স্কিনের কোনো একটি সমস্যা দূর করার জন্য নতুন কোনো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বেশ দাম দিয়ে কিনলেন। কিন্তু দেখা গেল সেটা ব্যবহারের পর স্কিনে পিম্পল দেখা দিচ্ছে। সেই সময় মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে, প্রোডাক্টটিই হয়তো ভালো না বা প্রোডাক্টটি স্কিনে স্যুট করছে না। কিন্তু আসলেই কি তাই?  এজন্য আমাদের জানা দরকার স্কিন পার্জিং vs ব্রেকআউট সম্পর্কে।

অনেক সময় নতুন স্কিন কেয়ারে নতুন প্রোডাক্ট ট্রাই করলে দেখা যায় স্কিন কন্ডিশন আরো বাজে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন পর ধীরে ধীরে স্কিনে ইম্প্রুভমেন্ট দেখা যায়। এটাকেই স্কিন পারজিং বলা হয়ে থাকে। তবে আমরা অনেকেই এটাকে ব্রেকআউটের সাথে মিলিয়ে ফেলি। কিন্তু পার্জিং এবং ব্রেকআউটের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তো কীভাবে বুঝবেন স্কিনে পার্জিং নাকি ব্রেকআউট হয়েছে? এই দুইটির মধ্যকার পার্থক্য কী?

তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই, স্কিন পার্জিং vs ব্রেকআউট সম্পর্কে।

স্কিন পার্জিং কী এবং কখন হয়?

যখন আমাদের স্কিন নতুন কোনো প্রোডাক্টের সাথে নিজেকে এডজাস্ট করার চেষ্টা করে, স্কিন তখন  হিল করতে শুরু করে এবং স্কিনে ব্রেকআউট দেখা দেয়।  কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে আস্তে আস্তে স্কিন কন্ডিশন ইম্প্রুভ হতে দেখা যায়। এই কন্ডিশনকেই স্কিন পার্জিং বলে। অর্থাৎ প্রোডাক্টটি আপনার স্কিনে কাজ করছে। এর ফলে  ধীরে ধীরে ব্রেকআউট কমে যায় এবং স্কিন কন্ডিশন বেটার হতে শুরু করে। নতুন কোনো প্রোডাক্টের বেলায় এই প্রক্রিয়াটি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তার মানে এই না যে নতুন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টটি খারাপ।

ধরুন পিম্পল দূর করার জন্য আপনি নতুন কোনো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে, কিন্তু সেটা ব্যবহারের পরেই দেখলেন স্কিন অনেক বেশি পিম্পলে ভরে গেছে। এর মানে হচ্ছে- আপনি যে প্রোডাক্টটি আপনার পিম্পলকে দূর করতে ব্যবহার করলেন, সেটা আসলেই কাজ করছে। আপনার স্কিনের ভেতরে থাকা ইনফ্লেমেশনগুলোকে সেই প্রোডাক্টটি স্কিনের সারফেস লেভেলে পাঠিয়ে দেয়। তাই এগুলো পিম্পল হয়ে আপনার স্কিনের সারফেসে আসে এবং আপনার স্কিনে ধীরে ধীরে ইম্প্রুভমেন্ট দেখা দেয় এবং নতুন পিম্পল হওয়া রোধ করে। আর এটাই স্কিন পার্জিং এর প্রধান কারণ।

স্কিন পার্জিং কীভাবে হয়?

আগেই বলেছি, যখন স্কিনে নতুন কোনো প্রোডাক্ট ইউজ করা হয় তখন স্কিন পার্জিং হতে দেখা যায়।দেখে মনে হতে পারে যে, প্রোডাক্টটি আপনার ত্বকে স্যুট করেনি বা ব্রেকআউট তৈরি করছে কিন্ত এতে থাকা উপাদানগুলো আসলে আপনার ত্বককে হিল করছে। যার বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে পিম্পল সৃষ্টি হওয়া। মূলত পিম্পলটি ইতিমধ্যেই সেখানে ছিল। এটি হয়তো আরো কয়েক সপ্তাহ পর আপনি দেখতে পেতেন। কিন্তু প্রোডাক্টটির কার্যকারিতার কারণে এটি সময়ের আগেই পপ-আপ হয়েছে।

রেটিনলের মতো কিছু উপাদান যখন আপনার ত্বকে কাজ করে তখন এটা স্কিনে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে আপনার পোরস থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না বরং আপনার ত্বককে ভেতর থেকে ক্লিন করা শুরু করে।যার ফলে ব্রণ সৃষ্টি হয় এবং আপনার স্কিন নিজেকে ক্লিয়ার করতে শুরু করে। এভাবেই মূলত স্কিন পার্জিং হয়ে থাকে।

এবার কথা বলি ব্রেকআউট নিয়ে।

ব্রেকআউট কী এবং কখন হয়?

অনেক সময় নতুন কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে স্কিনে ব্রেকআউট দেখা দিল কিন্তু স্কিনে কোনো ইমপ্রুভমেন্ট দেখা দিল না। সেক্ষেত্রে একে ব্রেকআউট বলা হয়। তাই আপনাকে আগে বুঝতে হবে আপনার সাথে কোনটা ঘটছে? স্কিন পার্জিং নাকি ব্রেকআউট!

কোনো কোনো প্রোডাক্টের সেনসিটিভিটির কারণে বা পোরস ব্লক হয়ে গেলে স্কিনে ইরিটেশন দেখা দেয়। সেটাই ব্রেকআউটের কারণ। আর ব্রেকআউট কিন্তু স্কিনকে হিল বা ইম্প্রুভ করেনা। অনেক সময় প্রোডাক্টটি ব্যবহার করা কন্টিনিউ করতে থাকলে স্কিন সেটার সাথে এডজাস্ট হয়ে গেলেও পরবর্তীতে স্কিনের ভীষণ রকম ক্ষতি হয়।?

পার্জিং নাকি ব্রেকআউট? কীভাবে বুঝবেন?

স্কিনে পার্জিং নাকি ব্রেকআউট হচ্ছে সেটা বোঝাটা একটু কঠিন। আপনি যখন নিজের স্কিন কেয়ার রুটিনে একটি নতুন প্রোডাক্ট এড করবেন তখন এটা মনে রাখা জরুরী  যে, সব রিয়েকশন কিন্তু স্কিন পার্জিং নয়।

অনেক সময় এমনও হতে পারে যে, আপনি যে প্রোডাক্টটি ব্যবহার করছেন তা আপনার ত্বকে ইরিটেশন সৃষ্টি করছে। যেমন- প্রোডাক্টটি  আপনার পোর ক্লগ করে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে পিম্পল বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এমনও হতে পারে একটি নতুন প্রোডাক্ট স্কিনে ব্যবহারের পরে আপনার ত্বকে ব্রেকআউট হয়ে যেতে পারে যেটা মোটেও স্কিন পার্জিং নয়। তা স্কিন পার্জিং এবং ব্রেকআউটের পার্থক্যগুলো বুঝতে হলে আপনাকে বেশ কয়েকটি জিনিস মনে রাখতে হবে। যেমন :

১. সময়কাল

স্কিন পার্জিং নাকি ব্রেকআউট সেটা বোঝার জন্য প্রথমে যেটি দেখতে হবে সেটা হলো ব্রেকআউটের সময়কাল।  স্কিন পার্জিং হলে পিম্পল নরমালের তুলনায় দ্রুত সৃষ্টি হয় এবং এটি ব্রেকআউটের চেয়ে অনেক দ্রুত নিরাময় হয়ে যায়। আপনি যদি এমন  নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করেন এবং এটার ব্রেকআউট এর সময়কাল ৪-৬ সপ্তাহের বেশী থাকে এবং স্কিনে কোনো ইম্প্রুভমেন্ট দেখা যায় না, তবে এটা স্কিন পার্জিং এর মধ্যে পড়বে না। বরং এটি আপনার স্কিনকে আরো বাজে করে দিতে পারে।

২. স্থান

স্কিন পার্জিং হলে ত্বকে পিম্পলগুলো এমন জায়গায় হয় যেখানে আপনার সচারাচর পিম্পল হয়ে থাকে। যদি নতুন কোনো স্থানে পিম্পল দেখা দেয় তবে সম্ভাবত সেটা স্কিন পার্জিং নয়।

৩. একটিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস

স্কিন পার্জিং নাকি ব্রেকআউট সেটা নির্ধারণ করার জন্য আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, আপনি যে প্রোডাক্টি আপনার ত্বকে প্রয়োগ করছেন তার একটিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস।

রেটিনল, আলফা, বিটা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড, সালিসাইলিক অ্যাসিড এবং বেনজয়াইল পারক্সাইডের মতো একনে ফাইটিং ইনগ্রিডিয়েন্টস আপনার স্কিনকে এক্সফোলিয়েট করে। আরএই উপাদানগুলো ব্যবহারে থেকেই স্কিন ক্লিয়ার হতে শুরু করে।

তবে যদি আপনার স্কিনে হাইড্রেটিং অয়েল, সানস্ক্রিন বা পোর ক্লগিং ইনগ্রিডিয়েন্টস, মেকআপ ব্যবহার করে থাকেন তবে সেটাকে ব্রেকআউট বলা যায়।

স্কিন পার্জিং কিংবা ব্রেকআউট হলে কী করা উচিত?

স্কিন পার্জিং হলে কীভাবে সেটা ট্রিট করা যায় এই প্রশ্নের একটাই উত্তর- অপেক্ষা করা। স্কিন পার্জিং দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। স্কিন পার্জিং হোক বা ব্রেকআউট আপনার উচিত কিছু বেসিক টিপস ফলো করা। যেমন- আপনার বালিশের কভার পরিষ্কার রাখুন, পিম্পল খোঁটাখুঁটি করা বন্ধ করুন।  মনে রাখবেন, স্কিন পার্জিং আপনার স্কিনের জন্য একটি গুড সাইন। কেননা আপনার স্কিন কেয়ার কার্যকর হচ্ছে এবং সঠিকভাবে কাজ করছে। তাই ধৈর্য ধরুন। এক মাসের মধ্যে আপনার পিম্পল দূর হতে শুরু করবে।

আর যদি নতুন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টি ব্যবহারের ৪-৬ সপ্তাহ পরেও পিম্পল না কমে এবং স্কিনে কোনো ইম্প্রুভমেন্ট দেখা না যায় তবে সেই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়াই উত্তম।

এই তো জেনে নিলেন, স্কিন পার্জিং vs ব্রেকআউট সম্পর্কে। আশা করছি, আপনাদের কনফিউশন কিছুটা হলেও ক্লিয়ার করতে পেরেছি।

স্কিন ও হেয়ার কেয়ারের জন্য অথেনক্টিক প্রোডাক্ট কিনতে চাইলে আপনারা সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ ভিজিট করতে পারেন, যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত স্কয়ারে অবস্থিত। আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।

ছবি- সাটারস্টক

28 I like it
2 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...