দাগ ও সানট্যান কমিয়ে ব্রাইট স্কিন পেতে স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপ

দাগ ও সানট্যান কমিয়ে ব্রাইট স্কিন পেতে স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপ

3 (14)

স্কিন কেয়ারে সোপ বা সাবানের ব্যবহার চলে আসছে যুগ যুগ ধরেই। সোপ ব্যবহার করি না বা কখনই ব্যবহার করেন নি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়াটা একটু কঠিনই বটে। রিসেন্টলি স্যোসাল প্ল্যাটফর্ম গুলোতে অনেককেই রিবানা ব্র্যান্ড এর স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটির ব্যপারে খুব ভাল ভাল রিভিউ দিতে দেখেছি। আবার অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, এই সোপটি সত্যিই কি ব্রণের দাগ এবং সানট্যান দুর করে স্কিনকে ব্রাইট করে? প্রায় এক মাস ধরে এই সোপটি আমি ব্যবহার করছি। তাই মনে হল, দাগ এবং সানট্যান দুর করে স্কিনকে ব্রাইট করতে আসলেও এটি কতটা কার্যকরী তা আপনাদের সাথে শেয়ার করে ফেলি। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক, মোস্ট হাইপড এই রিবানা সোপটি নিয়ে আমার এক্সপেরিয়েন্স কেমন ছিল তা নিয়ে।

রিবানা ব্র্যান্ড নিয়ে প্রথমেই ছোট্ট করে কিছু কথা

রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটি নিয়ে রিভিউ দেয়ার আগে, এই রিবানা ব্র্যান্ড নিয়ে ছোট্ট করে কিছু কথা না বললেই না।

• আমাদের দেশের অন্যান্য অর্গানিক ব্র্যান্ড গুলোর মধ্যে রিবানা অন্যতম সেরা একটি ব্র্যান্ড। তাই যারা অর্গানিক প্রোডাক্ট প্রেফার করেন, তাদের জন্যে রিবানা নিঃসন্দেহে সেরা একটি চয়েজ।
• রিবানা ব্র্যান্ড দাবী করে, তাদের প্রতিটি প্রোডাক্ট ১০০% ন্যাচারাল ইনগ্র্যাডিয়েন্ট দিয়ে তৈরি।
• একদম হালাল প্রোডাক্ট এবং প্রিজারভেটিভ ফ্রি।

সোপটির প্যাকেজিং এবং দেখতে কেমন?

• রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটির প্যাকেজিং আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। একদম সিম্পল কিন্তু খুবই সুন্দর দেখতে। কালো রঙের একটি চারকোণা প্যাকেটে বাজারজাত করা হয় সোপটি।

• প্যাকেটটি খুলতেই ভিতর থেকে চারকোণা হলুদ এবং কমলার মিক্স রঙের একটি সোপ দেখতে পাবেন। এই সোপের সামনে এবং পিছনে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যাফরন দেয়া থাকে। এবং হলদে রঙের সোপটিতে স্যাফরন মিলে খুবই সুন্দর একটি কমলা রঙ এর মত লাগবে দেখতে।

• মজার ব্যপার হল, সোপটিতে কিন্তু আলাদা করে কোন ধরণের রঙ ব্যবহার করা হয় না। গোট’স মিল্ক এর সাথে স্যাফরন এক হয়ে এই সুন্দর রঙটি আসে।

সোপটি সব ধরণের স্কিন টাইপের জন্যে স্যুইটেবল!

যেকোন প্রোডাক্ট কেনার আগেই আমাদের মাথায় প্রথম যে কথাটি আসে তাহলো, এটি আমাকে স্যুট করবে তো! তাই না? তবে চিন্তার কোন কারণ নেই। রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটি অল টাইপ স্কিনের জন্যে তো স্যুইটেবল। পাশাপাশি, যাদের স্কিন সেনসিটিভ তারাও ব্যবহার করতে পারবেন প্রতিদিন নিশ্চিন্তে। আমার স্কিন অয়েলি এবং কিছুটা সেনসিটিভ। কিন্তু এই সোপটি আমাদের স্কিনের সাথে একদম মানিয়ে গেছে। কোন রকম ইচিং এর সমস্যাতো হয়নি-ই, উল্টো আমার কাছে আরও সুদিং ফিল হয়েছে।

ড্রাই স্কিন যাদের, তাদের জন্যে ছোট্ট একটি সাজেশন

আগেই বলেছি, আমার স্কিন টাইপ অয়েলি এবং কিছুটা সেনসিটিভ। তাই, সোপটি ব্যবহারের পর আমার স্কিন একদমই ড্রাই বা শুষ্ক ফিল হয়নি। বরং আরও স্মুথ ফিল হয়েছে। তবে, যাদের ড্রাই স্কিন টাইপ তাদের যদি সোপটি ব্যবহারের পর স্কিন আরও ড্রাই হয়ে গেছে মনে হয় তবে অবশ্যই চেষ্টা করবেন, সোপটি ব্যবহার করার পর পরই ভাল কোয়ালিটির একটি টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে।

• টোনার আমাদের স্কিনের পি এইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে এবং স্কিন কে জেন্টালি এক্সফলিয়েট করে, এতে স্কিন ফ্রেশ ও ক্লিন দেখায়।
ময়েশ্চারাইজার স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখতে হেল্প করে।

সোপটির স্মেল কেমন?

রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটির স্মেল এক কথায় অসাধারণ! আমরা অনেকেই ডেজার্ট আইটেম রান্না করার সময় যখন দুধের সাথে স্যাফরন ব্যবহার করি, তখন যেমন একটি মিষ্টি সুন্দর মনকাড়া স্মেল নাকে আসে ঠিক তেমন একটি স্মেল পাবেন এই সোপটি থেকেও। আর যারা স্যাফরন এর চা খেতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে এক কথায় এটি অসাধারণ মনে হবে।

সোপটিতে কী কী ইনগ্র্যাডিয়েন্টস ব্যবহার করা হয়েছে?

নাম শুনেই বুঝা যাচ্ছে, রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটির মেইন দুটি ইনগ্র্যাডিয়েন্টস-ই হল,
• স্যাফরন এবং
• গোট’স মিল্ক।
কিন্তু এছাড়াও এতে আরও বেশ কিছু ইনগ্র্যাডিয়েন্টস ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন,
• স্যাফরন অয়েল
• অলিভ অয়েল
• আমন্ড অয়েল ( সুইট)
• ক্যাস্টর অয়েল
• কোকোনাট অয়েল
• এসেনশিয়াল অয়েল
• হিমালয়া পিংক সল্ট
• অ্যাকোয়া এবং
• হানি বা মধুর মত কার্যকরী সব উপাদান।

স্কিনের যত্নে স্যাফরন এর বেনিফিটসগুলো কী কী?

১) স্যাফরন আমাদের স্কিনের উজ্জ্বলতাকে ফিরিয়ে আনতে এবং লম্বা সময়ের জন্যে ধরে রাখতে হেল্প করে।
২) আমাদের অনেকের স্কিনেই সানট্যান বা রোদে পোড়ার সমস্যা রয়েছে। স্যাফরন আমাদের স্কিনের কালচে এমন সব দাগ কমিয়ে আনতে হেল্প করে।
৩) আমাদের অনেকেরই মুখে ব্রণের সমস্যা রয়েছে। ব্রণ কমে গেলেও অনেক দিন পর্যন্ত ব্রণের কালচে দাগ থেকে যায়। স্যাফরন আমাদের মুখের এমন কালচে দাগ দূর করতে পারে।
৪) জাফরান-এ এক ধরণের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপারটিজ রয়েছে, যা আমাদের মুখের ইচিং বা জ্বালা-পোড়ার সমস্যা দুর করে স্কিনে একটি সুদিং এবং রিফ্রেশিং ফিল এনে দিতে সাহায্য করে।

স্কিনের যত্নে গোট’স মিল্ক এর বেনিফিটসগুলো কী কী?

রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটির আরেকটি মেইন ইনগ্র্যাডিয়েন্ট হল, গোট’স মিল্ক বা ছাগলের দুধ। গোট’স মিল্ক-এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড যা আমাদের স্কিনের জন্যে ভীষণ উপকারী। যেমন,

১) এটি আমাদের স্কিনকে ন্যাচারালি নারিশড রাখতে হেল্প করে।
২) আমাদের স্কিনের যে বাইরের লেয়ার থাকে, তাকে রিপেয়ার করতে হেল্প করে।
৩) এর পাশাপাশি আমাদের স্কিনের ন্যাচারাল গ্লো বা উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
৪) এছাড়াও গোট’স মিল্ক এ থাকা ভিটামিন-এ আমাদের স্কিনকে টান টান দেখাতে হেল্প করে। অর্থাৎ এটি আমাদের স্কিনে অ্যান্টি এজিং এরও কাজ করে থাকে।

পাশাপাশি রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপে থাকা, স্যাফরন অয়েল, অলিভ অয়েল, সুইট আমন্ড অয়েল, হিমালয়া পিংক সল্ট এবং হানি বা মধু আমাদের স্কিনকে ময়েশ্চারাইজড রাখার পাশাপাশি স্কিনকে সুদিং করতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে।

সোপটি ব্যবহার করে আমার অভিজ্ঞতা

রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটি আমি দ্বিতীয়বারের মত কিনে ব্যবহার করছি। সত্যি বলতে সোপটি আমার এত বেশি ভালো লাগার পিছনে বিশেষ কারণগুলো হল,

১) স্কিন কেয়ারে স্যাফরন আমার খুবই পছন্দের একটি ইনগ্র্যাডিয়েন্ট।
২) আমার সেনসিটিভ স্কিন হওয়া সত্যেও এটি ব্যবহারে আমার স্কিনে একটি সুদিং এবং ফ্রেশ ফিল এনে দেয়।
৩) আমার মুখে আগের থেকে যাওয়া ব্রণের কালচে কিছু দাগ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে।
৪) আমার স্কিনে স্পেশালি হাত পায়ের কালচে কিছু দাগও কমে এসেছে।
৫) মুখে সুন্দর একটি ন্যাচারাল গ্লো এসেছে।
৬) এছাড়াও আমার কাছে মনে হয়েছে, দাম অনুযায়ী এটি বেশ কিছুদিন নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
৭) এর স্মেলটিও আমার খুবই পছন্দ।
৮) ব্যবহারের সময় খুব সুন্দর ফেনা হয়।
৯) স্কিনকে ওভার ড্রাই করেনা। পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজড রাখতে হেল্প করে।
১০) ব্যবহারের অনেকক্ষণ পর পর্যন্তও স্কিনের গ্লোয়িং ইফেক্টটা থেকে যায়।

তাই আমি বলতে পারি, আসলেও আমি এটি ব্যবহার করে দারুণ কিছু বেনিফিটস পেয়েছি। এবং রিবানা ব্র্যান্ডের ক্লেইম অনুযায়ী এই সোপটি সত্যি-ই মুখে থাকা ব্রণের দাগ এবং সানট্যান দুর করে স্কিনকে ব্রাইট করতে ম্যাজিকের মত কাজ করে। তবে আমার মনে হয়েছে, এটি একবার ব্যবহার করে ছেড়ে দিলে তেমন একটা ভাল রেজাল্ট আসবেনা। ভাল রেজাল্টের জন্যে বেশ কিছুদিন ব্যবহার করতে হবে।

আমি যেভাবে ব্যবহার করি

এটি ব্যবহারের জন্যে তেমন আলাদা কোন নিয়ম কানুন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আপনি যেই ফেইসওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করেন তার পরিবর্তে এই সোপটি ব্যবহার করতে পারবেন।

• মুখের মধ্যে লাগিয়ে দুই হাত দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট জেন্টলি মাস্যাজ করবেন।
• এর পর ঠাণ্ডা অথবা একদম হালকা কুসুম পানি দিয়ে ফেইস বা স্কিনকে ক্লিন করে নিবেন।
• সবশেষে, স্কিন টাইপ অনুযায়ী একটি ভাল ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিবেন। ব্যাস! এতটুকুই।

যাদের শরীরের কোথাও কোথাও কালচে দাগ রয়েছে তারাও সে সব জায়গায় ঠিক একই ভাবে সোপটি ব্যবহার করতে পারেন। তার মানে এই না যে, পুরো শরীরে ব্যবহার করতে পারবেন না! চাইলে পুরো শরীরে ব্যবহার করতে পারবেন ইচ্ছা অনুযায়ী।

স্কিন কেয়ারের অন্যান্য প্রোডাক্ট সিলেক্ট করার বেলায় আমরা যতটা কনসার্ন থাকি সোপ কেনার সময় কি আসলেও ততটা মাথা খাঁটাই? না কিন্তু! কেমন হয়, যদি একটি সোপ ব্যবহার করেই ব্রণের দাগ এবং সানট্যান দুর করার মত কঠিন সব সমস্যার সমাধান মিলে? পাশাপাশি স্কিনকে ব্রাইটতো করছেই! এছাড়াও যাদের কমপ্লেইন থাকে, “আমার স্কিন সেনসিটিভ, কোন প্রোডাক্টই ব্যবহার করে শান্তি পাইনা”- তাদের জন্যেও এটি হবে একদম স্যুইটেবল এবং দারুণ একটি চয়েজ। তাই যারা অনেকদিন ধরেই রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটির ব্যাপারে শুনছেন অথবা কিনবেন কিনবেন ভাবছেন, তারা এখনই নিশ্চিন্তে কিনে ফেলতে পারেন এটি। আশা করছি আমার মত আপনাদেরও খুবই পছন্দ হবে সোপটি।

রিবানা স্যাফরন গোট’স মিল্ক সোপটি পেয়ে যাবেন শপ.সাজগোজ.কমে। এছাড়াও আমাদের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ভিজিট করলেই দেখে নিতে পারবেন আরও কী কী প্রোডাক্ট আছে! আর আউটলেট তো রয়েছেই যমুনা ফিউচার পার্ক আর সীমান্ত সম্ভারে। আপনি চাইলে অনলাইন বা শপ থেকে প্রোডাক্ট পারচেস করতে পারবেন।

ছবি- সাজগোজ

23 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...