প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল উইথ রুট অ্যাপ্লাইয়ার - Shajgoj প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল উইথ রুট অ্যাপ্লাইয়ার - Shajgoj

প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল উইথ রুট অ্যাপ্লাইয়ার

মার্চ ১৪, ২০১৮

আজকে আমি লিখতে যাচ্ছি আমাদের খুব চেনা একটি নারিকেল তেলের ব্যাপারে। বাংলাদেশের শহর, গ্রাম-গঞ্জের ঘরে ঘরে পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত তেলটি হল প্যারাসুট। কিন্তু আমার আজকের রিভিউ হল চেনা এই তেলের নতুন এক সংযোজন ‘রুট অ্যাপ্লাইয়ার’-এর উপরে। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েলের সাথে এখন রুট অ্যাপ্লাইয়ার দেয়া হচ্ছে যার সাহায্যে অনেক সহজেই মাথায় তেল দেয়া যাবে এখন থেকে।

প্রথমত, আমি চাকরি করি। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন তেল দেয়ার সময় পাই না। সপ্তাহে ১বার অথবা বড়জোর ২বার দিতে পারি। আমার হেয়ারফল হয়। রাত জাগা, স্ট্রেস আর জার্নির কারণে ইদানিং প্রচুর চুল পড়ে যাচ্ছে। এজন্য আমার কি করা উচিত তা আমি ভাল করেই জানি, তবু করা হচ্ছে না। প্রায়ই ভাবি যে কাল সময় নিয়ে খুব ভালভাবে তেল দিব। নারিকেল তেলে মেথি, আমলকী, অ্যালোভেরা মিশিয়ে রাখব আগের রাতে, এরপর সুন্দর করে মাথার তালুতে বিলি কেটে তেল ম্যাসাজ করে লাগাবো। আমি খুব ভাল করেই জানি যে শুধু নারিকেল তেল চুলের আগায় লাগিয়ে কয়েক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললে কোন লাভ হয় না। তবুও ভালভাবে সঠিক নিয়মে চুলে তেল দেয়ার সময় কোথায়? মাথার ত্বক আর চুলের গোড়া মজবুত রাখার জন্য মিনিমাম যত্নটুকু করার সুযোগ পাই না। আমার মত আমার চাকরিজীবী মা আর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বোনেরও একই সমস্যা। ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগানোর ব্যবস্থা করতে পারছি না। এরপর জানতে পারলাম এই তেলের কথা। তেলের অ্যাড দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি এটা ট্রাই করে দেখতেই হবে। এরপর সময় করে কিনেই ফেললাম। কারণ এই তেলের সাথে পাওয়া আপ্লাইয়ারের সাহায্যে আমি একা একাই পুরো মাথা জুড়ে প্রতিটা চুলের গোরায় তেল লাগাতে পারছি।

প্যাকেজিং

প্রথমেই আসছি প্যাকেজিং এর ব্যাপারে। তেলের প্যাকেটেই ছবিসহ নতুন রুট আপ্লাইয়ার ব্যবহারের নিয়মাবলি দেয়া আছে। এবং এটার প্যাকেটের সাইজ আগের থেকে বড় করা হয়েছে।

ব্যবহারের নিয়ম

এই অ্যাপ্লাইয়ার দেখতে অনেকটা চিরুনির মত। চিরুনির মত এতে কাঁটা আছে যার মাথায় ছোট ছোট ছিদ্র করা। তেলের বোতলের স্টপার খুলে রুট আপ্লাইয়ার ঘুরিয়ে বোতলের মুখে আটকাতে হবে। এরপর বোতল দিয়েই সরাসরি এটা মাথায় আপ্লাই করা যায়।

সুবিধাসমুহ

এই তেলে আছে মেথি, আমলকী আর অ্যালোভেরা। মেথির গুণাগুণ আমরা ছোটবেলা থেকেই সবাই জানি। মেথি চুলে পুষ্টি যোগায় ও চুল পড়া কমায়। আমলকি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং এতে চুল পড়া কমে। আর অ্যালোভেরা চুলকে অসম্ভব মসৃণ করে। আমি যখন ছাত্রী ছিলাম, তখন প্রায়ই শ্যাম্পু করার আগে চুলে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে রাখতাম। কারন এতে শ্যাম্পু করার পর চুল অসম্ভব সিল্কি আর মসৃণ থাকে। এতদিন সময়ের অভাবে তা করা হয়ে উঠছিল না। বাট এই তেলে অ্যালোভেরা মিক্স করা আছে, এটাও আমার এই তেল কেনার পেছনে আরেকটা কারণ। এক ঢিলে দুই পাখি মারতে কে না চায় বলুন?

এবার আসি রুট আপ্লাইয়ারের কথায়, সত্যি বলতে এই রুট আপ্লাইয়ার আমার চুলের যত্নের প্রসেসকে অনেক অনেক ইজি করে দিয়েছে। এত সহজে এখন চুলে তেল আপ্লাই করা যায় যে ৩০ মিনিটের কাজ এখন ৩ মিনিটেই করে ফেলি। এই চিরুনির মত আপ্লাইয়ারের সাহায্যে চুলের গোড়ায় তেল দিয়ে আমি হালকা হাতে কিছুক্ষণ আঙ্গুল দিয়ে ম্যাসাজ করি। এতে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চুল মজবুত থাকে। সপ্তাহে আগে যেখানে ১বার তেল দেয়াই ঝামেলা মনে হত, এখন ৩/৪বার তেল দেই এবং কয়েক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলি।

আমার রিভিউ

পারসোনালি আমি এই তেল ব্যবহার করে বেশ উপকার পেয়েছি। আমার চুল পরা অনেকটা কমে গিয়েছে। আগের মত চিরুনি ভরে চুল উঠে আসে না। আমার মনে হয় পর্যাপ্ত ঘুম আর পানি খাওয়ার পাশাপাশি প্যারাসুটের এক্সট্রা কেয়ার তেল ব্যবহারের জন্যই আমার হেয়ারফলের সমস্যা অনেক কমে গিয়েছে। এই তেলের মেথি আর আমলকী আমার চুলকে স্ট্রং করেছে আর অ্যালোভেরা আমার চুলে শাইন ফিরিয়ে এনেছে। অ্যাপ্লাইয়ার থাকায় আমি সপ্তাহে ৩/৪বার তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারছি।

রেকমেন্ডেশন

আমি অবশ্যই প্যারাসুটের এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল ইউজ করা রেকমেন্ড করব। স্পেশালি যারা আমার মত রেগুলার চুলে তেল দিতে ঝামেলা বোধ করেন অথবা যাদের হেয়ারফল হচ্ছে। আমার মনে হয় আপনাদের যদি ফিজিকাল কোন সমস্যা না থাকে, প্রতিদিন ৭ ঘন্টা ঘুমান আর ৭/৮ গ্লাস পানি পান করেন এবং পাশাপাশি এই তেল ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাদের হেয়ারফলের সমস্যা থাকবে না। স্ট্রেস ফ্রী মন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং হেলদি ডায়েট সুস্থ চুলের জন্য সবচেয়ে জরুরী। সাথে যদি থাকে চুলের প্রতি একটু এক্সট্রা কেয়ার, তাহলেই চুল পড়ার সমস্যা থাকবে না।

 

লিখেছেন ঃ ফারহানা হক অনি