স্কিন কেয়ার রুটিনের ক্লিঞ্জিং হিরো M & KAORUCO ক্লিঞ্জিং অয়েল! - Shajgoj স্কিন কেয়ার রুটিনের ক্লিঞ্জিং হিরো M & KAORUCO ক্লিঞ্জিং অয়েল! - Shajgoj

স্কিন কেয়ার রুটিনের ক্লিঞ্জিং হিরো M & KAORUCO ক্লিঞ্জিং অয়েল!

জুন ১১, ২০১৬

খুব কম নারীরাই জানেন যে শুধু মেকাপ করলেই নয়, রোজ সানস্ক্রিন ইউজ করলে প্রতিবার বাইরে থেকে ফিরে এসে মেকাপ রিমুভার/ ক্লিঞ্জিং অয়েল দিয়ে সানস্ক্রিন রিমুভ করতে হয়। আর অনেকে তো বিবি / সিসি ক্রিম ইউজ করেন কিন্তু কখনই স্কিন মেকাপ রিমুভার দিয়ে ক্লিন করেন না। ফলাফল, সানস্ক্রিন আর সাধারণ বিবি ক্রিমেও মুখ ভর্তি করে ব্রণ ওঠা। আর ব্রণের ভয়ে অনেকে সানস্ক্রিন ইউজ করা ছেড়েই দেন আর নিজের আরও বড় ক্ষতি করেন।

তো আজ আপনাদের বলব, ডাবল ক্লিঞ্জিং কী? আপনি ডাবল ক্লিঞ্জিং কেন করবেন, আর তার ফাঁকে এই মুহূর্তে আমার স্কিনকেয়ার রুটিনের ক্লিঞ্জিং হিরো জাপানিজ M & KAORUCO ক্লিঞ্জিং অয়েলের সাথেও আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। পড়ে দেখুন, স্কিন কেয়ার রুটিনের এই ভুলগুলো আপনি করছেন কিনা এবং কীভাবে সেগুলো শোধরাবেন।

ডাবল ক্লিঞ্জিং কি?

অনেকে আছেন মেকাপ রিমুভিং বলতে বোঝেন শুধু একটা ওয়েট টিস্যু দিয়ে আই মেকাপ তুলে মুখে টিস্যুটা একবার বুলিয়ে নেয়া। অনেকে একটু আগ বাড়িয়ে তুলায় কিছু মেকাপ রিমুভার নিয়ে মুখটা ঠিকভাবে ক্লিন করার ট্রাই করেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। আর মেকাপ অথবা সানস্ক্রিন তোলার প্রতি এই অবহেলার জন্যই রোজ নিচের কমেন্টগুলো দেখি-

‘আপু, নিজের স্কিনে কোন সানস্ক্রিনই স্যুট করে না। কোন বিবি ক্রিম স্যুট করে না। যা দেই তাতেই ব্রণ হয়। কোনটা ভালো হবে??’

যখন এদের আস্ক করি, নিশ্চয়ই আপনার স্কিন অপরিষ্কার থাকে, না হলে তো এত প্রব্লেম হওয়ার কথা নয়। তখন মুখস্থ উত্তর শোনা যায়-

‘নাহ, আমি রোজ তিন বার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুই!!!’

   বেচারি জানতেনই না যে বিবি ক্রিম আর সানস্ক্রিন ও মেকাপ রিমুভার দিয়ে ডাবল ক্লিঞ্জ করতে হয়!!!

  তো ডাবল ক্লিঞ্জ হচ্ছে এই মুহূর্তে মেকাপ/ সানস্ক্রিন স্কিন থেকে পুরোপুরি দূর করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মুখ দুইবার পরিষ্কার করা হয়।

স্টেপ ১-

প্রথমে শুকনো মুখে ক্লিঞ্জিং অয়েল কয়েক পাম্প পরিমান লাগিয়ে নিতে হবে। আবারো বলছি , মুখ ভেজান যাবে না। মুখ শুকনো থাকবে। এবার ক্লিঞ্জিং অয়েল দিয়ে খুবই হালকা হাতে ফেসের মেকাপ আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে তুলে ফেলতে হবে। প্রথমে স্কিনে ম্যাসাজ করবেন। তার পর চোখের মেকাপ ম্যাসাজ করবেন। সবার শেষে ঠোঁটের লিপস্টিক ম্যাসাজ করে তুলে ফেলবেন। যদি দেখেন ক্লিঞ্জিং অয়েলে ম্যাসাজ ঠিক মত হচ্ছে না। স্কিনে টান পড়ছে অথবা চোখের ওয়াটারপ্রুফ মেকাপ উঠছে না। কোনভাবেই অযথা টানাটানি করবেন না। আরও কয়েক পাম্প ক্লিঞ্জিং অয়েল নিয়ে নেবেন। স্কিন যাতে ম্যাসাজ করার মত যথেষ্ট স্লিপারি হয়। এভাবে সর্বোচ্চ ২ মিনিট ম্যাসাজ করতে পারেন। এর বেশি না।

স্টেপ ২-

এবারে হাতে কয়েক ফোঁটা পানি নিয়ে নিন। এই কয়েকফোঁটা পানি স্কিনে লাগান। দেখবেন সাথে সাথে ক্লিঞ্জিং অয়েল ইমালসিফাই হয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। এভাবে একটু একটু পানি নিয়ে স্কিনে আরও ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। একবারে অনেক বেশি পানি দিলে স্কিন ক্লিন হবে না। ২ মিনিট পরে দেখবেন সবটুকু ক্লিঞ্জিং অয়েল ইমালসিফাই হয়ে গেছে। স্কিনে আর কোন তেল লেগে নেই। এবারে পানির ঝাঁপটা দিয়ে সাদা ইমালসিফাইড অয়েল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার মেকাপ/ বিবি ক্রিম/ সানস্ক্রিনের ঝাড়বংশ দূর হয়ে গেছে।

স্টেপ ৩-

এবার আপনার রেগুলার ফেসওয়াশ দিয়ে দ্বিতীয়বার স্কিন ক্লিন করুন। আর এই যে দুই বার আপনি আপনার মুখ ধুলেন, এই জন্যই এই ক্লিঞ্জিং পদ্ধতিকে ডাবল ক্লিঞ্জিং বলে।

      দেখলেন, সঠিকভাবে মেকাপ / সানস্ক্রিন ক্লিন কতো নিখুতভাবে করতে হয়? এখন নিজের ক্লিঞ্জিং রুটিনের সাথে মিলিয়ে দেখে বলুন তো, কেন আপনি যাই ইউজ করেন তাতেই আপনার ব্রণ হয়???

উত্তরটা কি পেয়েছেন?

ওকে, এবারে আসি জাপানিজ ব্র্যান্ড M & KAORUCO-র ক্লিঞ্জিং অয়েলের কথায়। জানেন? প্রথম ক্লিঞ্জিং অয়েল  করেছিলান একজন জাপানিজ মেকাপ আর্টিস্ট? কারন মেকাপ রিমুভার আর টিস্যু দিয়ে তার ক্লায়েন্টদের মেকাপ তো দূর হতই না। উল্টো এত টানাটানিতে তাদের স্কিনে রিঙ্কেল পড়ে যেত। তাই বলাই বাহুল্য এখনও বেস্ট ক্লিঞ্জিং অয়েলগুলো জাপান আর কোরিয়া থেকেই বের হয়।

প্রাপ্তিস্থল

সাজগোজ শপ-এর রাইফেলস স্কোয়ার আর যমুনা ফিউচার পার্ক-এর দুই শাখাতেই অ্যাভেলেবল আছে দেখলাম। এখান থেকে নিতে পারেন। ৮০ মিলি-এর দাম পড়বে ১৪০০/- টাকা।

আমার অভিজ্ঞতা

গত ১ মাস ধরে প্রতিদিন আমি এটা ডেইলি মেকাপ ও সানস্ক্রিন ক্লিন করতে ইউজ করছি। নিচের ছবিতে দেখুন, আমার হাতে এই ছবিতে মেবেলিন ২৪ আওয়ার কলোসাল কাজল আর মেবেলিন ওয়াটার প্রুফ মাশকারা লাগানো আছে। তার নিচে আছে ফাউন্ডেশন ।

M & KAORUCO 1

এর উপরে আমি এক পাম্প ক্লিঞ্জিং অয়েল নিয়েছি এবং ম্যাসাজ করেছি।

M & KAORUCO 2

ম্যাসাজ করার পরে সব মেকআপই অয়েলের সাথে মিশে উঠে গেছে। এবার পানি দিয়ে ইমালসিফাই করার পালা,

M & KAORUCO 3

দেখছেন?? এভাবেই সাদা হয়ে ইমালসিফাইড হবে অয়েলটা আর স্কিনে এক ফোঁটাও তৈলাক্ত ভাব অথবা মেকাপ থাকবে না। দেখি হাত ধোয়ার পরের অবস্থা-

M & KAORUCO 4

সব মেকাপ গন…!!!

অনেকেই আছেন আপনাদের মধ্যে ওয়াটার প্রুফ কাজল/ মাশকারা ক্লিন করতে পারেন না ঠিক মত। আর দিনের পর দিন মুখে এই বাসি মেকাপ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। অথবা মেকাপ ক্লিন করার চক্করে তুলা/ টিস্যু দিয়ে স্কিনে এমন ঘষাঘষি করেন যে খুব কম বয়সেই চোখের চারপাশে বলিরেখা পড়ে যায়।

   আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ঘষাঘষির হাত থেকে বাঁচতেই ক্লিঞ্জিং অয়েল ইউজ করি। টিস্যু আর মেকাপ রিমুভার ছুঁয়েও দেখি না। ক্লিঞ্জিং অয়েলই আজ পর্যন্ত আমার ইউজ করা সবচেয়ে কার্যকরী এবং মাইল্ড মেকাপ রিমুভার।

   এর আগে আমি কোরিয়ান স্কিনফুড , আর দ্যা বডি শপের ক্যামোমাইল ক্লিঞ্জিং অয়েল ইউজ করেছি। তার সঙ্গে তুলনা করে M & KAORUCO ক্লিঞ্জিং অয়েলের যে পয়েন্টগুলো না বললেই নয়-

–   ভালো ক্লিঞ্জিং অয়েল ফর্মুলা পানিতে সম্পূর্ণভাবে ইমালসিফাইড হয় এবং স্কিনে কোন তেলতেলে ভাব রাখে না। কিন্তু বডি শপ ক্লিঞ্জিং অয়েল কখনই পুরোপুরি পানিতে ইমালসিফাই হত না। যে কারণে আমি আমার একনে প্রন তৈলাক্ত স্কিনে ওটা ইউজ করতে ভয় পেতাম। কিন্তু M & KAORUCO ক্লিঞ্জিং অয়েল পানির সংস্পর্শে পুরোপুরি ধুয়ে যায়। কোন অয়েলি রেসিডিউ থাকে না। এই জন্যই আমি এটা একদম প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে কোন ভয় ছাড়া ইউজ করেছি।

–   M & KAORUCO ব্র্যান্ডের উপাদান লিস্ট অসম্ভব ক্লিন। কোন অজথা পারফিউম, রঙ অথবা ভারি তেল এরা ইউজ করে না। স্কিনফুডের ক্লিঞ্জিং অয়েলের অসম্ভব কড়া আর্টিফিশিয়াল পারফিউম (অনেকটা ডিশ ওয়াশারের মত ছিল ঘ্রানটা… এতটাই কড়া!!)  যেখানে আমার একেবারেই ভালো লাগত না। সুতরাং, আমি বলতে পারি যারা আর্টিফিশিয়াল পারফিউম এবং কালারে অ্যালার্জিক তারা কোন টেনশন ছাড়া এই ক্লিঞ্জিং অয়েল ইউজ করতে পারেন।

–   এটা যে ওয়াটার প্রুফ কাজল, মাশকারা আর ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন খুব সহজে ক্লিন করতে পারে সেটা তো নিজের চোখেই দেখলেন।

–   দীর্ঘ এক মাসে এটা ছাড়া অন্য কোন নতুন প্রোডাক্ট আমি ইউজ করিনি। আর আমার স্কিনে কোন ব্রেকআউট হয়নি। সো, যাদের স্কিন খুবই একনে প্রন এবং স্কিন ঠিকভাবে ক্লিন না করার কারণে একনে প্রবলেম বেড়েই চলেছে, এবং এই যন্ত্রণায় সানস্ক্রিন পর্যন্ত ইউজ করতে পারছেন না। তারা ক্লিঞ্জিং অয়েল নিজের রুটিনে অ্যাড করে দেখতে পারেন পরিস্থিতির উন্নতি হয় কিনা।

–   মেইন উপাদান বলতে এই ক্লিঞ্জিং অয়েলে- মিনারেল অয়েল, রাইস ব্রান অয়েল, গ্রিন টি, ওয়াসাবি আর সাইট্রাস এক্সত্রাকট ইউজ করা হয়েছে। এগুলো যেকোনো স্কিনের জন্য খুবই লাইট হবে এবং স্কিনের পোর বন্ধ করবে না। আমি পারসনালি মুখের ত্বকে অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল এগুলো ইউজ করতে পারি না।  বেশি হেভি লাগে। এই অয়েলটা অত্যন্ত হালকা সে তুলনায়। সুতরাং অনেক অয়েলি স্কিন হলেও এটা ইউজ করলে স্কিনের পোর বন্ধ হবে না।

যে দিকটা ভালো লাগেনি-

জানি, মিনারেল অয়েল ছাড়া ক্লিঞ্জিং অয়েল ফর্মুলেটেড করা একটু মুশকিল। তারপরেও মিনারেল অয়েলের বদলে পুরোপুরি ন্যাচারাল অয়েল দিয়ে ফরমুলেট করা হলে এই ক্লিঞ্জিং অয়েল আমার কাছ থেকে দশে দশ রেটিং পেত।

আমার রেটিং-

অসম্ভব হালকা আর পুরোপুরি ইমালসিফাই হওয়া এই ক্লিঞ্জিং অয়েল তার ক্লিন এবং পিওর উপাদানগুলোর জন্য পাবে – ৯/১০।

মিনারেল অয়েলের জন্য এক মার্ক কাটা।

সত্যি এটা বডি শপ ক্যামোমাইল ক্লিঞ্জিং অয়েল থেকে অনেক ভালো মনে হয়েছে আমার কাছে। হয়ত আমার স্কিন অনেক বেশি অয়েলি বলেই বডি শপ ক্লিঞ্জিং অয়েল থেকে M & KAORUCO স্কিনে ভালো স্যুট করেছে।

লিখেছেন – জান্নাত