আপনিও কি আমারই মতো? পুরোনো কোনকিছুর মায়া ছাড়তে পারেন না! আমার বাসায় এমন অনেক জিনিস আছে পুরোনো যা আমি ফেলি না কারণ প্রতিটা জিনিসই আমার অনেক বেশি পছন্দের। সব জিনিসের সাথেই জড়িয়ে আছে কোন না কোন স্মৃতি। আর প্রতিটা জিনিসই এক এক করে গড়ে তোলা। কিন্তু এই মায়া যদি উল্টা ক্ষতির কারণ হয় তবে সেই মায়া ধরে রাখা কি উচিত? এমনি প্রশ্ন করেছিল একদিন আমাকে আমার এক বন্ধু। পরে ভেবে দেখলাম আসলেই তো। বাসায় পুরোনো সব জিনিসপত্রের জন্য দেখা যায় সবকিছু জ্যাম হয়ে থাকে। আর এতে করে মনও ফ্রেশ থাকে না। অগোছালো হয়ে থাকে সবকিছু। দরকারি কত কিছুই পাওয়া যায় না অনেক সময়।
যখন আমি বুঝতে পারলাম তখন থেকে যে জিনিসগুলো আমি ফেলে দেই অথবা অন্য কোন কাজে লাগাতে পারলে কাজে লাগাই। তারই একটি লিস্ট আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করছি। যেটা আসলে আপনারা মেনে চললেও আপনাদের বাড়িঘর থাকবে পরিষ্কার পরিছন্ন এবং ঝামেলামুক্ত। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক, কি সেই পুরোনো জিনিস যা আমাদের ঘরে রাখা উচিত না।
(১) পুরোনো কাপড়শুধু শুধু পুরোনো কাপড় ঘরে রেখে দিয়ে যদি নাই ব্যবহার করেন তবে এতে কি লাভ? তাই চেষ্টা করবেন ২ বছর আগের কাপড়গুলো ঘরে রেখে আলমারি জ্যাম না করে রাখার। সাধারণত ২ বছর আগের কাপড়গুলো তেমন পরা হয় না। এতে করে নতুন জামাকাপড় রাখতেও অসুবিধে হয়। এখন অনেক অনলাইনে পেইজের ব্যবস্থা আছে যেখানে পুরোনো জিনিসপত্র বিক্রি করা যায়। চাইলে আপনি সেখানে বিক্রি করে দিতে পারেন অথবা গরিব কোন মানুষকে দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে মানুষেরও উপকার হল।
[picture]
(২) জুয়েলারিমেয়েরা অনেকেই জুয়েলারি পুরোনো হয়ে গেলেও দেখা যায় স্টোর করে রাখে। অথচ সেগুলো যে পরে তা না। এই অভ্যাস বদলে ফেলুন। একটু ভেবে দেখুন এতে করে আপনারই সমস্যা। জানি অনেক সময়ই পছন্দের জিনিসগুলো পুরনো হলেও রেখে দিতে ইচ্ছে করে। জুয়েলারি পুরনো হলে তাও ইচ্ছে করলে বিক্রি করে দিতে পারেন অথবা ফেলে দিতে পারেন।
(৩)মেকাপ এবং পারফিউমমেকাপ এর যেই জিনিসগুলো অনেক বেশি পুরোনো হয়ে গেছে, ভেঙে গেছে অথবা যেকোন কারণেই হোক আপনি ব্যবহার করছেন না সেগুলো জমিয়ে না রেখে ফেলে দিন। এতে করে আপনার বিউটি ক্যাবিনেট এর জায়গাও বেড়ে গেল এবং আপনি মেকাপের নতুন জিনিস রাখার স্পেসটাও পেলেন।
(৪) পুরোনো ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসখুঁজে দেখুন আপনার বাসায় কোন ইলেক্ট্রোনিক্স গুলো কোন কাজে লাগছে না কিন্তু তাও ঘরের অনেকটা জায়গা দখল করে আছে। এরপর সেগুলো যদি নষ্ট থাকে তবে ফেলে দিন অথবা টোকাইদের দিয়ে দিন। আর ভালো হলে তাও যদি আপনার কাজে না লাগলে তবে সেগুলো বিক্রি করে দিতে পারেন কোন পেইজে।
(৫) নোটবুকআমিতো দেখা যায় নোটস ব্যবহার করি সেই স্কুল থেকে। আমি সবজায়গা থেকেই নোটস নিই সেটা হোক পড়ালেখা বিষয়ক কিংবা অফিসিয়াল কোন মিটিং এর। আপনিও যদি হোন আমারই মতো তবে নোট গুলোর কাজ শেষ হয়ে গেলে ফেলে দিতে ভুলবেন না যেন।
(৬) খাবারফ্রিজে দেখুন যে খাবারগুলো রাখা আছে আসলেই সেগুলো আপনি খাবেন কিনা অথবা দরকার কিনা। প্রতি সপ্তাহে কিংবা মাসে রুটিন করে এই কাজটি করুন। এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার ফেলে দিন। এতে করে আপনার খাবারের স্টক থাকবে পরিষ্কার।
(৭) পুরোনো ম্যাগাজিনআমরা অনেকেই ম্যাগাজিন পড়তে পছন্দ করি। আমি নিজেও ম্যাগাজিন পড়তে ভালোবাসি। তবে খুব কমই এমন হয় যে একই ম্যাগাজিন দ্বিতীয় বার পড়া হয়। তাই ম্যাগাজিন গুলো ঘরে না জমিয়ে রাখাই ভালো। তবে ম্যাগাজিনের কোন আর্টিকেল আপনার যদি খুব বেশি ভালো লাগে তবে তা কম্পিউটারে স্ক্যান করে সেভ করে রাখতে পারেন। অথবা শিক্ষণীয় কিছু থাকলে আপনি তা ডোনেট করে দিতে পারেন বিভিন্ন সংস্থায়। যেমন লাইব্রেরি, চাইল্ড কেয়ার সেন্টার কিংবা ডাক্তারের অফিসে। এতে করে আপনি ভালো কোন কাজের একটা অংশও হলেন।
(৮) বইএকটু সময় করে, আপনার বুক সেলফ চেক করে দেখুন তো সেখানের কোন বইগুলো আপনি মাসেও একবার ধরে দেখেন না কিংবা আপনি একবার পড়ে ফেলেছেন আর পড়বেন না। এমন বইগুলো হয়ত বিক্রি করে দেন নয়তো কোথাও ডোনেট করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এতে করে মানুষও উপকৃত হতে পারে।
(৯) ঔষধআমাদের সকলের বাসায়ই কম বেশি ঔষধ থাকে। কিন্তু কতদিন পর পর সেগুলো অবশ্যই চেক করে দেখুন যে ঔষধগুলো আসলেও কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করার উপযুক্ত। যদি পুরোনো থাকে তবে অবশ্যই তা ফেলে দিবেন। কারণ এগুলো বাসায় রাখা বিপদজনক। ব্যবহারের তারিখ না দেখেই কেউ ব্যবহার করতে পারে।
(১০) রশিদ, বিল কিংবা ডকুমেন্টআমরা অনেকেই জিনিসপত্র কেনার পর রশিদটা রেখে দেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। যদি ক্রয়কৃত জিনিসটি ফেরত না দেয়ার ইচ্ছা থাকে তবে রশিদগুলো ফেলে দিন। কিছু রশিদ থাকতে পারে দরকারি শুধুমাত্র সেগুলোই সংরক্ষণ করুন। এসব টিপস বিল কিংবা ডকুমেন্টের ক্ষেত্রেও।
সুতরাং অপ্রয়োজনীয় জিনিস বর্জন করুন নিজের ঘরকে রাখুন পরিষ্কার পরিছন্ন। নিজেও থাকুন ফ্রেশ।
“ পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে জানান আগমন।
লিখেছেন – আনিন্তা আফসানা







