SHAJGOJ
SHAJGOJ

Press Enter to search

চুল থাকুক পরম যত্নে...

চুল থাকুক পরম যত্নে...

মাথাভর্তি সুন্দর ঘন কালো চুল কে না চায়। সেই চুল যদি পড়া শুরু করে তাহলে আসলেই চিন্তার ব্যাপার। চুল পড়া বন্ধে সবচেয়ে কার্যকরী ঘরোয়া উপাদান কি? তেলের সাথে অনেক কিছু মিশিয়ে লাগিয়েছি কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। কি করলে আমার চুল পড়া বন্ধ হবে? সাথে হারিয়ে যাওয়া চুল ফিরে পাবো? মানে নতুন চুল গজাবে? চুল নিয়ে এই প্রশ্নগুলো খুবই শোনা যায়। এমন প্রশ্ন কারো মনে আসে নি বা কাউকে করেন নি এই ধরনের মানুষ মনে হয় খুব কমই আছেন। আমি নিজেই চুলের সমস্যায় পড়ে এমন প্রশ্ন অনেকজনকেই করেছি। সত্যি বলতে কি, ছোট থেকেই আমি বড় হয়েছি সবার মুখে আমার চুলের প্রশংসা শুনে। আমার চুল অনেক ঘন ও লম্বা ছিল। আর এই ঘন কালো চুলের সম্পূর্ণ অবদান ছিল আমার মায়ের। কিন্তু হোস্টেলে আসার পর থেকে চুলের অবস্থা খুব খারাপ হওয়া শুরু হলো। অসম্ভব রকমের চুল পড়া শুরু হলো।

[picture]

গল্পটা শুরু থেকেই বলি। আমার চুলের তেল আমার মা নিজের হাতে বানাতো। শুধু তেল না, এর সাথে মেশানো হতো নানারকম ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদান। তখন এতো কিছু খেয়াল করতাম না। পরে চুলের অবস্থা খারাপ হওয়ার পর মার কাছে জানতে চাইলাম, মা নারিকেল তেলের সাথে আর কি কি মেশাতো। মা বললো তেলের সাথে মেথি, আমলকী ও অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে আমার চুলে লাগিয়ে দিত মা। বিশ্বাস করবেন না হয়তো, যতদিন মা যত্ন নিয়েছিল এই ঘরোয়া উপাদান দিয়ে ততদিন আসলেই নজরকাড়া সুন্দর ছিল আমার চুল। পরে দূরে চলে আসার পর নিজের এতো ধৈর্য্য ও সময় কোনটিই হয়নি। তখন অযত্নে চুলের স্বাস্থ্য খুব খারাপ হয়ে যায়। চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। চুল পড়তে পড়তে একদম পাতলা হয়ে গিয়েছিল। বাজারের নানারকম তেল ব্যবহার করেছি। উপরের সেই প্রশ্নগুলো যাকে পেতাম তাকেই করতাম। নানা জনের নানান টিপস নিয়েছি। কোন কিছুতেই কোন কাজ হয় নি। যা বুঝতে পারলাম মায়ের রেসিপিতে যে যাদু ছিল তা কোন তেলেই পাওয়া যাবে না। তাই আমি এমন কোন নারিকেল তেল খুঁজছিলাম যাতে নারিকেল তেলের সাথে সাথে মায়ের সেই ঘরোয়া উপাদান মেথি, আমলকি ও অ্যালোভেরার নির্যাস পাওয়া যাবে।

মজার ব্যাপার হলো এমন তেল আমার হাতের কাছেই ছিল। কিন্তু কখনও খেয়াল করি নি। শেষে মা-ই এনে দিল সেই তেল। প্যারাসুটের নতুন “প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল”। “এক্সট্রা কেয়ার” কথাটি নিশ্চয় খেয়াল করেছেন? অন্য নারিকেল তেলের চেয়ে এটি একটু ভিন্ন। এতে নারিকেল তেলের সাথে ঠিক সেই উপাদানগুলোই আছে যা দিয়ে মা আমার চুলের তেল বানিয়ে দিতেন- মেথি, আমলা ও অ্যালোভেরার নির্যাস। এই তেল ব্যবহারের পর থেকে আমি নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারছি। প্রায় এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আমার চুল আবার সেই পুরোনো সৌন্দর্য্য ফিরে পেয়েছে। চুল পড়া একদম বন্ধতো হয়েছেই সেই সাথে নতুন চুলও গজিয়েছে। এখন আর চুল ভেঙ্গে যায় না, চুলে জট থাকে না।

অনেকক্ষণ ধরেই বলছি আমার চুল পড়া বন্ধের নায়ক “নারিকেল তেল ও সাথে এই তিনটি হার্ব”। নিশ্চয় ভাবছেন, চুল পড়া বন্ধ করতে নারিকেল তেলের সাথে এই প্রাকৃতিক হার্ব মেশানো কেন কার্যকরী?

প্রথমেই বলি, চুলের গোঁড়া মজবুত ও চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে নারিকেল তেল অতুলনীয়। নারিকেল তেল গোসলের আগে প্রি-কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া এতে আছে ভিটামিন ই, কে, আয়রন ও মিনারেল। যা আপনার চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে করে গোঁড়া থেকে মজবুত, চুলের রুক্ষতা দূর করে চুলকে ময়েশ্চারাইজড করে। তাই চুলে তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমার প্রথম পছন্দ নারিকেল তেল। এই নারিকেল তেলের সাথে যখন বিভিন্ন ধরনের হার্ব মেশাবেন তখন নারিকেল তেলের পুষ্টি গুণাগুণ তো বাড়বেই, সাথে হার্বগুলোর পুষ্টিও এর সাথে একত্রিত হয়। মেথিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড, ভিটামিন এ, কে, সি ও মিনারেলস। এছাড়া আছে লেসিথিন যা চুলকে হাইড্রেটেড করে ও হেয়ার ফলিকলগুলোকে মজবুত করে। যার ফলে চুল পড়া বন্ধ হয় ও নতুন চুল গজায়।

আরেকটি উপাদান হলো আমলা। চুলের জন্য আমলা কতটুকু ভাল তা নিশ্চয় সবাই জানেন। যুগ যুগ ধরে আয়ুর্বেদিক চুলের যত্নে এই আমলা ব্যবহার হয়ে আসছে। আমলাতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, অ্যামাইনো এসিড, ফ্ল্যাভোনোইড ও ট্যানিন। যা অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করে, খুশকি দূর করে মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখে যার ফলে চুল হয় মজবুত ও চুল পড়া হয় বন্ধ।

শেষ উপাদানটি হলো অ্যালোভেরা। চুল থেকে শুরু করে ত্বকের যত্ন সবকিছুতেই এটি অনন্য। অ্যালোভেরার অসংখ্য গুণের মধ্যে চুলের ক্ষেত্রে অন্যতম হলো এটি চুলে কন্ডিশনিংয়ের কাজ করে যার কারণে এই তেল ব্যবহার করলে চুল হয় সফট ও জটমুক্ত। চুলে জট থাকলেও আঁচড়ানোর সময় অনেক চুল পড়ে।

চুলের এই তিনটি ম্যাজিকেল উপাদান একসাথে জোগাড় করে, মিশিয়ে, ঘরে তেল বানানো অনেক সময় ও যত্নের ব্যাপার। পড়ালেখা, চাকরি ও ঘর সামলানোর পর এতো কিছু করা আসলেই সম্ভব হয়ে উঠেনা। তাই আমি এমন একটি তেল চাচ্ছিলাম যা এই সব উপাদান দিয়ে তৈরি করা থাকবে। আমার মায়ের হাতে বানানো তেলের যাদু আমি “প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল”-এ পেয়েছি। আমি সত্যিই সেটিসফাইড। অল্প সময় ব্যয় করে ঘন সুন্দর চুল পাওয়ার সিক্রেট আমি পেয়ে গিয়েছি। তার উপর যদি হয় তা সাশ্রয়ী তাহলে তো তাকে সিক্রেটই বলবো, তাই না?

৩০০ মিলি প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েলের দাম মাত্র ২০৫ টাকা। এটি ছাড়া এখন আর অন্য কোন তেল আমি ব্যবহার করবো না। এই সিক্রেট ও ম্যাজিকেল হেয়ার অয়েল আপনার হাতের কাছেই কিন্তু আছে। একবার ব্যবহার করেই দেখুন। আপনিও আমার মতন প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার হেয়ার অয়েল ছাড়া আর কোন তেল ব্যবহার করতে চাইবেন না।

  লিখেছেন- শাবনাজ বেনজির
Select Category
Sort Posts