SHAJGOJ
SHAJGOJ

Press Enter to search

দামি হেয়ার মাস্ক মেখেও চুল খড়খড়ে? তেল-পানি কিছুই চুলে ঢুকছে না যে কারণে!

দামি হেয়ার মাস্ক মেখেও চুল খড়খড়ে? তেল-পানি কিছুই চুলে ঢুকছে না যে কারণে!

চুলের শুষ্কতা দূর করতে আমরা কত রকমের কন্ডিশনার, হেয়ার সিরাম আর দামি মাস্কই না ব্যবহার করি। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, গোসলের পর চুল কিছুক্ষণ নরম থাকলেও শুকানোর পর আবার সেই আগের মতোই রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। চুলে কোনো প্রোডাক্টই যেন কাজ করতে চায় না।

এর আসল কারণ কিন্তু আপনার প্রোডাক্টের ত্রুটি নয়, বরং আপনার চুলের "হেয়ার পোরোসিটি" (Hair Porosity)। সহজ কথায়, পোরোসিটি হলো আপনার চুলের আর্দ্রতা বা পানি শুষে নেওয়ার এবং তা চুলের ভেতরে ধরে রাখার ক্ষমতা。 আমাদের মুখের ত্বকের যেমন টাইপ থাকে (তৈলাক্ত বা শুষ্ক), ঠিক তেমনি চুলেরও পোরোসিটি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন টাইপ থাকে।

নিজের চুলের পোরোসিটি না জেনে ভুল প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে চুল পড়া ও জট লাগার সমস্যা আরও বেড়ে যায়। কীভাবে ঘরে বসেই মাত্র ১ মিনিটে আপনার চুলের পোরোসিটি পরীক্ষা করবেন এবং সেই অনুযায়ী সঠিক যত্ন নেবেন? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

১ মিনিটে ঘরে বসেই করুন "ফ্লোট টেস্ট" (The Float Test)

আপনার হেয়ার পোরোসিটি কেমন তা জানতে একটি সহজ পরীক্ষা করতে পারেন:

  • প্রথমে শ্যাম্পু করা একদম পরিষ্কার ও শুকনো একগাছা চুল নিন (মাথা আঁচড়ানোর সময় উঠে আসা চুল নিতে পারেন)।

  • একটি স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাসে পরিষ্কার পানি নিন এবং চুলের গোছাটি পানির ওপর ছেড়ে দিন।

  • ফলাফল: চুলটি যদি গ্লাসের একদম তলায় ডুবে যায়, তবে আপনার চুল হাই পোরোসিটি (High Porosity)। যদি চুলটি গ্লাসের মাঝখানে ভাসতে থাকে, তবে তা মিডিয়াম পোরোসিটি (Medium Porosity)। আর চুলটি যদি পানির একদম ওপরেই ভেসে থাকে, তবে আপনার চুল লো পোরোসিটি (Low Porosity)

পোরোসিটি অনুযায়ী চুলের সঠিক যত্ন ও প্রোডাক্ট গাইড

আপনার চুলের টেস্ট রেজাল্ট অনুযায়ী নিচের নিয়মগুলো মেনে হেয়ার কেয়ার রুটিন সাজিয়ে নিন:

১. লো পোরোসিটি হেয়ার (Low Porosity Hair)

  • বৈশিষ্ট্য: এই ধরণের চুলের কিউটিকল বা বাইরের স্তরগুলো খুব শক্তভাবে বন্ধ থাকে। ফলে পানি বা তেল সহজে চুলের ভেতরে ঢুকতে পারে না, আবার ঢুকলে তা সহজে বেরও হয় না।

  • যত্নের নিয়ম: এই চুলে ভারী তেল বা মাস্ক ব্যবহার করলে তা চুলের ওপরেই জমে থাকে। তাই লাইটওয়েট ও ওয়াটার-বেসড প্রোডাক্ট বেছে নিন, যেগুলোতে জোজোবা বা আরগান অয়েল আছে। চুলে তেল বা মাস্ক লাগানোর সময় হালকা গরম তোয়ালে মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন (Steam), এতে কিউটিকলগুলো খুলবে এবং পুষ্টি ভেতরে প্রবেশ করবে।

২. হাই পোরোসিটি হেয়ার (High Porosity Hair)

  • বৈশিষ্ট্য: অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, কালারিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের কারণে এই চুলের কিউটিকলগুলোতে প্রচুর ফাঁকা জায়গা বা ছিদ্র তৈরি হয়। ফলে চুল খুব দ্রুত পানি শুষে নিলেও পরক্ষণেই তা বাতাসে উবে যায়, যার কারণে চুল সবসময় উস্কোখুস্কো দেখায়।

  • যত্নের নিয়ম: এই চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভারী হেয়ার বাটার, ক্যাস্টর অয়েল বা থিক মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। গোসলের পর চুলে অবশ্যই লিভ-অন কন্ডিশনার লাগাবেন, যা চুলের ছিদ্রগুলো সিল করে আর্দ্রতা আটকে রাখবে।

৩. মিডিয়াম বা নরমাল পোরোসিটি (Medium Porosity Hair)

  • বৈশিষ্ট্য: এটি হলো চুলের সবচেয়ে পারফেক্ট অবস্থা। এই ধরণের চুল খুব সহজেই আর্দ্রতা গ্রহণ করতে পারে এবং তা দীর্ঘক্ষণ ধরেও রাখতে পারে। খুব বেশি এক্সট্রা কেয়ারের প্রয়োজন হয় না, শুধু নিয়মিত সাধারণ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারই যথেষ্ট।

জটহীন চুলের একটি প্রো-টিপ (Pro-Tip)

রাতে ঘুমানোর সময় সুতির পিলোকভার বা বালিশের কভার এভোয়েড করার চেষ্টা করুন। সুতির কাপড়ের ফ্রিকশনের কারণে চুলের আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং চুলে জট পড়ে। এর বদলে সিল্ক বা স্যাটিনের (Silk/Satin) বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলে ঘর্ষণ কম হয় এবং চুল নরম থাকে।

Shajgoj Safety Note: আপনার চুলের পোরোসিটি যেমনই হোক না কেন, সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক ব্যবহার করা ভালো। চুলে যেকোনো নতুন প্রোটিন বা হেয়ার ট্রিটমেন্ট প্রোডাক্ট রেগুলার ব্যবহারের আগে ছোট একটি অংশে Patch Test করে চুলের প্রতিক্রিয়া দেখে নেওয়া নিরাপদ।


Select Category
Sort Posts