গ্লুটাথিওন অ্যাম্পুল । খুব অল্প দিনেই স্পট দূর করে ফেইসকে করবে ব্রাইট

টপিক্যাল গ্লুটাথিওন অ্যাম্পুল। খুব অল্প দিনেই স্পট দূর করে ফেইসকে করবে ব্রাইট

5 (4)

ত্বকের যত্নে অ্যাক্টিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস এর চাহিদা দিনদিন বেড়ে চলছে। কেননা অ্যাক্টিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস আমাদের ত্বকে খুব দ্রুত কাজ করে। ত্বকের বিভিন্ন স্কিন কনসার্নকে টার্গেট করে যেমন- পিগমেন্টেশন, স্কিন লাইটেনিং সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে অ্যাক্টিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস ব্যবহার করা হয়। আর ইদানিং স্কিন লাইটেনিং কিংবা ত্বকে ব্রাইটেনিং ইফেক্ট আনার জন্য বিভিন্ন প্রোডাক্ট যেমন- অ্যাম্পুল, সিরাম, ফেইসওয়াশ সহ বিভিন্ন কিছুতে টপিক্যাল গ্লুটাথিওন ব্যবহার করা হয়। আর আজকে বলবো, এই অ্যাকটিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট যুক্ত একটি অ্যাম্পুলের কথা, যা ব্যবহারে ত্বকে ৭ দিনে আসবে ভিজিব্যাল চেঞ্জ। আর সেই অ্যাম্পুলটি হচ্ছে- ডার্মালজিকা গ্লুটাথিওন স্পট রিমুভিং অ্যাম্পুল। তো চলুন আগে জানা যাক, গ্লুটাথিওন কী? ত্বকে কীভাবে কাজ করবে ডার্মালজিকা গ্লুটাথিওন স্পট রিমুভিং অ্যাম্পুলটি।

গ্লুটাথিওন কী?

গ্লুটাথিওন হচ্ছে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যেটা আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবেই থাকে। আর গ্লুটাথিওনকে বলা হয় ‘Mother of All Antioxidants’। গ্লুটাথিওন মূলত আলফা আরবুটিন, ভিটামিন সি সহ অন্যান্য আরও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মতোই স্কিনের মেলানিন প্রোডাকশনকে কমিয়ে স্কিনকে ব্রাইট করে।

একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ওরালি গ্লুটাথিওন নেওয়া আর টপিক্যালি গ্লুটাথিওন ব্যবহার করা কিন্তু এক কথা নয়। টপিক্যাল গ্লুটাথিওন ইউজ করা সেইফ, যদি কনসেনট্রেশান সেইফ থাকে।

এবার জানা যাক, ডার্মালজিকা গ্লুটাথিওন স্পট রিমুভিং অ্যাম্পুলের ব্যাপারে।

কী কী আছে এই অ্যাম্পুলটিতে?

অ্যাম্পুলটির নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এর প্রধান উপাদানই হচ্ছে গ্লুটাথিওন। এছাড়াও এতে আছে আরও বিভিন্ন ইনগ্রিডিয়েন্টস। যেমন-

  • ইস্ট ফিলট্রেট
  • হাইড্রোলাইজড কোলাজেন
  • ইস্ট এক্সট্র্যাক্ট
  • গোল্ড ব্লু ইয়াং ক্যামোমাইল এক্সট্র্যাক্ট

এছাড়াও ত্বকের জন্য উপযোগী বিভিন্ন ইনগ্রিডিয়েন্টস।

গ্লুটাথিওন অ্যাম্পুলের কার্যকারিতা

এই অ্যাম্পুলের মোড়কেই লিখা আছে যে, ৭ দিন ব্যবহারে ত্বকে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক এই অ্যাম্পুলটির কার্যকারিতা সম্পর্কে।

১। অ্যাম্পুলটি ত্বকে স্কিন ব্রাইটেনিং এ  কাজ করবে। অর্থাৎ ত্বকের পিগমেন্টেশনকে কমিয়ে ত্বককে করবে উজ্জ্বল।

২। ত্বকের আনইভেন টোন দূর করবে।

৩। ত্বকে ব্রণ, সানট্যান কিংবা অন্যান্য দাগ থাকলে তা দূর করবে।

৪। অ্যান্টি এজিং এর কাজ করবে।

প্যাকেজিং

প্যাকেটের ভেতরে আছে ৭টি কাঁচের বোতল। প্রত্যেকটি বোতলে আছে ২ মি.লি লিকুইড, আর এটিই মূলত অ্যাম্পুল। অনেকেই ভাবছেন, কাঁচের বোতল খুলবেন কীভাবে? এখানে কাঁচের এই বোতলগুলো খোলার জন্য আছে একটি ডিসপেন্সার ক্যাপ।

অ্যাম্পুল ব্যবহারের স্কিন কেয়ার স্টেপ

ত্বকের যত্নে অ্যাম্পুল ব্যবহার কিন্তু অন্যান্য প্রোডাক্ট থেকে কিছুটা ভিন্ন। তাই অ্যাক্টিভ ইনগ্রিডিয়েন্টস যুক্ত এই অ্যাম্পুলটির ব্যবহার সম্পর্কে জানা যাক। এই প্যাকেটের ভেতর টোটাল ৭টা অ্যাম্পুল থাকে এবং নির্দেশনায় বলা আছে যে, এক বোতল অ্যাম্পুল দুইবার অর্থাৎ দুইদিন ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ ৭টা অ্যাম্পুল ১৪ দিন অনায়াসেই ব্যবহার  করা যাবে।

এই অ্যাম্পুল ব্যবহারের জন্য আপনাকে একটি স্কিন কেয়ার রুটিন মেইনটেইন করতে হবে। আর আপনার রুটিনটা হবে এমন-

১। প্রথমে ক্লেনজিং অয়েল  বা মাইসেলার ওয়াটার দিয়ে ডাবল ক্লেনজিং করতে হবে।

২। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেইস ওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৩। এরপর টোনার ব্যবহার করতে হবে।

৪। টোনার দেয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ডার্মালজিকা গ্লুটাথিওন অ্যাম্পুল ব্যবহার করতে হবে।

৫। এরপর একটি সিরাম ব্যবহার করতে হবে।

৬। পরবর্তী ধাপে রেগুলার কোনো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

ব্যবহার বিধি

আগেই বলেছি, ডার্মালজিকার এই অ্যাম্পুলটি ৭টি কাঁচের বোতলে লিকুইড অবস্থায় থাকে। আর বোতল খোলার জন্য আছে ছোট সাদা ডিসপেন্সার ক্যাপ বলে। ব্যবহারের সময় যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ করতে হবে-

১। প্রথমে বোতলটি ঝাঁকিয়ে নিন।

২। এরপর বোতলের উপরের অংশে ডিসপেন্সার ক্যাপটা আটকে হালকা প্রেশার দিলেই বোতলটি ভেংগে যাবে।

৩। তারপর সাবধানে হাতের তালুতে অর্ধেক পরিমাণ আম্পুল ঢেলে নিয়ে পুরো মুখে এবং গলায় সাবধানে ট্যাপ করে লাগাতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই দেখা যাবে, এটি ত্বকে সুন্দর ভাবে মিশে গেছে।

কারা ব্যবহার করতে পারবে?

যাদের বয়স ২০ বছরের উর্ধ্বে তাদের জন্য এই অ্যাম্পুলটি পারফেক্ট। আর গর্ভবতী কিংবা ব্রেস্টফীডিং করাচ্ছেন এমন কেউ প্রোডাক্টটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

স্টোরেজ সতর্কতা

এই অ্যাম্পুলটি সূর্যের আলো কিংবা তাপ থেকে দূরে রাখুন। ঠাণ্ডা এবং শীতল স্থানে প্রোডাক্টটি সংরক্ষণ করুন। আর অবশ্যই শিশুদের হাতের নাগালের বাহিরে রাখুন।

আরও কিছু কথা

গ্লুটাথিওন স্পট রিমুভিং অ্যাম্পুল ব্যবহারকালীন দিনের বেলায় এবং রান্নার সময়ে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। আর রাতে ডাবল ক্লেনজিং করে ফেইসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে।

আর অ্যাম্পুলটির মোড়কে ৭ দিনে ত্বকে এর কার্যকারিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আমাদের একেক জনের ত্বকের কার্যক্ষমতা একেক রকম। তাই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে কারো কারো আরও বেশি সময়ও লাগতে পারে।

ছোট একটি টিপস

এই অ্যাম্পুলটির বেস্ট রেজাল্ট পাওয়ার জন্য সিরাম হিসেবে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এতে অ্যাম্পুলটির কার্যকারিতা বহুগুণে বেড়ে যায়।

গ্লুটাথিওন স্পট রিমুভিং অ্যাম্পুলটির ব্যবহার বিধি  ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন এই ভিডিওটি –

কোথায় পাবেন?

আপনারা স্কিন ও হেয়ার কেয়ারের অথেনক্টিক প্রোডাক্ট কিনতে চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ ভিজিট করতে পারেন, যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত স্কয়ারে অবস্থিত। আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।

 

39 I like it
6 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...