কনেরা রেডি তো! - Shajgoj

কনেরা রেডি তো!

kone

আসছে বিয়ের মৌসুম। বিয়ে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে একটা বিশেষ দিন।এই দিনটা নিয়ে তো জল্পনা কল্পনার শেষ থাকে না সবারই। আর যারা আসছে শীতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তাদের তো এখন থেকেই জাকিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলতে হবে। তো আর দেরী কিসে?? আজ থেকেই শুরু হয়ে যাক। আর তাই আজ জানাবো, ব্রাইডদের জন্যে স্কিন কেয়ার রুটিন এবং কিছু টিপস।

কনেদের জন্যে কিন্তু বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন যেমন – ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং এর রুলসগুলো মেনে চলতেই হবে। এছাড়াও করতে হবে এক্সট্রা কিছু কেয়ার। বাসায় বসে চটজলদি এগুলো সেরে ফেলতে পারেন।

ক্লিঞ্জিং

নিজের স্কিনের সাথে ভালো যায় এমন ফেইসওয়াস দিয়ে মুখ তো পরিষ্কার করবেনই। মাঝে মাঝে অয়েল ক্লিঞ্জিংও করে নিবেন। কনেদের জন্যে অয়েল ক্লিঞ্জিং বেশ ভালো কাজে দেবে। স্কিন সফট এবং টাইট রাখার জন্যে অয়েল ক্লিঞ্জিং মাস্ট। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, ভিটামিন ই অয়েল এগুলো দিয়ে তো করা যাবেই তাছাড়া আর একটা বেস্ট অপশন হলো কোকোনাট মিল্ক।
আমরা জানিই যে কোকোনাট মিল্ক থেকেই যেহেতু কোকোনাট অয়েলটা আসে, সেহেতু এটা স্কিনের জন্যে বেশ ভালো কাজে দেবে এবং অতিরিক্ত অয়েলিও করবে না।

– একটা বাটিতে কোকোনাট মিল্ক নিয়ে এটি নরমাল ফ্রিজে ২০ মিনিটের জন্যে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর একটি কটন প্যাডের সাহায্যে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। এবার ২ হাতের মধ্যমা এবং রিং ফিংগার দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে নিন ২-৩ মিনিট এরপর ধুয়ে ফেলুন।

টোনিং

স্কিনের পি এইচ ব্যালেন্স রাখতে, পোর টাইট রাখতে রেগুলার ফেইস ক্লিন করার পর টোনার লাগাতে ভুলবেন না। এক্ষেত্রে আপনার পছন্দসই টোনার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে খেয়ার রাখবেন, সেটা যেন প্যারাবেন ফ্রি হয়। অথবা, টোনার বাসায়ও বানিয়ে নিতে পারেন।

– একটি বাটিতে হাফ কাপ ঠান্ডা গ্রিন টি এর লিকারের সাথে ২ টেবিল চামচ গোলাপজল মিক্স করে টোনার বানিয়ে নিন। একটি কটনবল টোনারে ডিপ করে নিয়ে পুরো মুখ মুছে নিন। ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

[picture]

ময়েশ্চারাইজিং

এক্ষেত্রে বলবো আপনার পছন্দের রেগুলার ময়েশ্চারাইজারই কন্টিনিউ করতে। ডেইলি ২-৩ বার ক্লিঞ্জিং এবং টোনিং এর পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে একদম ভুলবেন না। তবে শীতের সিজনে স্কিন অনেক রাফ হয়ে যায়। তাই রাতে শোয়ার আগে,

কোকোনাট মিল্ক ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন ২-৩ ঘন্টা। ফ্রিজ থেকে বের করার পর দেখবেন কোকোনাট মিল্কের মিল্ক পার্টটা আলাদা হয়ে গেছে। এই মিল্ক পার্ট থেকে ১ টেবিল চামচ নিয়ে এর সাথে ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল খুব ভালোভাবে মিক্স করে নিয়ে স্কিনে লাগান এবং ঘুমিয়ে পড়ুন। সকাল মুখ পরিষ্কার করার পর সফট সফট স্কিন পাবেন। এটি শীতের প্রকোপ থেকে স্কিনকে রক্ষা করে।

স্ক্রাবিং

শুধুমাত্র ডেইলি বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিনগুলো ফলো করলেই হবে না। এছাড়াও সপ্তাহে ৩ দিন কিন্তু স্ক্রাবিং মাস্ট। স্ক্রাবটাও ঘরেই বানিয়ে নিন। বাজারে কেমিকেলযুক্ত প্রোডাক্টের থেকে সেটাই স্কিনের জন্যে ভালো হবে। এজন্যে,

– একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ১ চা চামচ কফি, হাফ চামচ কোকোনাট মিল্ক যোগ করুন। সবকিছু মিশিয়ে নিন। এটি মুখের সাথে বডিতেও ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়াও আরেকটি রেসিপি ফলো করতে পারেন। একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ ওটসের গুড়া, ১ চা চামচ মধু, হাফ চা চামচ কোকোনাট মিল্ক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। স্ক্রাবগুলো মুখ পরিষ্কারের পর মুখে লাগিয়ে অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করে নিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

ফেইস মাস্ক

ফেইস মাস্ক কিন্তু কনেদের স্কিন কেয়ারে খুবই ইম্পরট্যান্ট একটা ধাপ। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ২ বার ফেইস মাস্ক লাগানোর চেষ্টা করবেন।

নিচে কিছু ব্রাইডাল ফেইস মাস্কের রেসিপি দিলাম।

রেসিপি এক

একটি ২ টেবিল চামচ বাটিতে চন্দন পাউডার, ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ টেবিল চামচ কোকোনাট মিল্ক, হাফ টেবিল চামচ মধু নিয়ে মিশিয়ে নিন। আঙুল অথবা ফেইস ব্রাশের সাহায্যে পুরো মুখ, গলা এবং চাইলে হাতে পায়েও লাগিয়ে নিতে পারেন মাস্কটি। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে নিন।

রেসিপি দুই

একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ বেসন, কোয়ার্টার টেবিল চামচ হলুদ গুড়ো, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ কোকোনাট মিল্ক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মাস্ক টি পুরো মুখ এবং গলায় ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি রাতের বেলায় ব্যবহার করবেন। অবশ্যই মাস্ক লাগানোর পরে টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।

এই তো গেল হবু বউদের জন্যে কিছু স্কিন কেয়ার রুটিনের বিষয়গুলো। এবার কিছু টিপস দিতে চাই হবু বধুদের জন্যে।

  • অনেকেই বিয়ের আগে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ে যে, বিয়ের দিন সুন্দর দেখাতে হবে তাই ভালো ভালো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা দরকার। এই ভুলটা একদম ই করবেন না। বিয়ের ১ মাস আগে নতুন কোনো প্রোডাক্ট ট্রাই করার কথা মাথায় না আনাই ভালো। কোন প্রোডাক্ট স্কিনে কি রিয়েক্ট করে তা তো বলা যায় না। এজন্যে আগের ব্যবহারকৃত বিশ্বস্ত প্রোডাক্ট গুলোই চালিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে একান্তই যদি প্রোডাক্ট চেঞ্জ করার দরকার পরে। তাহলে তা বিয়ের অন্তত ৩ মাস আগে ট্রাই করে নিবেন।
  • বিয়ের আগে স্কিনে যদি পিম্পল, র‍্যাশ , ব্রেকআউট থাকে তবে সবচেয়ে ভালো হয় স্কিন ডক্টরের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। এটাও বিয়ের ২-৩ মাস আগেই করা উচিত। এতে স্কিনে রিয়েকশন হলেও তা কভার করার জন্যে এনাফ টাইম পাওয়া যাবে।
  • বিয়ের আগে যতবার ই দিনের বেলায় বাইরে যাবেন, সানস্ক্রিন মাস্ট। বাইরে যাওয়ার ২০ মিনিট আগে মুখ, গলা এবং সান এক্সপোজড এড়িয়া গুলোতে এসপিএফ ৪০+ সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিবেন।
  • স্কিন কে ভেতর থেকে ভালো রাখতে নিজেকে হাইড্রেট রাখাটা জরুরী। পর্যাপ্ত পানি এবং ফলের রস ডেইলি রুটিনে রাখুন।
  •  বিয়ের অন্তত ৩ দিন আগে ফেসিয়াল, হেয়ার স্পা, বিকিনি ওয়াক্সিং, ফুল বডি ওয়াক্সিং, বডি পলিশিং ইত্যাদি করিয়ে নিন।

এইতো জেনে নিলেন, নতুন কনেদের স্কিন কেয়ার রুটিন এবং কিছু টিপগুলো সম্পর্কে। তো আর দেরি কিসের? আজ থেকেই স্কিনের যত্ন নেওয়া শুরু হয়ে যাক।

ছবি – কৌশিক ইকবাল

লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

0 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...