স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল অ্যাড করার কথা ভাবছেন?

স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল অ্যাড করার কথা ভাবছেন?

Untitled-1

বর্তমানে যেসব স্কিনকেয়ার ইনগ্রেডিয়েন্ট আমরা ইউজ করে থাকি, সেটার যদি কোনো রেটিং করা হয় তাহলে রেটিনলকে আমি প্রথম সারিতেই স্থান দিবো। বিগেইনার হিসেবে যারা রেটিনল ডেইলি স্কিনকেয়ারে যুক্ত করতে চাচ্ছেন, কিন্তু রেটিনল আপনার স্কিনে মানানসই হবে কিনা তা নিয়ে যদি কনফিউজড থাকেন, তাহলে আজকের লেখাটি আপনার জন্য। স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল অ্যাড করার আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন, সেটা নিয়েই আজকের ফিচার।

রেটিনল কেন ব্যবহার করবো?

রেটিনল বা রেটিনয়েড ভিটামিন এ থেকে পাওয়া যায়। ভিটামিন এ ফ্যাট সল্যুবল। রেটিনয়েডস এর দু’টি টাইপ আছে, Retinyl palmitate ও Retinoic acid। এর মধ্যে Retinyl palmitate হচ্ছে সবচেয়ে মাইল্ড বা জেন্টল ফর্ম। ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে এজিং সাইনস প্রিভেন্ট করতে রেটিনলের জুড়ি নেই। রেটিনল কী তা তো আমরা জানলাম কিন্তু স্কিনের কোন কোন সমস্যার সমাধানে রেটিনল ইউজ করবো চলুন সেটা এখন জেনে নেওয়া যাক।

১. অ্যান্টি এজিংয়ে

রেটিনল ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোডাকশন বৃদ্ধি করে স্কিন টেক্সচারকে ইম্প্রুভ করে। এটি স্কিনের বলিরেখা অর্থাৎ বয়সের ছাপ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ইয়াংগার লুকিং ও হেলদি স্কিনের সিক্রেট হলো এই রেটিনল।

স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল

২. একনের সল্যুশনে

রেটিনল স্কিনের অতিরিক্ত তেল বা সিবাম প্রোডাকশনে বাধা দেয়। তাই একনে প্রন ও অয়েলি স্কিনের জন্য এই ইনগ্রেডিয়েন্টটি দারুণ কার্যকরী।

৩. হাইপার পিগমেন্টেশন কমাতে

হাইপার পিগমেন্টেশন দূর করে স্কিনকে ইভেনটোনড করতে রেটিনল বেশ কার্যকরী। তবে রাতারাতি ফল পাবেন না। আস্তে আস্তে এটি স্কিন টেক্সচার ইম্প্রুভ করবে।

এছাড়াও রেটিনল হেলদি স্কিন সেলস প্রোডাকশনে হেল্প করে, ফাইন লাইনস দূর করে, স্কিনকে এক্সফোলিয়েট করে।

বিগেইনার হিসেবে কত % রেটিনল সেইফ?

স্কিনকেয়ারের ক্ষেত্রে রেটিনলের ম্যাক্সিমাম পার্সেন্টেজ হলো ১%। শুরুতে যদি আপনি ০.০১% পার্সেন্টেজ দিয়ে রেটিনল ব্যবহার শুরু করতে পারেন, তাহলে সেটি একদম সেইফ। ০.০১ থেকে ০.০৩% কে বলা হয় রেটিনলের লোয়ার স্ট্রেন্থ। এরপর আপনি ধীরে ধীরে একটু হাই কনসেন্ট্রেশনে যেতে পারেন। অ্যাডভান্স লেভেলে ০.৩ থেকে ১% ব্যবহার করা যায়। সিরাম ছাড়াও আরেকটি অপশন হলো রেটিনল হাইয়ার পার্সেন্টেজ কিন্তু জেন্টল ফর্ম খুঁজে বের করা। যেমন- Encapsulated retinol, Granactive Retinoid, Bakuchiol ইত্যাদি ফর্মগুলো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে ব্যবহৃত হয়। এগুলোও আপনার জন্য সেইফ অপশন। তবে যেকোনো নতুন প্রোডাক্ট স্কিনকেয়ারে অ্যাড করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

সিরাম অ্যাপ্লাই

ভিটামিন এ-এর আরেকটি ডেরিভেটিভ হচ্ছে Tretinoin (অল-ট্রান্স রেটিনোইক অ্যাসিড)। এটি ডিরেক্টলি স্কিন সেলসে কাজ করে, অ্যান্টি এজিং এর পাশাপাশি একনে ট্রিটমেন্টে ব্যবহৃত হয়। Tretinoin বেশ স্ট্রং, তাই একদম বিগেইনার লেভেলে বা স্কিন স্পেশালিস্টের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার না করাই ভালো।

কীভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক রেটিনল ব্যবহারের জন্য উপযোগী?

ত্বকের জন্য রেটিনল কতটা উপকারী তা কিন্তু উপরের আলোচনা থেকে আপনারা বুঝতেই পেরেছেন। কিন্তু উপকারী বলে হুট করে স্কিনকেয়ারে রেটিনলের ব্যবহার শুরু করে দিলে কিন্তু তা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। রেটিনলের মতো একটি পাওয়ারফুল অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট অ্যাড করার আগে একটি প্রোপার স্কিনকেয়ার রুটিন ফলো করুন। লং টাইম যারা প্রোপারলি স্কিনকেয়ার রুটিন মেনটেইন করছেন, রেগুলার সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করছেন, কোনো সমস্যা ছাড়াই ত্বকে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করে আসছেন; তারা নিশ্চিন্তে স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল সিরাম অ্যাড করে ফেলুন।

 

যারা অ্যাডভান্স বা অ্যান্টি এজিং স্কিনকেয়ার রুটিন ফলো করতে চান, তারা এই উপাদানটি ব্যবহার করা শুরু করুন। সিরাম ছাড়া অন্যান্য স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টেও রেটিনল ব্যবহার করা হয়। যেমন- নাইট ক্রিম, শিট মাস্ক, আই ক্রিম ইত্যাদি। প্রথমেই সিরাম ব্যবহার না করতে চাইলে এই ধরনের স্কিনকেয়ার রেঞ্জ বেছে নিতে পারেন।

স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল

স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল এবং কিছু সতর্কতা

১. আপনার বয়স যদি পঁচিশ বা তার বেশি হয়, তাহলে আপনি স্কিনকেয়ারে রেটিনল যুক্ত করতে পারবেন। কারণ টিনেজার্স বা ইমম্যাচিউর স্কিন রেটিনল ব্যবহারের জন্য উপযোগী না।

২. রেটিনল ব্যবহারের ফলে ত্বক কিছুটা শুষ্ক লাগতে পারে। তাই আপনি যদি স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল সিরাম যুক্ত করতে চান, তাহলে অবশ্যই একটি ভালো ময়েশ্চারাইজারও আপনাকে বেছে নিতে হবে।

৩. রেটিনল ব্যবহারের সময় স্কিনকেয়ার রুটিন সিম্পল রাখার ট্রাই করুন। এক্ষেত্রে আমি বেসিক স্কিনকেয়ার রুটিন ফলো করার জন্য বলবো। ক্লেনজিং > টোনিং > ময়েশ্চারাইজিং > সিরাম অ্যাপ্লাই, এই ক্রমটি ফলো করবেন। রেটিনলের সাথে একই সময়ে অন্য অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট বা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করবেন না। এতে স্কিনে ইরিটেশন বা রেডনেস হতে পারে।

৪. প্রেগনেন্ট ও ব্রেস্ট ফিড করান এমন মায়েরা রেটিনল ব্যবহারের জন্য উপযোগী নন। তাই এই সময় রেটিনল এড়িয়ে চলুন।

৫. প্রথম দিকে উইকে একবার রেটিনল সিরাম ইউজ করুন। আপনার স্কিনে এটি স্যুট করে গেলে একদিন পর পর রেটিনল সিরাম ব্যবহার করা করুন। যারা লো কনসেন্ট্রেশন বা মাইল্ড ভার্সনের রেটিনল ব্যবহার করেন, তারা রেগুলার অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

ত্বকের যত্ন

কখন ব্যবহার করবেন?

রেটিনলযুক্ত প্রোডাক্ট রাতের বেলা ব্যবহার করাই বেটার। ইউভি রে বা সানলাইটে এই উপাদানের কার্যকারিতা কমে যায়। স্কিনকে ফটোসেনসিটিভও করে দিতে পারে, তাই নাইট টাইম স্কিনকেয়ারে এই প্রোডাক্টটি ইনক্লুড করুন। দিনের বেলা অবশ্যই সানস্ক্রিন ইউজ করতে হবে।

ফ্ললেস ও ইয়াংগার লুকিং স্কিন সকলেরই কাম্য। আর এর জন্য স্কিনের ধরন বুঝে নির্বাচন করতে হবে আপনার ত্বকের সাথে মানানসই সঠিক প্রোডাক্টটি। তাই প্রোডাক্ট সিলেকশনে তাড়াহুড়া নয়! বুঝে, শুনে সময় নিয়ে নির্বাচন করুন আপনার ত্বকের জন্য বেস্ট প্রোডাক্ট। স্কিনকেয়ার রুটিনে রেটিনল অ্যাড করার আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন, সেগুলো জানা হলো। অনলাইনে অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ফিজিক্যাল শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুরের কিংশুক টাওয়ার, ওয়ারীর র‍্যাংকিন স্ট্রিট, ইস্টার্ন মল্লিকা, বসুন্ধরা সিটি, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে), সীমান্ত সম্ভার, চট্টগ্রামের খুলশি টাউন সেন্টার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

 

ছবি- সাটারস্টক, সাজগোজ

3 I like it
3 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...