জীবন হোক সফলতায় পরিপূর্ণ - Shajgoj জীবন হোক সফলতায় পরিপূর্ণ - Shajgoj

জীবন হোক সফলতায় পরিপূর্ণ

ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭

আপনি কি একজন নারী? আর সারাদিনে কি আপনার অনেক কাজ থাকে? আপনি কি আপনার কোন কাজটি কোন সময়ে করবেন ঠিক বুঝতে পারছেন না? বুঝতে পারছেন না কর্মজীবনে সফল হতে হলে আপনাকে কোন সময়ে কি করতে হবে? সকাল থেকে রাত আপনার সময়গুলো আসলে কীভাবে পরিচালনা করবেন?

আসলে আমাদের মাথায় প্রতিনিয়তই এই ধরণের নানা প্রশ্ন ঘুরে বেরায়। যার সঠিক উত্তর হয়ত আমরা কখনো পাই, কখনও পাই না। বুঝে পাই না কখন কি করব। আসলেও ঠিক কোনটা করলে আমরা ভালো করতে পারব জীবনে তারও উত্তর পাওয়া যায় না অনেক সময়ই। এসব দ্বিধার সমাধান কোন একটি উত্তর এর মধ্যে আসলে সীমাবদ্ধ নয়। তাই এসব দ্বিধা দূর করতে আমরা কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারি।

আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন আপনার হাতে সারাদিনে যথেষ্ট সময় নেই আপনার সেই কাজগুলো শেষ করার জন্য তবে আপনি কখনোই আপনার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবেন না এবং আপনার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে সফল হবেন না। আপনার কর্মজীবনে যদি সফল হতে চান তবে এখন থেকেই সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করতে হবে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  জিনিস হল সময়। কর্মজীবনে সফলতা অর্জনের জন্যে সময় মেনে চলার কিছু নিয়ম আছে। সঠিক সময়ে কাজ করলে আপনার জীবনে সফলতা কেউ আটকাতে পারবে না। তাহলে আসুন সময়কে আপনি কীভাবে কাজে লাগাবেন তারই কিছু নিয়ম জেনে নিই। যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে আনতে পারে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন। আর আপনার জীবনকে ভরিয়ে দিতে পারে সফলতায়।

(১) সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। কারণ প্রতিদিন আপনি যতগুলো সিদ্ধান্ত নিবেন আপনার কর্মশক্তি ততই কমতে থাকবে সেদিনের জন্য। এবং আপনি আপনার লক্ষ্য, আর স্বপ্ন পূরণের জন্য এনার্জি তত কম পাবেন। সুতরাং সকালের শুরুতেই আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সেরে নিন।

(২) সবাই সকাল বেলায় উঠেই যে ভুল কাজটি করে তা হল ফোনটা হাতে নিয়েই মেইল চেক করে অথবা ইন্টারনেট ব্রাউজ করে। এই অভ্যাসটা বেশিরভাগ সময়ই ভালো কোন ফলাফল বয়ে আনে না। অনেক সময় দেখা যায় সারাদিন নষ্ট হয় এই কারণে। তাই সকাল বেলায় উঠেই যে কাজটি সবার আগে করবেন তা হল আপনার প্রার্থনা সেরে নিবেন। এরপর চাইলে মেডিটেশন, ব্যায়াম করতে পারেন এবং আপনার জীবনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী কী করতে হবে আপনাকে তা নিয়ে ভাবতে হবে। আপনি যদি দিনের শুরুতেই এই কাজগুলো করেন দেখবেন আপনার খুব বেশি ফ্রেশ লাগবে সারাদিন আর এতে করে আপনি আপনার সব কাজগুলো ভালো করে সারতে পারবেন।

(৩) সবাই যে সকাল বেলায় উঠেই তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ভালোভাবে করতে পারবে এমন নয়। আপনার আসলে কখন কাজ করতে ভালো লাগছে তা খুঁজে বের করুন। সেটা সকালই হতে হবে এমন না। অন্যদের থেকে আপনারটা ভিন্নও হতে পারে। হতে পারে আপনার কাজে মনোযোগ আসে অথবা ভালো লাগে কাজ করতে বিকেলে কিংবা রাতে। যে সময়ই হোক না কেন, সেই সময়টাকে ঠিকভাবে কাজে লাগান। ঐ সময়টাতেই কাজ করুন। আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন। আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান আগামী দিনে এবং তার জন্য আপনাকে কী কী কাজ করতে হবে তা নিয়ে চিন্তা করুন। খেয়াল রাখবেন ঐ সময়টা যেন সিনেমা দেখা অথবা অন্য কোন কাজে ব্যয় না হয়ে যায়।

(৪) আপনার ভবিষ্যতের ভালো থাকা নির্ভর করছে আপনার এখনকার কর্মজীবনের উপর। সুতরাং আপনার এখনকার প্রতিটি সময় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যে আপনার এই সময়গুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে। ধরেন, আপনার আপাতত কোন কাজ নেই মানেই যে আপনি পুরো সময়টা এমন একটা কাজে ব্যয় করবেন যেটার আপনার কর্মজীবনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই এমন নয়। অন্যকিছু করেন সমস্যা নেই তবে আপনার প্রধান কাজ যেন হয় আপনার কর্মজীবনে কীভাবে আরও ভালো করতে পারবেন এবং নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

(৫) আমরা অনেকেই রুটিন পছন্দ করি না। কিন্তু কাজের বেলায় রুটিন মেনে চলা অনেক জরুরী। আপনি যদি আপনার জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে চান তবে পুরো সপ্তাহ জুড়ে আপনি যে কাজ করবেন তার রুটিন করে ফেলুন। সামনে কোন কাজ আসবে এরপর আপনি সেটা করবেন এমনটা করবেন না।

(৬) যখন যেখানে সময় দিবেন ঠিক করে সময় দিবেন। সেটা হোক অফিসে, পরিবারে কিংবা নিজেকে। ফোনের কল এবং ইন্টারনেট নিয়ে এত ব্যস্ত থাকে সবাই আজকাল যে ঠিক মতো প্রতিটি মুহুর্ত উপভোগ করে না। এই জিনিসটা করবেন না। নিজের কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে পরিবারকেও সময় দিতে হবে। ছুটির দিনগুলিতে ইলেক্ট্রনিক জিনিস থেকে দূরে থাকুন এবং নিজের পরিবারকে সময় দিন। আর সে সময়গুলো উপভোগ করুন।

(৭) আপনার প্রতিদিনের কাজের একটি লিস্ট করে রাখবেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করবেন সবার প্রথমে। কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী কাজগুলোকে সাজিয়ে নিবেন যাতে করে আপনার সুবিধা হয়।

(৮) এক সপ্তাহ পর পর চেক করতে পারেন যে সপ্তাহ জুড়ে কাজগুলো আপনি শেষ করেছেন কিনা। এতে করে কোন কাজ কোন কারণে মিস হয়ে গেলে তা সম্পন্ন করতে সুবিধা হবে।

আপনি প্রথমদিনই সবগুলো নিয়ম মেনে চলতে পারবেন এমন না। আস্তে আস্তে করে জিনিসগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন। নিজের মধ্যে নেয়ার চেষ্টা করুন। একদিন ঠিক পেরে যাবেন।দেখবেন আপনি আপনার পার্সোনাল লাইফ প্রফেশনাল লাইফ সবকিছুতেই সময়গুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। ভালো ও থাকছেন। সময় কখনোই কারো জন্য অপেক্ষা করে না সুতরাং প্রতিটি সময় কাজে লাগান এবং উপভোগ করুন। পরে যেন আপনার কোন একটি মুহুর্তের জন্যেও মনে না হয় আসলে আপনি সময়গুলো নষ্ট করেছেন।

“সময়ের কাজ সময়ে করুন এবং জীবনকে করে তুলুন সফলতায় পরিপূর্ণ।

লিখেছেন – আফসানা