SHAJGOJ
SHAJGOJ

Press Enter to search

চুলের যত্ন | শীতের আগাম প্রস্তুতি

চুলের যত্ন | শীতের আগাম প্রস্তুতি

শীত এখনো আসেনি, আবার গরমও এখন আর নেই। তাই অনেকেই খুশি যে যাক বাবা সান ড্যামাজ থেকে তো বাঁচা গেলো। কিন্তু সামনেই যে আবার অপেক্ষা করছে শীতের রুক্ষ হাওয়া। শীতে চুল হয়ে পড়ে সবচেয়ে বেশি রুক্ষ, নিষ্প্রাণ আর শাইনলেস হয়ে পড়ে। এর সাথে খুশকির সমস্যা তো আছেই। তবে এই সব সমস্যাই কাটানো সম্ভব, এবং শীতের হাওয়া যাতে চুলের কোনও ক্ষতি না করতে পারে, সেজন্যে কিছু রেগুলার হেয়ার কেয়ার রেজিম মেনে চলতে হবে। চলুন তাহলে জেনে সেই বেসিক রুলস গুলো-

(১) শ্যাম্পু

গরমে যখন আমরা প্রায় প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করতাম, এখন আর সেই দিন নেই। এখন থেকে শ্যাম্পু করার রুটিনটা একটু বদলে নিন। সপ্তাহে ৩ দিন শ্যাম্পু, চুলের জন্য যথেষ্ট। আর চুল যদি বেশি নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, তাহলে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন, তাতে চুলে অনেকটা ভলিউম চলে আসবে।

(২) তেল/ সিরাম

এই সময়ে যেহেতু মাথার স্ক্যাল্প অনেক বেশি ড্রাই হয়ে যায়, তাই তেল দেয়াটা অনেক বেশি জরুরি এই সময়। শীতের সময়ে নারকেল তেলের বদলে ভালো মানের অলিভ ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্যই তেলটা গরম করে নেবেন এবং মাথার তালুতে আঙ্গুলের সাহায্যে লাগিয়ে কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে ব্লাড সারকুল্যাশন বাড়বে, চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি পৌঁছাবে, খুশকি কম হবে। যদি আরেকটু ভালো ফলাফল চান, তাহলে পুরো চুলেই তেল লাগিয়ে ফেলুন। অথবা চাইলে ওভার নাইট সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

[picture]

(৩) কন্ডিশনার

সাধারণত আমরা হয় ডিপ কন্ডিশনিং করি, নয়তো লিভ-ইন-কন্ডিশনার ব্যবহার করি। সময় এসে গেছে চুলে কন্ডিশনারের ব্যবহারের নিয়মটা বদলে ফেলার। আমরা সাধারণত শ্যাম্পু করার পরে কন্ডিশনার লাগিয়ে থাকি।এ খন থেকে শ্যাম্পু করার আগেই করে নিন ডিপ কন্ডিশনিং, এরপরে শ্যাম্পু, সবশেষে লাগিয়ে নিন লিভ-ইন-কন্ডিশনার। আর কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন চুলে নিচের অংশকে।

(৪) চুল শুকান সঠিক নিয়মে

শীতে চুল শুকান বেশ কষ্টকর এবং সময় সাধ্য ব্যাপার বটে। আর যদি চুল লম্বা হয় তাহলে তো কথাই নেই। তবে ভেজা চুল এই সিজনে অনেক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া থেকে শুরু করে, খুশকি, আগা ফেটে যাওয়া সহ আরও অনেক মেজর ড্যামাজ এর কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই ভেজা চুল। প্রথমত, যদি বাড়িতে থাকেন, তাহলে চুল ভালোভাবে তোয়ালে চেপে চেপে শুকান, তারপরে সাধারণ বাতাসে বা ফ্যান ছেড়ে দিয়েই শুকিয়ে নিন।

আর যদি বাইরে যাওয়ার তাড়া থাকে, তাহলে চেষ্টা করুন হেয়ার ড্রাইয়ার এর সবচেয়ে লো হিট অর্থাৎ ঠাণ্ডা বাতাসে চুল শুকাবেন। আর যদি নেহাত বেশি তাড়া থাকে, যদি হাই হিট এ চুল শুকাতেই হয় তাহলে খেয়াল রাখবেন, তা যেন চুল থেকে অন্তত ১৫ সেমি দূরে থাকে। তবে সব সময় মনে রাখবেন শীতের সময় ব্লো-ড্রাই করার আগে অবশ্যই লিভ-ইন-কন্ডিশনার লাগাবেন এবং হাই হিট এ চুল শুকাতে হলে অবশ্যই প্রটেকটিভ স্প্রে ব্যবহার করবেন।

(৫) হেভি স্টাইলিং

শীতের সময় নেহাত পার্টি বা খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত মুজ, স্প্রে বা হাই হিট দিয়ে স্টাইলিং থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে।

(৬) সঠিক ফেব্রিক

যারা মাথায় হিজাব পরেন, তারা এই সময়ে সিল্ক বা সাটিন এর স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এতে করে চুল ভেঙে যাওয়া এবং চুলের ডগা ফেটে যাওয়া দুটো থেকেই রক্ষা পাবেন।

(৭) ডায়েট

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিজেকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং ফল খেতে হবে। ডায়েট এ রাখতে হবে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। তাহলে চুল থাকবে সুস্থ ও প্রানবন্ত।

এইতো গেলো শীত আসার আগে চুলকে সুন্দর ও স্বাস্থজ্জল রাখার বেসিক রুলস। শীতে চুলের যত্ন নিতে কি কি প্যাক ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে আরেকটি লেখা খুব তাড়াতাড়ি আসবো আবার। ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।

ছবি - পিন্টারেস্ট ডট কম

লিখেছেন - মাহবুবা বীথি

Select Category
Sort Posts