আপনার সংসার | সাজিয়ে নিন আপনার মতো করে! - Shajgoj আপনার সংসার | সাজিয়ে নিন আপনার মতো করে! - Shajgoj

আপনার সংসার | সাজিয়ে নিন আপনার মতো করে!

ডিসেম্বর ১১, ২০১৪

একটি সংসার নারী ছাড়া মোটামুটি অচল, এই কথা সবাই জানে। ঘরকন্নার কাজ থেকে শুরু করে পরিবার সামলানো সবকিছুতেই নারীর অবদান রয়েছে। অতীত থেকেই একটি সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য নারীকেই পরিশ্রম করতে হয়। তাই একটি সংসারে কীভাবে একজন নারী নিজেকে মানিয়ে নেবেন, সেটা জানা অত্যন্ত জরুরী। এটা সত্যি যে একদিন না একদিন একজন নারী তার সংসার নিজের মতো করে নিতে পারেন। কিন্তু সেটা কবে পারবেন তা কেউ বলতে পারেন না।

তাই শুরু থেকেই নিজের সংসার নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়ার জন্য যদি কিছু পথ অবলম্বন করেন, তাহলে হয়তো আপনার জন্য সেটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

 (১) যেভাবে করলে আপনার সুবিধা হয় সেভাবে করুন:

সংসারে যখন কোন কিছু করতে যাবেন, তখন যেভাবে আপনার করতে সুবিধা হয় ঠিক সেভাবেই পরিকল্পনা করুন। কারণ আপনার সংসার আপনি কীভাবে সাজাবেন, এর কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। আপনার পারিপার্শ্বিকতা বিচার করে যেভাবে আপনার ভালো লাগে সেভাবেই অনুসরণ করতে পারেন। যদিও আমাদের সমাজে পূর্ণবয়স্ক প্রত্যেকেই কোন একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে “অন্যরা কী ভাববে” এটা চিন্তা করতে অভ্যস্ত। কিন্তু মনে রাখবেন, অন্যরা কী ভাববে সেটা চিন্তা করতে গেলে অনেক কিছুই আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। আপনার সংসার পরিচালনার দায়িত্ব আপনার হাতে, অন্যদের হাতে নয়।

যেমন ধরুন, একজন নারীকে প্রতিদিনই সংসারে নানা বিষয় নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেটা পারিবারিকভাবে হোক আর ব্যক্তিগতভাবে হোক। তখন নারীরা এই সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে চিন্তা করেন “এটা কতটুকু ঠিক হবে?”  কিংবা “অন্যরা কী ভাববে?”

এটা করতে যাবেন না। এতে সমস্যা সমাধান করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ আপনি যে সমাধানই বের করুন, এতে কারো না কারো সমালোচনা শোনার ভয় আপনাকে আচ্ছন্ন করেই রাখবে। যদি এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে খুবই দ্রুত।

(২) ধৈর্য্যশীল হোন:

ধৈর্য একটি বড় গুণ। যদি আপনি ধৈর্য ধরতে না পারেন, তবে অনেক কিছুই আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। যাকে আপনি জীবনসঙ্গী করে নিয়েছেন, তার সাথেই আপনার সামনে বেশিরভাগ সময় কাটাতে হবে এবং নিজেদের এই যুগলবন্দী সময়ের মাঝে অনেক কিছু আসবে যাবে, অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবে।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে আপনাকে ধৈর্য্যের রাণী হয়ে থাকাটাই হবে মূল সমস্যা সমাধানের উপায়। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক, ধৈর্য্য ধরুন। মাথা ঠান্ডা করুন, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিন। জেদ করে বা রাগের মাথায় কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন না। জেদের সিদ্ধান্ত কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাকে বাকি জীবন অনুশোচনায় কাটাতে হয়। মাথা ঠান্ডা করে আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলুন, তার সাথে আলাপ করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করুন, তারপর সেটা সমাধান করুন।

 (৩) সন্তানদের যত্ন নিন:

সংসারে সন্তান আসবেই এবং তাদের দেখাশোনা করা, ঠিক মতো লালন পালন করে বড় করে তোলা আপনারই দায়িত্ব! তাদেরকে সঠিকভাবে পালন করুন। কখনো তাদের উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেবেন না। শিশু বয়সে একজন মানুষের যে জিনিসটা সবচাইতে নাজুক থাকে, সেটা হল মানসিকতা। সন্তান তার অভিভাবকের কাছ থেকে যা শিখবে, তাই সে করবে।

সন্তানের উপর কখনো রাগ দেখাবেন না। চিৎকার করবেন না, আর গায়ে হাত তোলার তো প্রশ্নই আসে না! এসব আপনার সন্তানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলবে। এটা ঠিক যে সন্তানকে ভুল/সঠিক শেখানো জরুরি, কিন্তু সেটা শেখানোর পথ যেন মারধর কিংবা বকাঝকা না হয়!

আপনার সন্তান আপনাকে দেখেই শিখবে। সুতরাং তার ভবিষ্যতের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঝপথে আবার পরিবর্তন করবেন না। এতে শিশু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যাবে। আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, বড় হয়ে সে সেটাই করবে। তাই মাঝপথে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে বিষয়টা বুঝে উঠতে পারবে না।

(৪) পরিবারে বড়দের এবং বয়স্কদের যত্ন নিন:

প্রতিটি পরিবারেই আপনার চাইতে বয়সে বড় এবং বয়স্ক সদস্য থাকেন। মনে রাখবেন, আপনার বাবা মা, এবং আপনার শ্বশুর শাশুড়ির মধ্যে সম্পর্ক সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। আপনার শ্বশুর শাশুড়ি আপনার থেকে যত্ন আশা করেন। আমাদের সমাজে সবচাইতে সাধারণ ব্যাপার হচ্ছে বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব। এটা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। নিজের যতটুকু সম্ভব তাদের যত্ন নেয়ার চেষ্টা করুন। যতদিন তারা আছেন, তারা যেভাবে চান সেভাবে সংসারের কাজগুলো করার চেষ্টা করুন। তবে লক্ষ্য রাখবেন এতে যাতে আপনার কোন ক্ষতি না হয়। যদি আপনি করতে অপারগ হন, তাহলে তাদেরকে সেটা বুঝিয়ে বলুন। আর যদি কোন কারণে পরিস্থিত প্রতিকূল হয়েই যায়, আপনার সঙ্গীর সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করুন।

(৫) নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হোন:

মনে রাখবেন, আপনার সংসার আপনারই হাতে এবং আপনার সংসার আর আরেকজনের সংসার এর চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। তাই কে, কীভাবে করলো, সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে নিজে কীভাবে করবেন সেদিকে দৃষ্টি দিন। কারো সাথে নিজেকে তুলনা করবেন না। এতে হতাশা ও দ্বিধাবোধ বেশি বাড়ে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ান। “এটা আপনি করতে পারবেন”, এমন মনোভাব রাখুন।

বিয়ের পর একজন নারীকে তার সঙ্গীর সংসারেই বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়। তাই সংসারের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সঠিক পথ অবলম্বন করুন, জীবন অনেক সহজ ও আনন্দময় হয়ে যাবে।

লিখেছেন- ফরহাদ রাকিব

মডেল- রোয়েনা ও নিধি

ছবি- প্রনবেশ দাস

ছবি- ডিজাইনইউরনিউলাইফ ডট কম