মাউথওয়াশের ১০ টি ভিন্নধর্মী ব্যবহার - Shajgoj মাউথওয়াশের ১০ টি ভিন্নধর্মী ব্যবহার - Shajgoj

মাউথওয়াশের ১০ টি ভিন্নধর্মী ব্যবহার

জুন ২১, ২০১৭

নিয়মিত সকাল-রাত দুই বেলা করে ব্রাশ করার পর ও মুখের দুর্গন্ধ কমছে না ? আপনার প্রয়োজন একটি ভালো মানের মাউথওয়াশ ।

মাউথওয়াশ হলো ওষুধ সমৃদ্ধ একটি অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ, যা কুলি করার জন্য ব্যবহৃত হয় । মুখ ও মুখগহ্বরের সংক্রমণ রোধে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে । বিশেষ করে যখন দাঁত ব্রাশ করা সম্ভব হয় না বা সমস্যা হয় । যেমন, অপারেশনের পর যখন কোনো রোগী পূর্ণ বিশ্রামে থাকে, সে সময় মাউথওয়াশ দাঁত ব্রাশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে । অ্যান্টিসেপটিক বা অ্যান্টিপ্ল্যাক মাউথওয়াশ মুখের সেসব জীবাণু ধ্বংস করে যার কারণে মুখের ভেতরে প্ল্যাক, মাড়ির প্রদাহ বা মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে । মাউথওয়াশ শুধু কিন্তু মুখের দুর্গন্ধই দূর করে না, একে আরো নানান কাজে ব্যবহার করা যায় । চলুন তাহলে মাউথওয়াশের এরকম কিছু অজানা ব্যবহার দেখে নেয়া যাক।

মাউথওয়াশের কিছু ভিন্নধর্মী ব্যবহার –

১. পেঁয়াজ , রসুন , মাছ ইত্যাদি কাটার পর অনেক সময়ই আমাদের হাতে গন্ধ থেকে যায় , অনেক সময় সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ধুলেও ঐ গন্ধ সহজে যেতে চায় না । এক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী একটি সমাধান হলো মাউথওয়াশ । অল্প কয়েক ফোঁটা মাউথওয়াশ দুই হাতে নিয়ে ভালো করে মেখে হাত ধুয়ে নিন । ব্যস, দুর্গন্ধ গায়েব ।

২. একটি পাতলা রুমাল জাতীয় কাপড় হালকা ভিজিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা মাউথওয়াশ নিয়ে দুই পায়ে ঘষুন, তারপর পা ধুয়ে ফেলুন । পা দীর্ঘসময় দুর্গন্ধমুক্ত থাকবে ।

৩. ১ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার এবং ১ টেবিল চামচ মাউথওয়াশ একটি পাত্রে নিয়ে মিক্স করুন । গোসলের সময় আপনার রেগুলার শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধোয়ার পর ঐ মিশ্রণটি শুধুমাত্র মাথার তালুতে আস্তে আস্তে লাগান । ৫-১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন । মাউথওয়াশে থাকা অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রোপার্টি মাথার খুশকি এবং ফাংগাল ইনফেকশন দূর করবে ।

৪. আজকাল মশা কামড় দিলে দেখবেন খুব দ্রুত ঐ জায়গাটা ফুলে যায় , লাল হয়ে যায় এবং খুব চুলকায় । বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খুব বেশি হয় এটা যেহেতু তাদের স্কিন খুব সেনসিটিভ । মশার কামড় দেয়া স্থানে মাউথওয়াশে ভেজানো একটা তুলোর বল কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখুন । ফোলা ভাব এবং চুলকানো দুটোই কমে যাবে ।

৫. যদি আপনার বাসায় ফেসিয়াল টোনার শেষ হয়ে যায়, এবং কিনতে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না থাকে, তাহলে মাউথওয়াশকেই টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন । এজন্য একটি তুলোর বলকে মাউথওয়াশে ভিজিয়ে পুরো মুখ আলতো হাতে মুছে নিন । আপনার স্কিনে থাকা অবশিষ্ট মেকআপ এবং বাড়তি তেল পরিষ্কার হয়ে যাবে । তবে আপনার স্কিন যদি কেমিক্যাল সেনসিটিভ হয়ে থাকে তাহলে এ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো ।

৬. যদি আপনি সদ্য নাক/কান/শরীরের অন্য কোন অঙ্গে পিয়ার্স (ফোঁড়ানো) করিয়ে থাকেন, আর যদি বাসায় অন্য কোন অ্যান্টিসেপটিক না থাকে, তাহলে মাউথওয়াশ এক্ষেত্রেও আপনার কাজে দিবে । একটি কটন বলে মাউথওয়াশ লাগিয়ে ফোঁড়ানো স্থানটি দিনে দুই-তিনবার আলতো করে মুছুন । এতে করে ইনফেকশন হবে না এবং জায়গাটা দ্রুত শুকাবে ।

৭. ৪ টেবিল চামচ মাউথওয়াশ আর ৪ টেবিল চামচ পানি মিক্স করে মাথার তালুতে তুলোর বল দিয়ে ঘষে ঘষে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন । তারপর মাথা ধুয়ে ফেলুন। উকুন দূর হবে ।

৮. যেকোন প্লাস্টিক/কাঁচের বোতল বেশ কিছুদিন ব্যবহার করলে তা কেমন যেন দুর্গন্ধময় হয়ে যায় । ২ চা চামচ মাউথওয়াশ আর আধা কাপ পানি বোতলে ঢেলে বোতলের মুখ বন্ধ করে ঝাঁকিয়ে সারারাত রেখে দিন । সকালে উঠে বোতলটি ধুয়ে ফেলুন । ব্যস , দুর্গন্ধ গায়েব ।

৯. এক মগ পানিতে ১ টেবিল চামচ ভিনেগার , কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু আর কয়েক ফোঁটা মাউথওয়াশ মিক্স করে তারমধ্যে মেকআপ ব্রাশ সারারাত ভিজিয়ে রাখুন । সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন । আপনার মেকআপ ব্রাশগুলো একই সাথে ঝকঝকে আর জীবাণুমুক্ত হবে ।

১০. আপনার চশমা, কাঁচের যেকোন জিনিস, আয়নাকে ঝকঝকে করে তোলার জন্য ব্যবহার করুন মাউথওয়াশ । একটি ভেজা সুতি রুমালে কয়েক ফোঁটা মাউথওয়াশ লাগিয়ে চশমা/আয়না/গ্লাস আইটেমে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা । তারপর ঐ রুমালটি ধুয়ে চিপে জিনিসটি মুছে নিন । একদম নতুনের মতো চকচক করবে ।

দৈনন্দিন জীবনযাপনের অনেক ক্ষেত্রেই এসব ছোটখাটো টিপস কাজে লাগে । এরকম আরো টিপস পেতে সাজগোজের সাথেই থাকুন।

ছবি – ন্যাচারালঅয়েঅফহেলথ ডট কম
লিখেছেন – ফারহানা প্রীতি