বয়েস যতই হোক, লাবণ্য থাকুক বজায় – Shajgoj



বয়েস যতই হোক, লাবণ্য থাকুক বজায়


মার্চ ১২, ২০১৭



কে না চায় তারুন্য-দীপ্ত-উজ্জ্বল ত্বক? কিন্তু ঘড়ির কাটার সাথে বয়স ও যেন চুপিসারে এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ করেই একদিন চোখে পরে চোখের পাশের ফাইন লাইন, কুচকে যাওয়া ত্বক বা ছোপ ছোপ দাগ। অনেকের হয়তো সামর্থ্য আছে দামি ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট করিয়ে বয়েসের ছাপ দূর করে ফেলার। কিন্তু আমাদের মত সাধারণ মধ্যবিত্তদের সেই সুযোগ কোথায়। তাই বলে বুঝি বুড়িয়ে যেতে হবে? কে বলেছে সে কথা? মন খারাপ করার কিছু নেই কিন্তু তাতে। কারণ আপনার হাতের কাছেই রয়েছে এমন সব প্রাকৃতিক উপাদান, যার সাহায্যে আপনিও বয়েসের ছাপকে দূরে ঠেলে দিতে পারবেন সহজেই। চলুন জেনে নেই তাহলে।

(১) মধু

এজিং এর প্রথম কথায় চলে আসে রিংকেল এর কথা। আর রিঙ্কল থেকে দূরে থাকতে চাইলে প্রয়োজন ত্বককে যথাযথ ভাবে ময়েশ্চারাইজ করা। ত্বক যদি আদ্র থাকে, তাহলে সেখানে রিংকেল আসে দেরিতে। আর ত্বকের আদ্রতা রক্ষায় মধুর কোনও জুড়ি নেই। এটি ত্বকের ড্যামাজ সারিয়ে তোলে এবং ত্বককে পুনরায় উজ্জীবিত করে তোলে। খুব বেশি ঝামেলায় না যেতে চাইলে ২/৩ চামচ মধু নিয়ে মুখে, গলায়, ঘারে লাগিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটা থেকে ভালো ফল পেতে রোজ করতে পারেন, অথবা একদিন পরপর।

(২) ডিমের সাদা অংশ

ডিমের সাদা অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন এবং জিঙ্ক। যা ত্বককে টানটান ও মসৃণ করে তোলে। এজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, একটি ডিমের কুসুমের সাথে ১ চা চামচ দুধের ক্রিম ও এক চামচ পরিমাণ লেবুর রস মেশাতে হবে। ভালো করে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে তিন দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করুন।

(৩) টক দই  

টক দইতে আছে প্রচুর পরিমাণে রিংকেল প্রতিরোধকারি উপাদান। যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম, যা আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় রেখে ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও টক দইয়ের ল্যাকটিক এসিড ত্বকের পোরসগুলোকে সঙ্কুচিত করে ত্বককে টানটান করতে সাহায্য করে। এজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো- ২ চা চামচ টক দই, এক চামচ মধু ও এক চা চামচ লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিয়ে এতে মেশাতে হবে এক চিমটি হলুদ। এরপরে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিয়ে খুব সাবধানে এর উপর থেকে সামান্য কেটে নিয়ে তেলটুকু আগে বানানো প্যাকের সাথে মেশাতে হবে। এই প্যাকটি মুখে, গলার ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এরপরে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। কার্যকরী ফলাফল পেতে এই প্যাকটি সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করুন।

(৪) গোলাপ জল

ত্বকের যত্নে গোলাপজলের উপকারিতার শেষ নেই। এর রয়েছে রিজুভিনেটিং উপাদান। খুব সহজেই এটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। একটি বাটিতে ২ চা চামচ গোলাপজল, ১/২ চাচামচ লেবুর রস আর কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপরে একটি তুলার বলের সাহায্যে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। এই প্যাকটি রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিস্কার করে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করে শুয়ে পড়ুন। পানি দিয়ে ধোয়ার কোনও দরকার নেই। সারা রাত এটি আপনার ত্বকের ওপর কাজ করবে।

(৫) নারকেলের দুধ

নারকেলের দুধে আছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা ত্বকের রিংকেল রোধ করতে খুবই কার্যকরী। ২-৩ চামচ নারকেলের দুধ  নিয়ে একটি তুলোর বলের সাহায্যে পুরো মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন। বিশ মিনিট অপেক্ষা করে ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে পারেন।

(৬) কলা

হাতের কাছে পাওয়া এই ফলটি আপনার ত্বকে অসাধারণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ছোট একটি পাকা কলা নিয়ে ভালো করে চটকে নিন। এবার এর সাথে মেশান এক চামমচ গোলাপজল, এক চামচ মধু ও এক চামচ টক দই। মিশ্রণটি একটু সময় নিয়ে ভালো করে একটি পেস্টের মতো তৈরি করতে হবে। এরপরে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপরে ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করলেই দেখবেন ত্বকে লক্ষ্য করার মত পরিবর্তন এসেছে।

উপরে উল্লেখিত প্যাকগুলো নিয়মিত ব্যবহার করুন। তবে কেমিক্যাল প্রোডাক্ট এর মতো এগুলো রাতারাতি পরিবর্তন এনে দেবেনা। ধৈর্য ধরে ২/৩ মাস ব্যবহার করুন। তবেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে।

ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।

 ছবি – পিক্সাবে ডট কম

 লিখেছেন – মাহবুবা বীথি