ব্যারিয়ার মেথড-কনডম: বেস্ট অপশন – Shajgoj



ব্যারিয়ার মেথড-কনডম: বেস্ট অপশন


সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮



সুন্দর একটি সম্পর্কের শুরুটা নিরাপদে হোক এটাই সবার কাম্য থাকে। শুধু শুরুতেই নয়, এই সেফটি-টা দরকার হয় সব সময় সুস্থ জীবনযাপনের জন্য। ভালোবেসে যখন প্রিয় মানুষটার কাছে যাচ্ছেন, একবারও ভাবেন কি, শারীরিক সম্পর্কটা আদৌ নিরাপদ হচ্ছে কি না? সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এস.টি.ডি.) বা যৌনবাহিত রোগের সাথে কতটুকুই বা পরিচিত আপনি? হয়তো আপনি জানেন, অথচ অনেকেই কিন্তু এই টার্ম-এর সাথে পরিচিত নন। এই এস.টি.ডি.-এর তালিকায় এইডস ভয়াবহ একটি নাম। HIV ভাইরাস (যার দ্বারা এই রোগটি হয়) অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের দ্বারা খুব সহজেই ছড়ায়।

এস.টি.ডি.- থেকে বাঁচার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের নানান পদ্ধতির মধ্যে দারুণ একটি হচ্ছে ব্যারিয়ার মেথড। এই পদ্ধতিতে একজন পুরুষ ও নারীর যৌন মিলনের সময় পুরুষের স্পার্ম নারীর ভ্যাজাইনা হয়ে ডিম্বাণুতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে  এটি অনেক ধরনের হয় যেমন- স্পার্মিসাইড (কেমিক্যাল-টি স্পার্ম-কে ইন্যাক্টিভ করে দেয়), ডায়াফ্রাম ল্যাটেক্স বা সিলিকন-এর তৈরি ছোট জিনিস যা ভ্যাজাইনা-এ বসিয়ে সার্ভিক্স ঢাকা হয় এবং স্পার্মিসাইড-এর সাথে ব্যবহার করতে হয়), স্পঞ্জ (নরম ফোম-এ তৈরি জিনিস যাতে স্পার্মিসাইড থাকে, ভ্যাজাইনা-তে পরানো হয় ফলে স্পার্ম ঢুকতে পারে না), সার্ভিক্যাল ক্যাপ (প্লাস্টিক ক্যাপ টাইপ যা সার্ভিক্স-এর উপর টাইট করে লাগানো থাকে, যা শুক্রাণুর প্রবেশে বাধা দেয়) এবং কনডম (ল্যাটেক্স বা পলিইউরেথেইন দিয়ে তৈরি শিথ যা পুরুষের যৌনাঙ্গে পড়ানো হয়, এতে যৌন মিলনের সময় শুক্রাণু ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না)। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কনডম বাদে বাকি গুলোতে HIV সংক্রমণসহ এস.টি.ডি.-এর ঝুঁকি থেকে যায়। কনডমকে বলা হয় একমাত্র ব্যারিয়ার মেথোড যা কিনা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকালে স্কিন-টু-স্কিন কনটাক্ট-এ নিঃসরিত বডি ফ্লুয়িড-গুলোতে থাকা ক্লেমিডিয়া, গনোরিয়া ও HIV ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত এস.টি.ডি.- কে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

কেন কনডম সেরা পদ্ধতি

  • এটি খুব সহজ ও সুলভ পদ্ধতি।
  • এর কোন মেডিসিন্যাল সাইড ইফেক্ট নেই।
  • হরমোন-ফ্রি এবং অ্যাভেইলেবল।

আমি আমার পার্টনার-কে বিশ্বাস করি! তো কনডম কেন ব্যবহার করবো?

আমি অনেককেই বলতে শুনেছি, “কনডম ব্যবহার করলে সেক্সুয়াল স্যাটিসফেকশন-টা পাওয়া যায় না”! অথবা এও শুনেছি- “ওসব কনডম ব্যবহার ঝামেলার কাজ, তাই বউকে পিল খাইয়ে দেই!” এ ধরনের অর্থহীন চিন্তাভাবনা ও অ্যাকশন একইসাথে অধিক সন্তান জন্ম, সন্তান জন্ম দেয়ার শক্তি হ্রাসসহ যৌনবাহিত রোগগুলোর বিস্তার ঘটায়।

এমনকি যতই দু’জন দু’জনের বিশ্বস্ত হন না কেন, কনডম ব্যবহার কিন্তু আবশ্যক! এখন প্রশ্ন হচ্ছে- কেন?

  • প্রথম থেকেই বলছি, এস.টি.ডি.-কে প্রতিরোধ করার অস্ত্র এটি! শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলন যেহেতু হতে পারে না, তাই এইডস-এর মত যৌনবাহিত রোগগুলো হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না।
  • আনওয়ান্টেড প্রেগনেন্সি ৯৯.৭% নিশ্চয়তার সাথে প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই ব্যারিয়ার মেথড-টি।
  • অন্যান্য ব্যারিয়ার মেথড-গুলোতে অনেকের অ্যালার্জি-এর প্রবলেম থাকতে পারে। কিন্তু কনডম-এ এই প্রবলেম নেই। বিভিন্ন সাইজ-এ পাওয়া যায়। লুব্রিকেশন থাকে যা সেনসেশন-টা বজায় রাখে।

অনেকে শুনেছি বলে, “প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আবার কনডম কেন ব্যবহার করবো?” আচ্ছা বলুন তো, প্রেগন্যান্ট হলে কি সেক্সুয়াল পিরিওড-এ বডি ফ্লুইড ট্র্যান্সফার বন্ধ হয়ে যায়?- না! তার মানে কি দাঁড়ালো? এস.টি.ডি. হওয়ার শতভাগ চ্যান্স থেকে যাচ্ছে!! মা ও শিশুর জীবনের ঝুঁকিটাও তখন শতভাগ থাকছে! তাই অবশ্যই প্রেগন্যান্সি-এর সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকালে কনডম ব্যবহার বাঞ্ছনীয়।

তবে কনডম ব্যবহারটাও সঠিক নিয়মে হওয়া চাই। যেহেতু এটা ব্যবহারটা সহজ, তাই এটাকে ব্যবহারকারীরা প্রেফার-ও করে বেশি। জীবনটাকে সুন্দর করে কাটানোটা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু সুস্থতা ছাড়া এই সুন্দর জীবন পাওয়াও সম্ভব নয়। আপনার একটি অসাবধানতা আপনাকে এনে দিতে পারে অনেকদিনের ধুঁকে ধুঁকে বিষাদময় মৃত্যুর কষ্ট। কি দরকার বলুন এর? তাই নিজে বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচান।

 

লিখেছেন: ডাঃ মারিহা আলম চৌধুরী

ছবি- এসজি.নিউজ.ইয়াহু.কমপিন্টারেস্ট.কম