কন্ডিশনারের বিস্ময়কর ৮ টি ব্যবহার – Shajgoj



কন্ডিশনারের বিস্ময়কর ৮ টি ব্যবহার


সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮



কন্ডিশনার আমাদের নরম, হাইড্রেটেড চুল পেতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু ব্যবহার করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার না করলে চুলে একটা খসখসে ভাব যেন থেকেই যায় সেটা যত স্মুদ আর শাইনি চুলই হোক না কেন। তবে চুলের যত্ন ছাড়াও কন্ডিশনার যে আরো বিস্ময়কর কিছু কাজে ব্যবহার করা যায় সেটা হয়তো অনেকেই জানেন না। হ্যা, কন্ডিশনারের এমন কিছু অদ্ভুত ব্যবহার রয়েছে যা জানলে সত্যিই আপনি খুব অবাক হবেন। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক কন্ডিশনারের ৮ টি ভিন্নধর্মী ব্যবহার সম্পর্কে।

 

১. মেকআপ রিমোভার

মেকআপ রিমোভার হিসেবে আপনি কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, সর্বদা এটি ইউজ করার কথা কিন্তু বলছি না। এমন যদি কখনো হয় যে আপনি কোথাও ভ্রমণে বেরিয়েছেন এবং সাথে করে আপনার মেকআপ রিমুভার কিট নিয়ে যেতে ভুলে গেছেন তখন আপনি চাইলে মেকআপ মোছার জন্য কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে একটি তুলোর বল নিয়ে তার উপর এক ড্রপ কন্ডিশনার নিন এবং পুরো মেকআপ-এর সাহায্যে আস্তে আস্তে মুছে নিন। তারপর ভালো কোন ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

২. জিপার আটকে গেলে

মাঝেমধ্যে শার্ট বা প্যান্টের জিপার হঠাৎ করেই আটকে যায় এবং সহজে খুলতে চায় না। এক্ষেত্রে সহজ সমাধান হিসেবে আপনি ইউজ করতে পারেন আপনার হাতের কাছে থাকা কন্ডিশনার। এটি পিচ্ছিল তাই খুব সহজে এটি কোন রাফ জিনিস খোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। জিপার আটকে গেলে এর মধ্যে অল্প একটু কন্ডিশনার লাগিয়ে উপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে উপরে কয়েকবার করুন। জিপার ইজি হয়ে যাবে।

৩. স্বাস্থ্যকর নখের জন্য

ম্যানিকিউর করার আগে আপনার নখের চারপাশে ক্রিম-এর মত করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে করে নখের চারপাশের ত্বক হাইড্রেটেড থাকবে। অথবা এক্সট্রা টাকা খরচ না করে আপনি চাইলে কিন্তু শুধু কন্ডিশনার দিয়েও আপনার ম্যানিকিউর সেরে নিতে পারেন। এতে নখের ত্বক ও ভালো থাকবে, আর আপনার টাকাও।

৪. পরিষ্কার এবং নরম ব্রাশের জন্য

মেকআপ কিট-এর ব্রাশগুলো কিছুদিন পরেই রুক্ষ এবং নোংরা হয়ে যায়। একই ব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভয়ানক সংক্রমণ হতে পারে। আর এগুলো সাবান দিয়ে ধুলে আরো বেশি রাফ হয়ে যায় যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার করার জন্য এবং সেগুলো কে নরম রাখতে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ব্রাশ-গুলো পরিষ্কারও হবে আবার সফট-ও থাকবে।

৫. ব্যান্ড -এইড রিমোভার

আমরা সবাই জানি যে ব্যান্ড-এইড কতটা অপ্রীতিকর ও বেদনাদায়ক। তাড়াহুড়ো করে এটি খুলতে গেলে খুব যন্ত্রণা পেতে হয় সবার। তাই যে কোন ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ বা ব্যান্ড-এইড খোলার সময় যদি এর চারপাশে কিছুটা পানি আর কন্ডিশনার মিক্স করে লাগানো হয় তাহলে ব্যান্ডেজ খোলার যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে। বিশেষত কোন সংবেদশীল এড়িয়া হলে তো অবশ্যই কন্ডিশনার ট্রাই করা উচিত।

৬. শেভিং ক্রিম হিসেবে

শেভিং ক্রিম হিসেবেও কন্ডিশনার দারুণ কাজ করে। শেভিং ক্রিম-এর বদলে মাঝে মধ্যে কন্ডিশনার ইউজ করে দেখতে পারেন, দেখবেন শেভিং ক্রিম এবং কন্ডিশনার-এর মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পাবেন না। এটি ত্বককে করবে নরম এবং মসৃণ।

৭. স্টাক রিংস রিমোভার

কখনো কখনো একই রিং অনেকদিন থেকে আঙুলে পরে থাকতে থাকতে সেটা এতটাই আঙুলের সাথে আটকে যায় যে রিং-টা আঙুল থেকে খোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে রিং খোলার সমাধান হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার। অল্প একটু কন্ডিশনার নিয়ে জাস্ট রিং-টার চারপাশে লাগিয়ে নিন তারপর আস্তে আস্তে খোলার চেষ্টা করুন। দেখবেন খুব সহজেই আপনার আঙুলের আটকে যাওয়া রিং খুলে আসবে।

৮. স্টেইনলেস স্টিল-কে ঝকঝকে করতে

আপনার বাসায় থাকা রেফ্রিজারেটর, স্টোভ ইত্যাদি বহুদিন ব্যবহারের ফলে এগুলোর মধ্যে পুরোনো ভাব চলে আসে এবং দেখতে মলিন দেখায় তাই এগুলো এক নিমেষেই ঝকঝকে করতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন কন্ডিশনার। এক মগ পানিতে ১ টেবিল চামচ কন্ডিশনার মিশিয়ে নিন। তারপর নরম কোন কাপড় দিয়ে ভালোভাবে স্টিলের জিনিসপত্র গুলো মুছে নিন। দেখবেন আগের চাইতে অনেকটা ঝকঝকে হয়ে গেছে স্টিলের জিনিসগুলো।

এগুলো ছাড়াও কন্ডিশনারের আরো অনেক বিস্ময়কর ব্যবহার রয়েছে যেমন- জং ধরা ধাতব যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করা, সিল্কের কাপর ওয়াশ করা, গোসলের পানিতে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে যোগ করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবে নানা গুণের কন্ডিশনার-কে শুধু চুলের যত্নে ব্যবহার না করে আরো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন খুব সহজেই।

 

লিখেছেন- নাইমা আক্তার

ছবি- টুইটার.কম