প্যারেন্টিং টিপস ফর গিফটেড চাইল্ড – Shajgoj



প্যারেন্টিং টিপস ফর গিফটেড চাইল্ড


অগাস্ট ২৮, ২০১৮



প্রতিবন্ধী শিশুকে আমি বলি গিফটেড চাইল্ড। কীভাবে সুন্দরভাবে বড় করে তুলবো তাকে? গিফটেড চাইল্ড-দের বড় করে তোলা মোটেই সহজ নয়। তাই আপনাদের সুবিদার্থে এই লেখায় এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, যা মেনে চললে তাদেরকে আর সকলের মত সুন্দর করে বড় করে তুলতে কিছুটা হলেও সাহায্য হবে আশা করছি। প্রতিবন্ধকতা এক ধরনের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার, যাতে আক্রান্ত বাচ্চা ঠিকমতো কথা বলতে বা সাধারণ বাচ্চাদের মতো বেড়ে উঠতে পারে না। তবে জন্ম থেকেই বাচ্চার এমন অ্যাবনরমালিটি দেখা দেবে, এমন নয়। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ৩ বছরের পর থেকে প্রকাশ পেতে শুরু করে নানা অসুবিধা। যেমন, বাচ্চা ঠিক মতো কথা বলতে পারে না, অনেক সময় চলাফেরা করতেও অসুবিধা দেখা দেয় ইত্যাদি।

সাধারণত জিনগত কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। অনেক কারণে এমনটা হতে পারে। যেমন প্রেগনেন্সি-এর সময় জটিলতা, অপুষ্টি, ক্রোমোজোনাল অ্যাবনরমালিটি প্রভৃতি। প্রতিবন্ধী শিশুদের অনেক সময় দৈনন্দিন কাজকর্ম ঠিকমতো করতে সমস্যা হয়। কারণ ছোটবেলা থেকে কোনও কিছু শেখার ক্ষমতাই তাদের থাকে না। তাইতো বাবা-মায়েদের এমন কিছু গুণ থাকতে হয়, যাতে বাচ্চারা বিনা অসুবিধায় বড় হয়ে উঠতে পারে। আজকের এই লেখায় এমন কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যা বাবা-মায়েদের এমন পরিস্থিতিতে অনেক সাহায্য় করতে পারে।

 

  • প্রথম থেকেই আপনার বাচ্চার প্রতিবন্ধকতাকে মেনে নিন। এমনটা করলে দেখবেন মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে।
  • আপনার বাচ্চা অনেক ধরনের আবদার করবে। সব হয়তো মেনে নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভবও হবে না, কিন্তু মাথা ঠাণ্ডা রাখবেন। ভুলে যাবেন না সে অনেক কিছুই না বুঝে করছে। সেই সঙ্গে আপনার বাচ্চার কী কী ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে তা জানার চেষ্টা করবেন।
  • প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশোনার জন্য় বিশেষ স্কুল আছে। সেখানে বাচ্চাকে ভর্তি করে দিন। স্কুলে ভর্তি করে দিলেই কিন্তু আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সে যাতে ঠিক মতো স্পেশাল কেয়ার পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে কিন্তু!
  • তাদের রাস্তা-ঘাটে অনেকে উত্যক্ত করে। এদিকে বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ প্রতিবন্ধী শিশুরা তাদের রাগ বা দুঃখ প্রকাশ করতে পারে না।
  • নিদিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বাচ্চাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন। ঠিকমতো চিকিৎসা পেলে দেখবেন তার রোগের লক্ষণ অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
  • প্রতিবন্ধী বাচ্চা যাদের রয়েছে তারা আরেকটি বাচ্চা নেওয়ার আগে ভালো করে ভাববেন। কারণ অ্যাবনরমাল বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে অনেকটা সময় চলে যায়। তাই আরেক জন বাচ্চাকে বড়ে করে তোলার মতো সময় আপনার হাতে আছে কিনা, তা দেখে নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন।
  • আপনার বাচ্চাকে কখনই মনে হতে দেবেন না যে সে আর পাঁচ জনের মতো নয়। প্রতিদিন তাকে সময় দিন। তার কথা শুনুন। খেলাধুলো করেন। এমনটা করলে দেখবেন হাজারো অসুবিধা সত্ত্বেও  আপনার বাচ্চার মধ্য়ে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার আশা জন্মাবে।

মনে রাখবেন, সকল শিশুই এক। সকল শিশুই প্রভুর অসাধারণ সুন্দর উপহার। তাই সকলেরই সুন্দরভাবে ভালোবাসায় বেঁচে থাকার সমঅধিকার আছে।কাউকেই অবহেলায় রাখবেন না। ভালোবাসুন আপনার সন্তানকে।

 

লিখেছেন- লিন্নি

ছবি- ম্যাপকোয়েস্ট.কম