ইদ-উল-আযহা স্পেশাল দিনের ও রাতেরবেলার মেকআপ


ইদের দিন সকাল থেকে কত কাজ। মাংস, মেহমান, রান্না-আরো কত কি দায়িত্ব। এত কিছু সামলিয়ে কখন একটু সাজবো? আর কিভাবে সাজবো?? আবার ইদ বলে কথা, একটু সাজুগুজু না করলেও নিজের কাছে কেমন একটা লাগে।

হুম। অনেকের মনে এখন থেকেই এই চিন্তা চলে এসেছে। কখন সাজব? কিভাবে কম সময়ে সকালে সাজব? কেমন করে সাজলে ভালো লাগবে? রাতের দাওয়াতে কেমন সাজ দিব? সব মিলিয়ে হাজারো প্রশ্ন!

যে সব আপুরা ইদের দিনে ব্যস্ত থাকেন না খুব একটা। তারা তো মন ভরে সাজুগুজু করতেই পারবেন। আর যারা ব্যস্ত, তাদের চিন্তার শেষ নেই। তো চলুন, আজকে জেনে নেই ইদের দিন এবং রাতের মেকআপ কেমন হওয়া চাই?

 

দিনের বেলার মেকআপ

  • দিনের বেলা বেশীরভাগ নারীরই বাসায় কাজ থাকার ফলে, তারা চটজলদি কীভাবে কি করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করেন। তো দিনের শুরুতে, মুখ ভালোমতো ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। আগের রাতে স্ক্রাবিং এবং একটা ফেস মাস্ক/ শীট মাস্ক লাগিয়ে নিন। কারণ, সকালে এসব করার সময় পাবেন না। ফেস ক্লিন করার পরে টোনার, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন লাগিয়ে ফেলুন।
  • এরপর মেকআপ শুরু করুন। প্রথমে আপনার স্কিন অনুযায়ী পছন্দের প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এরপর, ফেস এ কোনো স্পট অথবা ডার্ক সার্কেল থাকলে কালার কারেক্টর ইউজ করুন। কীভাবে বুঝবেন কোন কারেক্টর আপনার স্কিনটোন-কে ম্যাচ করবে? “কালার কারেক্টর কি রঙে কি ঢাকি?”-এই ভিডিও-টিতে জানবতে পারবেন ডিটেইলস। আংগুলের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন।
  • এই গরমে আর সারাদিনের কাজের মধ্যে ফাউন্ডেশন-টাকে আমার কাছে বেশী ভারীই মনে হয়। তাই দিনের বেলার জন্য ফাউন্ডেশন একদম বাদ দিয়ে দিন। ব্যবহার করুন বিবি ক্রিম। বিবি ক্রিম-টা মুখে লাগিয়ে হাত দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। অনেকেই চান ফেইস-এ ফ্রেশ ভাব আনার জন্য ক্রিম হাইলাইটিং করতে। তবে দিনের বেলায় এটা না করলেও চলে। একান্তই চাইলে আর সময় থাকলে আপনি করে নিতে পারেন।
  • ফেইস-টা সেট করে নিন লুজ পাউডার-এর সাহায্যে। ফেইস পাউডার থেকে লুজ পাউডার অনেক ফাইন এবং লাইটওয়েট হয়। যার কারণে লুজ পাউডার-ই বেস্ট হবে ইদের দিনের জন্য।
  • দিনের বেলা হার্শ কন্ট্যুরিং না করে ব্রোঞ্জার লাগিয়ে নিন। গালের দুই পাশে, কপালে, থুতনির নিচের দিকে। আবার চাইলে বাদও দিতে পারেন। কিন্তু দিনের বেলায় ব্লাশ একদম মাস্ট। কারণ এটা ফেইস-এ একটা হেলদি গ্লো যোগ করতে সাহায্য করবে। অল্প করে পাউডার হাইলাইটারও লাগিয়ে নিন চিকবোন, নাকের উপরে, কপালে, থুতনিতে।
  • আইমেকাপ-এর জন্যে বলব, একদম সিম্পল রাখাটাই বেস্ট হবে। আইব্রো-টা ন্যাচারাল ভাবে এঁকে নিন। চোখে কাজল অথবা আইলাইনার লাগিয়ে নিন। কিন্তু মাশকারা লাগাতে একদম ভুলবেন না যেন।
  • এবার আসি লিপস্টিক-এ। দিনের বেলা কিন্তু বার বার লিপস্টিক লাগানো সম্ভব হবে না। একবার লিপস্টিক লাগালে সেটা যেন সারাদিন থাকে। তাই লং লাস্টিং লিকুইড লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। কালার হিসেবে বেছে নিন- পিংক, মভ, ব্রাউন, ব্রাউনিশ পিংক, ন্যুড, পিচ, কোরাল ইত্যাদি।

রাতের বেলার মেকআপ

  • রাতের মেকআপ শুরুর আগেও ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং করে নিন। স্কিনকে এভাবে প্রিপেয়ার করে নেওয়ার পরে ফেইস-এ একটা ভালো মানের প্রাইমার লাগান। ফেইস-এ পোর থাকলে পোর মিনিমাইজিং প্রাইমার লাগাতে পারেন।
  • এবার দিনের বেলার মতই ডার্ক সার্কেল এবং স্পট ঢাকতে কালার কারেক্টিং করে নিন। এবার পালা ফাউন্ডেশন-এর। যে কোনো অকেশন-এ সবসময় ফুল কভারেজ  ফাউন্ডেশন-ই বেস্ট। কারণ, মেকআপ মানেই লেয়ারের পর লেয়ার ফাউন্ডেশন, আমার কাছে একদমই ভালো লাগে না। ফাউন্ডেশন ফুল কভারেজ হলে পরিমাণে কম লাগে, ভালো কভারেজ পাওয়া যায় এবং ফেইস-এর দাগ ঢাকতে এক্সট্রা করে কন্সিলার-এর প্রয়োজন হয় না। আপনার স্কিনের শেডের সাথে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন লাগাবেন এবং একটি ড্যাম্প বিউটি স্পঞ্জ/ব্রাশ-এর সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিবেন। তবে হ্যাঁ, শুধু মুখে ফাউন্ডেশন লাগালেই হবে না। আপনার গলা-ঘাড় এবং কান বাদ দিবেন না যেন। নয়ত মুখ, গলা, কান আনইভেন দেখা যেতে পারে।
  • রাতের বেলার জন্যে অনায়াসে ক্রিম হাইলাইটিং করতে পারেন। এর জন্যে আপনার স্কিন-এর থেকে ২-৩ শেড লাইট একটা কন্সিলার নিয়ে আপনার চোখের নিচে, কপালে, নাকের উপরে, থুতনিতে, কন্ট্যুরিং  লাইনের নিচের দিকে লাগিয়ে নিন।  কন্সিলার-টি ব্রাশ/বিউটি স্পঞ্জ-এর সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন।
  • এবার সেইম দিনের বেলার মত পুরো ফেইস লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। চাইলে বেকিং-ও করতে পারেন।
  • এবার ফেইস-টা স্লিম এবং শার্প দেখাতে পাউডার কন্ট্যুর করে নিন। চিকস-এর নিচে, কপালে হেয়ার লাইনে, নাকের দুই পাশে, থুতনির নিচে কন্ট্যুর করে নিন এবং ব্লেন্ড করে নিন। ব্লাশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পিংক, কোরাল, অরেঞ্জ, ব্রাউন, মভ, পিচ ইত্যাদি কালার।
  • ইদে হাইলাইটার লাগাবো না? তা কি করে হয়? হাইলাইটার ব্রাশের সাহায্যে পাউডার হাইলাইটার নিয়ে চিক বোনে, কপালে, আইব্রো বোনে, আইব্রো-এর উপরের দিকে, নাকের উপরে, থুতনিতে এবং ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন।
  • বেইজ মেকাপের শেষে এবং পুরো মেকআপ শেষ করার পর আরো একবার অবশ্যই মেকআপ সেটিং স্প্রে লাগিয়ে নিবেন।
  • আই মেকআপ-এর শুরুতে আইব্রো-গুলো একটু ড্রামাটিক-ভাবেই এঁকে নিন। এবার আপনার হাইলাইটিং কন্সিলার-টি দিয়ে আইব্রো-এর চারদিকে লাগিয়ে আইব্রো ডিফাইন করে নিন। এতে দেখতে বেশ সুন্দর লাগবে।
  • আই মেকআপ হিসেবে আপনি  কাট ক্রিজ, হাফ কাট ক্রিজ, গ্লিটারি আইমেকআপ, স্মোকি, গ্লিটার কাট ক্রিজ, হ্যালো স্মোকি আই, স্পটলাইট আইমেকআপ ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। দেখতে বেশ ভালো এবং ট্রেন্ডি লাগবে। আইশ্যাডো হিসেবে বেছে নিন – ব্রাউন, রেড, ব্লু, গ্রিন, পিচ, কোরাল, ইয়েলো, পিংক, পার্পল, গোল্ডেন, সিলভার, রোজ গোল্ড, অরেঞ্জ, কপার, শ্যাম্পেইন, পার্ল,  ব্রোঞ্জি, ব্ল্যাক ইত্যাদি কালার। আইলাইনার, মাশকারা, কাজল লাগিয়ে নিন মনমতো। চাইলে লেন্স এবং ফলস আইল্যাশও পড়তে পারেন।
  • রাতের বেলা লিপস্টিক হিসেবে আপনার পছন্দসই যে কোনো ডার্ক কালার বেছে নিতে পারেন। যেমন- রেড, ব্রাউন, ম্যাজেন্টা, পার্পল, বারগেন্ডি ইত্যাদি। আবার লাইট কালার-গুলো যেমন- ন্যুড, কোরাল, পিংকিস ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি কালার-ও লাগাতে পারবেন। লিপগ্লস-ও কিন্তু বেশ ভালো লাগবে রাতের বেলায়।

এই তো জেনে নিলেন, কেমন হতে পারে এবার ইদের দিনের এবং রাতের বেলার মেকআপ। আশা করি আপনাদের হেল্প হবে। সবাইকে ইদের শুভেচ্ছা।

 

লিখেছেন- জান্নাতুল মৌ