চুলের রূক্ষতা দূর করতে হেয়ার মাস্ক – Shajgoj



চুলের রূক্ষতা দূর করতে হেয়ার মাস্ক


অগাস্ট ৮, ২০১৮



একটি শিশুর ন্যায় আমরা প্রায়ই এই সব প্রশ্ন অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াই। কিসে চুল ক্ষতি হয়? এই সমস্যা কি নারী ও পুরুষের ভিন্ন ভিন্ন হয়? প্রাকৃতিক উপাদান ও ঘরোয়া চুলের মাস্ক কি ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে? আসুন এক একটি করে প্রশ্নগুলিতে নজর দিই। যদিও, আপনার চুল প্রধানত আপনার জেনেটিক গঠনের উপর নির্ভর করে, তবুও কিছু কারণে আপনার চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিকূল দ্রব্য, এন্ড্রোজেন-এর মাত্রা বৃদ্ধি, ঔষধ, মানসিক চাপ ইত্যাদি চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পুরুষেরা সাধারণত মাথার পিছনের ও কপালের কাছে চুল পড়ে যাবার সমস্যার সম্মুখীন হন কিন্তু মহিলারা সাধারণত চুলের সামগ্রিক আয়তনের হ্রাস অনুভব করে থাকেন। আর, হ্যাঁ, ঘরোয়া চুলের মাস্ক-এ আপনি আপনার চুলকে মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলের বীজকোষ পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন। মনে রাখবেন যে, যদিও কার্যকরী তবুও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য এই ভেষজ চুল মাস্ক অবিলম্বে ফলাফল দেবে না। অগ্রগতি ধীর এবং অবিচলিত হলেও এর ফলাফল দেখতে পাবেন। সর্বোপরি নিস্তেজ চুলের জন্য এই ঘরোয়া চুলের মাস্ক-এ ১০০% জৈব এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ। সুতরাং, নিস্তেজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুল পুনরুজ্জীবিত করার পাঁচটি প্রাচীন ভেষজ চুলের মাস্ক-এ চোখ রাখুন!

 

১. আপনার চুল প্রায় আশি শতাংশ কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরী যা আপনার চুলের স্থিতিস্থাপকতা, শক্তি এবং বুনোট নির্ধারণ করে। এজন্য প্রোটিনে ভরপুর ডিম একটি চমৎকার উপাদান ঘরোয়া মাস্ক তৈরিতে।

উপকরণ:

  • একটি ডিমের সাদা অংশ
  • এক টেবিল চামচ নারকেল তেল
  • মধু এক চা চামচ

প্রণালী: কুসুম থেকে ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে নিন। মধু ও নারকেল তেল মিশিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ভিজে চুলে খুব ভালো করে লাগিয়ে নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে মালিশ করুন এবং তারপর একটি গরম তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে নিন। কুড়ি মিনিট রেখে দিন মাথার ত্বককে তার পুষ্টি শোষণ করে নিতে। ভালো করে মাথা ধুয়ে নিয়ে আলতো করে মুছে নিন। আপনার জানা কোনো রাসায়নিকমুক্ত প্রাচীন ভেষজ হেয়ার মাস্ক রেসিপি থাকলে, আমাদের নিচের মন্তব্য বিভাগে লিখুন!

২. মেথিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে যা চুল স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করে এবং চুলের ভাঙ্গন রোধ করে। এছাড়াও এতে ভিটামিন সি, লৌহ এবং লিকিথিন আছে যা চুলের বীজকোষগুলোতে পুষ্টি যোগায় ও শক্তিশালী করে।

উপকরণ:

  • দুই টেবিল চামচ মেথি বীজ
  • আধ কাপ টক দই
  • এক টেবিল চামচ নারকেল তেল

প্রণালী: এক কাপ পানিতে সারারাত মেথি ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে মেথি পিষুন। এতে নারকেল তেল ও টক দই যোগ করুন। এই মাস্কটি মাথার ত্বকে ও চুলের প্রান্তে প্রয়োগ করুন ও ৩০ মিনিটের মতো রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৩. ঘৃতকুমারী জেল অতিরিক্ত আদ্রতা আপনার চুলকে শুষ্ক করে দেয়। ঘৃতকুমারী, এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আদ্রতা বজায় রেখে আপনার চুলকে ভেতর থেকে সজীব রাখে।

উপকরণ:

  • ঘৃতকুমারী জেল তিন টেবিল চামচ
  • নারকেল তেল তিন টেবিল চামচ

প্রণালী: একটি বাটির মধ্যে সব উপাদান ঢেলে ভালো করে মেশান। আপনার চুল ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে নিন। গভীর ও দ্রুত মাথার ত্বকে প্রবেশ করার জন্য মাথায় একটি গরম তোয়ালে জড়িয়ে নিতে পারেন। ৩০ মিনিট বসতে দিয়ে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

#দ্রষ্টব্য: উল্লেখিত নির্দিষ্ট পরিমাণ কাঁধ পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের চুলের জন্য যথেষ্ট। লম্বা চুলের জন্য উপাদানগুলোর পরিমাণ দ্বিগুণ করুন।

৪. শিকাকাই গুঁড়োর ছত্রাক বিরুদ্ধ-বৈশিষ্ট মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে, স্তরপূর্ণ খুশকি দূর করে, ত্বকের ছিদ্র পরিষ্কার রাখে এবং গভীর থেকে চুলের পুষ্টি যোগায়।

উপকরণ:

  • শিকাকাই গুঁড়ো এক টেবিল চামচ
  • নারকেল তেল এক কাপ

প্রণালী: একটি বোতলের মধ্যে নারকেল তেল ঢেলে শিকাকাই গুঁড়ো মেশান। ভালো করে ঝাঁকিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য সরিয়ে রাখুন। দুই সপ্তাহের পর আপনার এই শিকাকাই তেল ব্যবহারযোগ্য হবে।

৫. ওটস আরো একটি প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক যাতে ভিটামিন-বি ভরপুর আছে এবং যেটা চুলের বীজকোষগুলোর আদ্রতা বজায় রেখে চুলকে আরো প্রাণবন্ত করে। আর তার ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বক পরিষ্কার ও চুলকানি প্রশমিত করে।

উপকরণ:

  • আধ কাপ ওটস
  • দুই টেবিল চামচ নারকেল তেল
  • আধ কাপ দুধ

প্রণালী: সব উপাদানগুলো মেশান। আপনার মাথার ত্বকে ও চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। এই উপাদানগুলো কাঁধের দৈর্ঘ্যের চুলের জন্য যথেষ্ট। চুল আরো বড় হলে উপাদানগুলোর পরিমাণ দ্বিগুণ করুন।মাস্ক-টি কুড়ি মিনিট বসতে দিয়ে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

এইতো জেনে নিলেন কয়েকটি প্রয়োজনীয় হেয়ার মাস্ক-এর কথা। তাহলে শুরু করে দিন চুলের যত্ন নেয়া। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

 

লিখেছেন- লিন্নি