অন্যান্য, নারীত্ব, সম্পাদকের পছন্দ

‘গৃহিণী’ নাকি ‘কর্মজীবী’ নারী? সমাজ কি চায়?

ক্লাস থ্রিতে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছি তখন। মনে পড়ে, যেদিন প্রথম ক্লাসে গেলাম সেদিন ছাত্রীদের প্রত্যেকের পরিচয়পর্ব চলছে। এদের মাঝে যারা ঠিকঠাক বলতে পারছিল না তাদেরকেও ধরে ধরে সুন্দর করে বলানোর চেষ্টা চলছে! একে একে আমার পালা আসলো। “মা কি করে?”- ঠিক সেই জায়গাটাতে আমি গড় গড় করে অনেক কিছু বলে ফেললাম। একটু হয়তো বেশিই বলে ফেললাম। শুনে শিক্ষিকা মিষ্টি হেসে বললেন – “বুঝেছি! তোমার মা কোন কাজ করেন না , তিনি বাসায় থাকেন এইতো? তার মানে, তোমার মা কি করেন কেউ যদি জিজ্ঞেস তখন তুমি কি বলবে? বলবে যে, আমার মা একজন গৃহিণী!”

 

‘গৃহিণী ‘ শব্দটা এবং তার ব্যাখ্যাটার সাথে সেই প্রথম পরিচয় আমার। বুঝলাম বুকের ভেতরে কোথায় যেন, কী ভীষণ অভিমান জমতে শুরু করেছে! আমার মা নাকি কিচ্ছু করে না? বলে কী?

অথচ ঠিক সেই মুহূর্তটাতেই আমার মা একটা ২ টাকা দামের নিউজ পেপার বিছিয়ে কাঠফাঁটা রোদে স্কুলের বাইরে আমার অপেক্ষায় বসে আছেন! সকালে নিজ হাতে আমাকে দুই ঝুঁটি বেঁধে দিয়েছেন, স্কুল ড্রেস পরিয়ে রেডি করেছেন, রেঁধেবেড়ে ভরপেট খাইয়ে স্কুলে পাঠিয়েছেন। বাসের সিটে আমাকে বসিয়ে পুরোটা পথ নিজে দাঁড়িয়ে এসেছেন! সেই কাকডাকা ভোরে বাসার সবার জামা-কাপড় সাবান সোডা দিয়ে ভিজিয়ে রেখে এসেছেন, ঘরে ফিরে সেগুলো ধোবেন বলে! মনে পড়ে, কাজের চাপে সারা দিনে কখনো মাকে ঘুমাতেও দেখতাম না! আমি নিশ্চিত হলাম, আমার শিক্ষকের কোথাও একটা ভুল হচ্ছে! আমার মা তো অনেক কাজ করেন! তার মানে আর যাই হোক না কেন তিনি ‘গৃহিণী’ নন, আমার মায়ের পেশা নিশ্চয়ই অন্যকিছু!

সেই ছোট্টবেলার আমি! অবুঝ আমি! বোকা আমি! বড় হতে হতে বুঝেছি, আমার শিক্ষক ভুল করেন নি। বরং এই সমাজই আমার মাকে ভুল বুঝেছে ! সেই থেকে এই শব্দটাকে নিজের অজান্তেই ঘৃণা করতে শুরু করেছি। ‘গৃহিণী’ শব্দটা আমার কাছে একটা মিথ্যা।

আমার মায়ের ঝুলিতে বিশাল বড় বড় ডিগ্রী ছিল না। বাবার অফিসের কলিগ-দেরকেও দেখতাম সুযোগ পেলে মাকে একটা দু’টো কথা শুনিয়ে দিত! কিন্তু আমি সেই ছোট থেকে ঠিক বুঝতাম তারা ভুল! আমার মায়ের ডাক্তার মেয়ে হয়ে আমি আজ নিশ্চিত বলতে পারি, আমার মা আমার এই ছোট্ট জীবনে দেখা অল্প কিছু অতিরিক্ত মাপের মেধাবী মানুষদের একজন। আমার খুব হিংসা হয় যে, প্রজ্ঞা, মেধা, উপস্থিত বুদ্ধিতে আমি তার যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে উঠি নি।

‘গৃহিণী’ একটা মিশ্র অনুভূতির শব্দ। সংসারের প্রতি ভলোবাসা থেকে যেমন এটাকে অনেকে পেশা হিসেবে বলতে কুন্ঠাবোধ করেন না একইভাবে কখনো বা পরিবারের চাপে, কখনো বা সুযোগের অভাবে গৃহিণী হয়ে ওঠাটা কারো কারো জন্য হয়ে যায় স্বপ্নভঙ্গেরই নামান্তর।

আমার মায়েদের মত মেয়েদের এই সমাজকে যা যা বলতে দেখেছি –

সারাদিন বাসায় বসে বসে করটা কী?”

সারাদিন তো বাসাতেই থাক! তোমার বাচ্চার জামায়ও দেখি এত ময়লা!”

এত পড়াশোনা করে কী লাভটাই বা হইল, হইছো তো হাউজ ওয়াইফ!”

পড়াশোনা করছো কি অন্যের ঘরের চুলা ঠেলার জন্যে! এই জন্যেই বুঝি বাপ-মা টাকা পয়সা খরচ কইরা পড়াইছে তোমারে?”

বাচ্চা পালার জন্যে চাকরি ছাড়বা? বলে কি এই মেয়ে? স্বামীর ঘাড়ে বসে বসে খাইলে কোন পাত্তা পাবা ভাবছো?”

“তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডটাকেই দেখো কি সুন্দর চাকরি-বাকরি করছে, দেশ-বিদেশে ঘুরছে! সেইরকম আছে! তোমার এই হাল কেন?”

(……..এবং তারা এভাবেই বলে চলেন…….)

মার নির্লিপ্ততা, কাঁচুমাঁচু মুখটা আমাকে খুব কষ্ট দিত। আমি মাঝে মাঝে অভিযোগ করতাম মাকে, কেন বাবা তার গ্র্যাজুয়েশন-টা শেষ করালেন না। মাও তবে চাকরি করত, টাকা আয় করত! ওদের মুখের ওপর ২-১ টা কথা ফিরিয়ে দিত! কিন্তু দেখতাম, মায়ের কোন অভিযোগ ছিল না। নীরবে সয়ে যেতেন! এদিকে, মা চেয়েছেন তার মেয়ে বিদ্যাধারী হোক। নিজের পায়ে দাঁড়াক! এই সমাজ তার মেয়েকে কষ্ট না দিক যেই কষ্টটা তিনি সয়েছেন, যেই রক্তক্ষরণ তাঁর বুকে হয়েছে। এটাই তার নীরব প্রতিবাদের ভাষা ছিল যে, একদিন তিনি এই সমাজকে একটা উচ্চশিক্ষিত মেয়ে উপহার দেবেন! তিনি প্রমাণ করবেন যে, তার শিক্ষা-সংস্কার তিনি সার্টিফিকেট-এর কাছে বন্ধক রাখেন নি। সেই প্রজ্বলিত শিখাটা কোনদিন নেভার ছিল না! যতদিন বাঁচবেন সেটা আলো ছড়িয়েই যাবে!

আমার মা খুব ভরসায় ছিলেন। আমি অনেক বড় হব। আমাকে সমাজ ভালবাসবে। কিন্তু বড় হতে হতে বুঝেছি আমার মা ও ভুল ছিলেন। এই নষ্ট সমাজের বানানো সমীকরণটা তার মত সরল না! আমার মা সারাজীবন বিশ্বাস করেছেন চাকরী না করাটাই তাঁর জীবনের একমাত্র ‘অযোগ্যতা’। মাকে এখন বলি, জানো মা? কর্মজীবী মেয়েরাও আজ ভাল নেই! তাদেরকেও এই সমাজ কথা শোনাতে ছাড়ে না। তারাও সেই একই রোষাণোলের শিকার! শুধু তার রংটা একটু আলাদা, ঝাঁঝটা একটু ভিন্ন!”

মা অবাক হন!! ভাবেন– “এও সম্ভব? !

আমার সহজ-সরল মা! মাকে আমার আর আমাদের গল্পগুলো শোনাই। একজন কর্মজীবী নারীর যুদ্ধটা চেনাই। তাদের কষ্টের রং চেনাই! কর্মজীবী নারীর কাহিনী সেরে ‘কর্মজীবী মা’-এর গল্পটা শুরু করতেই নিজের অজান্তে গলা ধরে আসে!

মানুষজন কীভাবে কীভাবে যেন কল্পনায় দেখতে পারে- নিশ্চিত বাসায় কাজের বুয়া বাচ্চা পালছে আর বাচ্চাটাকে ধরে ধরে পিটাচ্ছে! অথবা মেয়ের নিজের মা/শ্বাশুড়ি বাচ্চাটাকে পেলে দিচ্ছে আর ওদিকে মহিলা অফিসে গিয়ে আরাম চেয়ারে বসে বসে দোল খাচ্ছে! আর দুইজন পাখা দিয়ে মহারাণীকে বাতাস করছে!!

আমার ‘গৃহিণী’ মায়ের এইসব ‘কর্মজীবী’ মেয়েরা যেসব কথা শোনেন এই সমাজের কাছ থেকে –

মা হয়ে বাচ্চাটারে একা ফেলে ক্যামনে যে, অফিসে যাও তুমি? কে দেখে? আমি হলে জীবনেও বাচ্চাকে অন্য কারো কাছে দিতাম না! জন্মের পর থেকে এক হাতে পালছি! কাউরে ধরতে পর্যন্ত দেই নাই!!”

ওহ! তোমার মা/শ্বাশুড়ি বাচ্চা পেলে দেয়! ভালই আরাম করে নিলা! কপাল করে আসছো!!”

বাচ্চা ব্রেস্টফিড করে নাই! এইটাতো বাচ্চার হক! আচ্ছা শুনছি এরকম হইলে নাকি বাচ্চার কাছে বড় হইলে মাফ চাইতে হয়!কথা কি সত্যি?”

কি বলেন এইসব? বাচ্চাকে ফেলে ওর মা অফিসের ট্যুরে গেছে? (যাক নিশ্চিত হওয়া গেল! এই মেয়ে নিশ্চিত একটা জালিম বা একটা ডাইনী!!)”

– বিয়ে বাড়িতে, “এ কি? তুমি দেখি আগেই খেতে বসে গেছো? বাচ্চাকে কে খাওয়াচ্ছে? কী? বাচ্চার বাবা? কী কান্ড, কী কান্ড?” (বাস্তবে সুযোগ থাকলে হিন্দী সিরয়াল এর ক্লাইমেক্স-এর সাউন্ডগুলা বেশ জমতো এখানে!!)

(……..এবং তারা এভাবেই বলে চলেন….)

এসব অপ্রয়োজনীয় কথা বা একটু নোংরা করে বললে ‘খোঁটা বাণিজ্য’ যে কী ভয়াবহ আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এ একজন নারীকে ফেলে দিতে পারে সেসব নিয়ে আমরা সচরাচর খুব কম কথা বলি! কারণ খুব যত্ন করে নিজেদের কষ্টগুলো আমরা লুকাতে শিখি! ‘গৃহিণী’ হবেন বলে যিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা হতে বাধ্য হয়েছেন, তিনি হয়তো রোজকার ব্যস্ত দিনশেষে চায়ের মগ হাতে আনমনা হন। ভাবতে শুরু করেন – “ভুল করলাম না তো?

আলমারির কাপড়ের ভাঁজ থেকে হঠাৎ উঁকি দেয়া সার্টিফিকেট-টা দেখে ভাবেন, “আচ্ছা! আমি কী স্বপ্ন দেখা ভুলে যাচ্ছি দিন দিন?

সবশেষে, “অমুকের মা অথবা তমুকের স্ত্রী– ছাড়া আসলেই কি আর কোন পরিচয় আছে আমার?”

……………………… এমন নানান পদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস!!!

সমাজ কে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে- “কান্নাটা শুনতে পাচ্ছোতো ঠিকঠাক? এখন খুশি তুমি? এবার কী তবে বলবে, মুক্তিটা কোথায়?”

 

এদিকে যিনি ঘরের বাইরে! তার কি অবস্থা?

সকালে বাসের জন্যে ছুটতে ছুটতে হিসেব মিলান বাচ্চার স্কুল-এর অ্যানুয়াল স্পোর্টস ডে-তে এবারও থাকা হল না! বাসা থেকে ফোন এসেছে, বাচ্চা তার প্রথম হামাগুড়ি দিয়েছে! দেখার সুযোগ হয় নি দেখে সকাল থেকে বুকের কোথায় যেন চিনচিনে ব্যথা করছে! কেউ জানে নি! কেউ বোঝে নি! মিটিং-এর মাঝে বসের ছুড়ে ফেলা ফাইল-টা মাটি থেকে তুলতে তুলতে মুখ ফুটে বলা হয় নি- “স্যার চার রাত ঘুমাই না! ছেলেটার জ্বর!” অফিসের প্রেজেন্টেশন রেডি করতে করতে হয়তো ভাবেন – “বাসায় ফিরতে আজ এত দেরি হচ্ছে! বাসায় কেউ কিছু ভাবছে নাতো?সবশেষে- “আমাকে কি কেউ ভাল মা বলে? আমি কি আসলেই একজন ভাল স্ত্রী?”

……………………… এই সেই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস!!!

সমাজ কে ক্লান্ত হয়ে বলতে ইচ্ছে করে, “দেখো চেয়ে কী নিদারুণ রক্তক্ষরণ,  কী ভীষণ বুক ভাঙা অভিমান আর চাপা কষ্ট! এবার কি তোমার ক্ষোভ মিটেছে? তবে মুক্তির পথটা এবার বলে যাও!”

 

এইসব কাল্পনিক আর্তনাদ ছেড়ে এবার বাস্তবে ফিরি! নারীর ভূমিকাটা ঠিক কী হলে সমাজ খুশি?

– মূল সমস্যাটা হল সেটা এই সমাজ জানে না! একদিকে লোক দেখানো ‘প্রগতিশীলতা’-এর প্রতি মোহ অন্যদিকে শত বছরের সংস্কারের জন্য মায়া! সব মিলিয়ে একটা খিচুড়ি বানানোর খুব শখ! এদিকে রেসিপিটা গেছে হারিয়ে! ঝাল মশলাটা কেন যেন ঠিকঠাক হচ্ছেই না! আর নারী যুগে যুগে সেই হারানো রেসিপিটাই খুঁজতে ব্যস্ত! ‘নারীমুক্তি’- শব্দটা শুনতে ভালই লাগে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, এই পুরো প্রক্রিয়াটি কোথায় যেন একটা শেকলে বাঁধা পড়া। সেটা না যায় দেখা, না যায় ভাঙা! তাই ‘মাস শেষে ব্যাগ ভরে ঘরে টাকা আনা’ মেয়েটার সাথে ‘সারাদিন স্বামী-সন্তানের জন্য একটানা খেটে যাওয়া’ মেয়েটার বুকের ভেতরকার কষ্টের মাঝে যেন অনেক মিল! দুজনই বুঝে গেছে যে, এই সমাজ কে হয়তো তারা কোনদিন খুশি করতে পারবে না- ঘরে থেকেও না, ঘর থেকে বেরিয়েও না!

খুব চাই, একটা ‘পরিবর্তন’-এর দামামা বাজুক চারিদিকে! সবাই জানুক- নারী গৃহিণী হন বা কর্মজীবী, তারা প্রত্যেকে স্বতন্ত্র । একজনের যোগ্যতার মাপকাঠিতে অন্যজনকে যেন আমরা না মাপি। দু’য়ে মিলে সংকর প্রজাতি বানানোর চেষ্টা করে তাদের অস্তিত্বকে যেন অপমান না করি! এই জীবনগুলোকে শ্রদ্ধা করতে শিখি। এই আত্মাগুলো মুক্তি চায় ! মিথ্যে মুক্তি না!! যাকে বলে একেবারে সত্যিকারের ‘বুক ভরে দম নেয়া’- ঠিক সেইরকম মুক্তি!!

একজন নারী একজন মেয়ে- কারো বোন , কারো মা, কারো স্ত্রী। এই পরিচয়ের কোনটাতে কোন মিথ্যে নেই।  তিনি যদি নিজের ইচ্ছায় বা অন্যের চাপে পড়ে কখনওবা পরিবারের জন্য ক্যারিয়ার ছেড়ে রাঁধতে শুরু করেন, বাচ্চার ডায়াপার বদলান, ছেলেমেয়ে পালেন- তাতে তার শিক্ষা পানিতে ভেসে কোথাও চলে যায় না! বরং সেই শিক্ষা, সেই সুসংস্কার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়ায়। ঘরে থাকা মানেই নারী দূর্বল সেটা প্রমাণ হয় না। কেবল মাত্র খুব বড় মন থাকলেই বিনা পারিশ্রমিকে সারা জীবন কেউ এই সার্ভিস-টা তার পরিবারকে দিতে পারে! এরা নিজ হাতে একেকটা ‘ভবিষ্যৎ’-এর দেখভাল করেন! এই সমাজের উচিত এসব নারীদেরকে সম্মান করা!

আবার যারা পরিবারের প্রয়োজনে অথবা ক্যারিয়ার এর প্রতি ভালবাসা থেকে অথবা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ঘরের বাইরে আসেন, তারা কি তবে খারাপ? খারাপ মা, খারাপ বউ?! আমরা কিভাবে এতটা নিশ্চিত যে,  এদের পরিবার অবহেলিত, বাচ্চারা বঞ্চিত?! ঠিক এমনটা ভাবার সার্টিফিকেট-টা সমাজ পেল কোথা থেকে এবং ঠিক কবে থেকে?

এরা সেইসব নারী, যারা হয়তো ডাক্তার হয়ে আপনার জন্যে রাত জাগছেন, নিজের বাচ্চাকে ঘরে ফেলে এসে আপনার বাচ্চাকে স্কুলে পড়াচ্ছেন, ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আজ সুপার স্টোর-গুলোর ভেজাল ঠেকানোর পেছনে লেগে আছেন !!! নিজের মত করে প্রতি মুহুর্তে ঘরে বাইরে ব্যালেন্স করে চলেছেন! আমরা যেন বিশ্বাস করি নিজের পরিবারে কর্মজীবী নারীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লাইসেন্স-টা আমাদেরকে কেউ দেয় নি।

তবে সমাধান টা কী? অনেকেই প্রশ্নটা করেন- যখনই নারী হিসেবে ভেতর থেকে এই দ্বন্দ্বটা আসবে আমি কোন রাস্তাটা বেছে নিবো তখন?

কঠিন জেনেও যে কথাগুলো বলি- খুব শক্ত করে আগে নিজের মনটাকে সামলাতে হবে। যেই সিদ্ধান্তটা ক্যারিয়ার-এর ব্যাপারে নেয়া সেটার ব্যাপারে যেন আর কোন পিছুটান না আসে। সংশয় না আসে! আমাকে বিশ্বাস করতে হবে, এই সমাজ আমাকে কখনো বাহবা দেয় নি, হয়তো দেবেও না- তা আমার সিদ্ধান্ত যেটাই হোক না কেন। তাই নিজের ভাল থাকার চাবিটা যেন নিজে আগলে রাখি! দিন শেষে ঘরে থেকে বা ঘরের বাইরে বেরিয়ে যদি বুঝি নিজে ভাল আছি, খুব কাছের ৪-৫ টা মানুষকে অন্তত ভাল রাখতে পেরেছি, যাদের জীবনে অন্তত আমার অস্তিত্বের মূল্যায়ন আছে- হয়তো বুঝবো বেঁচে থাকার মানেটা এখনও হারিয়ে যায় নি।

এতক্ষণ ‘সমাজ’ কে দুষেছি! যত দোষ সমাজের কাঁধে ফেলে এভাবেই যুগে যুগে আমরা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি খুঁজেছি! সেই অভিযোগের জায়গা থেকে দু’পা পিছিয়ে সামনে রাখা আয়নাটাতে নিজেকে দেখে মাঝে মাঝে চমকে উঠি- “ঐ তো আমি দাঁড়িয়ে, আমরা সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে!!” ‘সমাজ’-টা তাহলে কোথায় গেল?

ঘোর ভাঙে! ভাবতে বসি আর কতকাল? কি হবে ‘সমাজ’-কে এই মিথ্যে দোষ দিয়ে?

 

প্রিয় ‘সমাজ’,

একজন নারী হয়ে বলছি, আমি তোমার কাছে আর কিচ্ছু চাই না…! আমার অভিযোগ থেকে আজ তোমার ছুটি..!

আর, প্রিয় মা আমার,

সত্যি বলছি, তুমি ‘অপরাজিতা’…।।

 

 

লিখেছেন- ডঃ সুষমা রেজা রাখী, চিফ মার্কেটিং অফিসার, লাইফস্প্রিং মেন্টাল হেলথ ইন্সটিটিউট

ছবি- কমনস.উইকিমিডিয়া.ওআরজি

Comments

comments

Recommended