চুল, চুলের যত্ন, ত্বক, ত্বকের যত্ন, প্রসাধনী সম্পর্কে, সম্পাদকের পছন্দ, সৌন্দর্য পরামর্শ

প্রোডাক্ট রিভিউ: স্কিন ক্যাফে জোজোবা অয়েল

আমার গত মাসে একটা বিয়ের দাওয়াত ছিল, বাসায় ফিরে আমি জাস্ট দুই মিনিটে আমি আমার পুরো মুখের ভারী বেইজ মেকআপ, ওয়াটারপ্রুফ আই মেকআপ, লিকুইড লিপস্টিক এবং মেকআপ-এর নিচের এসপিএফ ৩০-এর সানস্ক্রিন সবকিছু রিমুভ করেছি। চুল সেট করেছিলাম হেয়ারস্প্রে দিয়ে, সেই চুল ও জাস্ট তিন মিনিটে সব জট ছাড়িয়েছি।

কিভাবে?

জোজোবা অয়েল (Pronounced as Hoh-Hoh-Bah Oil) ইউজ করে!

 

আজকে যে প্রোডাক্টের রিভিউ নিয়ে লিখতে বসেছি, যারা বিউটি পার্লারে গিয়ে স্পা সার্ভিস নিয়ে থাকেন, তারা হয়তো অলরেডি এই প্রোডাক্টের নাম শুনেছেন। অনেক কসমেটিক প্রোডাক্ট-এও এর উল্লেখ থাকে। সেটা হলো জোজোবা অয়েল, আর আমি ইউজ করছি স্কিন ক্যাফে ব্র্যান্ডের জোজোবা অয়েল। আর আজ সেটারই রিভিউ আপনাদের জানাবো।

 

প্যাকেজিং

স্কিন ক্যাফের অন্যান্য প্রোডাক্টের মত এটারও প্যাকেজিং আমার ভীষণ পছন্দের। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা বাংলাদেশি প্রোডাক্ট। ট্রান্সপারেন্ট ১২০ মিলির বোতলে গাড় সবুজ রঙের লেবেলে আসে তেলটি। এর অরিজিন ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা। লেখা আছে, এটা কোল্ড প্রেসড, আনরিফাইন্ড, নন-কমিডোজেনিক, নন-অ্যালার্জিক এবং ১০০% ন্যাচারাল জোজোবা অয়েল। কোল্ড প্রেসড পদ্ধতিতে প্রস্তুত বলে এবং আনরিফাইন্ড প্রোডাক্টে এর নিউট্রিশনাল কোয়ালিটি নষ্ট হয় না। উৎপাদনের তারিখ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত এর এক্সপায়ারি ডেট দেয়া, কারণ জোজোবা অয়েলের শেলফ লাইফ বেশি থাকে কারণ অন্যান্য ভেজিটেবল অয়েলের তুলনায় এতে কিছু ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে।

 

কনসিসটেন্সি

মূলত জোজোবা অয়েলকে ক্যারিয়ার অয়েল বলা হলেও এটা আসলে লিকুইড প্ল্যান্ট ওয়্যাক্স, যা জোজোবা গাছের (Simmondsia Chinensis) সীডস থেকে সংগ্রহ করা হয়। এর কনসিসটেন্সি বেশ ঘন এবং তেলটা দেখতে স্বচ্ছ হালকা সোনালি রঙের।

স্মেল

খাঁটি জোজোবা অয়েলের কোন গন্ধ থাকে না এবং স্কিন ক্যাফের জোজোবা অয়েলের কোন স্মেল নেই।

অরিজিন

এই জোজোবা অয়েলের অরিজিন ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা। আর জোজোবা গাছ মূলত ঐদিকেই, মানে সাউদার্ন অ্যারিজোনা, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া, নর্থ-ওয়েস্টার্ন মেক্সিকোতে জন্মায়।

আমি এমনিতেই স্কিন আর হেয়ারকেয়ারে বিভিন্নরকম অর্গানিক, ন্যাচারাল, কেমিক্যাল-ফ্রি প্রোডাক্ট, বিশেষ করে তেল ইউজ করতে ভালোবাসি। জোজোবা অয়েলকে অয়েলি স্কিনের জন্য বেস্ট অয়েল বলা হয়ে থাকে! কী? অবাক হচ্ছেন? তেলতেলে স্কিনে আবার তেল কেন?

আমাদের স্কিনের ওপরে সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থাকে যেখান থেকে তেলের মত সেবাম তৈরি হয়, কোন কারণে সেবাম বেশি তৈরি হলে স্কিনের অয়েলিনেস বেড়ে যায়, আবার কোন কারণে সেবাম কম তৈরি হলে স্কিনের ড্রাইনেস বেড়ে যায়। জোজোবা অয়েল একদম প্রাকৃতিকভাবে স্কিনের অয়েল লেভেল ডিটেক্ট করে স্কিনের অয়েল লেভেলকে ব্যালেন্স করে এবং অ্যাডজাস্টেড স্টেটে রাখে।

 

এবার চলুন এক নজরে দেখা যাক, এই জোজোবা অয়েল টা কী কী কাজে ব্যবহার করা যায়।

(১) ময়েশ্চারাইজার হিসেবে

  • ত্বক আর চুলের ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এর জুড়ি নেই।
  • ত্বক বা চুলে কোন প্রোডাক্ট বিল্ড আপ থেকে থাকলে সেটা দূর করতে সাহায্য করে।
  • ত্বক আর চুলের ন্যাচারাল অয়েল লেভেলকে ব্যালেন্সড রাখতে সাহায্য করে।
  • ঠোঁট, মুখ, গলা, ঘাড়, হাত, পাসহ পুরো শরীরে ব্যবহার করা যায়, চুলেও।

(২) মেকআপ রিমুভার হিসেবে

  • এটা হাইপোঅ্যালার্জেনিক। অর্থাৎ স্কিনের পোরসকে ক্লগ করে ফেলে না।
  • স্কিনের উপরের ধুলোবালি, ময়লা, মেকআপ, সানস্ক্রিনসহ সমস্ত প্রোডাক্ট দূর করতে সক্ষম। আমি প্রতিদিনই আমার ক্লেঞ্জিং এর ফার্স্ট স্টেপ, অর্থাৎ অয়েল ক্লেঞ্জিং টা আমি এটা দিয়েই করছি।
  • আই মেকআপ রিমুভার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ওয়াটারপ্রুফ আইলাইনার কিংবা মাস্কারা- একটুখানি জোজোবা অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে সহজেই কোন হার্শনেস ছাড়াই তুলে ফেলা যায়।

(৩) শেভিং এর আগে-পরে ব্যবহার করার জন্য

  • শেভিং এর আগে জোজোবা অয়েল ম্যাসাজ করলে স্কিনের ডেড স্কিনসেল দূর হয়, স্কিনের উপরের সারফেস-টা স্মুদ হয় এবং শেভিং-এর জন্য স্কিনটা প্রিপেয়ারড হয়।
  • শেভিং এর পর ইউজ করলে টুকটাক কাঁটাছেড়া থাকলে সেটাকে দ্রুত সারিয়ে তোলে এবং স্কিনকে ময়েশ্চারাইজ করে।

(৪) স্কিন হেলথ ইমপ্রুভ করে

  • এই তেল স্কিনের পোরগুলোকে ক্লগ করে না, মানে আটকে দেয় না।
  • এই তেলে আয়োডিন আছে, যেটা ব্যাকটেরিয়া দমনে সাহায্য করে। ফলে স্কিনে ব্রেক আউট প্রতিরোধ হয়।
  • এতে থাকা ভিটামিন ই বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে, স্কিন টাইটেন করে।
  • এতে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বিভিন্ন ঘা, ক্ষত, ছোটখাটো কাঁটাছেড়া সারাতে সাহায্য করে।
  • ফ্রি র‍্যাডিকেল আর টক্সিন থেকে স্কিনকে রক্ষা করে। স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

(৫) স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য

  • চুলের টেক্সচার ইমপ্রুভ করে, স্ক্যাল্পের ময়েশ্চার লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • ড্রাই স্ক্যাল্পকে পুষ্টি জোগায়। সরাসরি জোজোবা অয়েল দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ, অথবা কোন হেয়ার প্যাকে মিক্স করেও ব্যবহার করতে পারেন।
  • চুলকে ঘন করে তোলে।
  • খুশকি দূর করে।
  • চুলের ড্রাইনেস আর ফ্রিজিনেস কমায়।
  • চুলের জট ছাড়াতে সাহায্য করে। চিরুনিতে কয়েক ফোঁটা জোজোবা অয়েল লাগিয়ে চুল আঁচড়ালে সহজে জট ছাড়ানো যায়, সেই সাথে চুলের কিউটিকল খুব সুন্দর করে সীলড হয় ও চুল সুন্দর দেখায়।
  • অ্যালোপেশিয়া রোগীদের ক্ষেত্রেও চুল পড়া কমাতে আর নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

যা যা ভালো লেগেছে

এর কোন গন্ধ নাই, এইটা আমার ভালো লাগার অন্যতম কারণ। আমি গন্ধযুক্ত প্রোডাক্ট খুব একটা পছন্দ করি না।

 এর মাল্টি-পারপাস অ্যাবিলিটি। এটা আমি মুখে, চুলে, ফুল বডিতে বিভিন্ন পারপাসে ব্যবহার করতে পারছি। ডিরেক্টলি যেমন ইউজ করছি, তেমনই কোন হেয়ারপ্যাক বা বডি মাস্কের অন্যান্য উপাদানের সাথে মিক্স করেও ইউজ করতে পারছি।

 আমি নরমালি স্কিন ক্যাফের কোকোনাট অয়েল টা দিয়েই মেকআপ রিমুভ করতাম, কিন্তু জোজোবা অয়েল টা আমার কাছে ইউজ করে মনে হয়েছে এটা দিয়ে মেকআপ রিমুভিং আরও সহজ এবং কম সময়সাপেক্ষ। আর আমি যেহেতু সবসময় ডাবল ক্লেঞ্জিং মেথড ফলো করি, অয়েল ক্লেঞ্জিং-এর জন্য আমার প্রথম পছন্দ।

 বোতলটা আমার বড় পছন্দের, প্লাস্টিকের কিউট একটা সাইজ এবং শেইপের। আর তেল ঢালাটাও বেশ সুবিধের।

 

যা যা ভালো লাগেনি

অনেকের কাছে হয়তো প্রোডাক্ট-টা প্রাইসি মনে হতে পারে, কিন্তু মার্কেট ঘুরে আপনি যদি দেখেন তাহলে দেখবেন যে বাইরের দেশের আমদানিকৃত অর্গানিক জোজোবা অয়েল-গুলোর দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হয় এবং কোয়ান্টিটি-ও এর চেয়ে কম থাকে। আমার কাছে মনে হয়েছে কোয়ালিটি অনুযায়ী দামটা অতিরিক্ত বেশি না। আমি কিছুদিন আগেও একটা প্রোডাক্ট দেখেছি যার দাম দুই হাজার টাকার উপরে।

 

দাম

১২০ মিলির বোতলের দাম বাংলাদেশি টাকায় ৮৫০ টাকা।

 

রেটিং

এই প্রোডাক্টের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে একে রেটিং দিবো ৯.৫/১০

 

কোথায় পাবো

দেশের বেশ কিছু বড় বড় কসমেটিক্সের দোকানে, ফার্মেসিতে, অনলাইন শপসহ যমুনা ফিউচার পার্ক এবং সীমান্ত স্কয়ার-এ অবস্থিত শপ.সাজগোজ.কম এ পেয়ে যাবেন অরিজিনাল প্রোডাক্টটি। চাইলে ঘরে বসে সাজগোজের অনলাইন-এ অর্ডার করে নিতে পারেন।

 

লিখেছেন : ফারহানা প্রীতি

Comments

comments

Recommended