রমজান আর ঈদের আয়োজন: প্রস্তুতি হোক শুরু – Shajgoj



রমজান আর ঈদের আয়োজন: প্রস্তুতি হোক শুরু


মে ১৫, ২০১৮



রমজান মাস এসে পড়েছে প্রায়। আর কয়টা দিন বাদেই শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা। মুসলমানদের ঘরে ঘরে রোজার পাশাপাশি চলবে ঈদের আয়োজনও। আর তাই ঘরের কর্তা-গিন্নীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন হিসাব-নিকাশ করতে করতে, খরচপত্র সব নজরে থাকা চাই তো!

রোজার বাজার

ইফতারের কারণে এই মাসে বাজার অবশ্যই কিছুটা আলাদা রকম হয়। ছোলা, মুড়ি, খেজুর, শরবতের আয়োজন- এসব সারা বছর ধরে তো এত হয় না। অনেক সময় খুব জরুরি জিনিসটাই কেনাকাটার বাইরে থেকে যেতে পারে। আর তাই রমজান আসার অন্তত সপ্তাহখানেক আগে মাসের বাজারের তালিকা করুন। মূলত কোন কোন সামগ্রী লাগবেই, সেগুলো একবারে সর্বোচ্চ পরিমাণ কিনে ঘরে রেখে দিন। তাতে মাসজুড়ে বারবার কেনাকাটার ঝক্কি কমবে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাবার আগেই কিছু কিনে রেখে দিন ঘরে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকবেন, আর সাশ্রয় তো হবেই। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তের লেবুর অভাবে শরবত না বানানোর ঘটনা এড়াতে লেবুও ঘরে থাকা চাই বেশি পরিমাণে। যে জিনিসগুলো আপনার ঘরে আবশ্যিক, সেগুলো শুরুতেই তালিকাভুক্ত করুন আর পর্যাপ্ত পরিমাণে এনে রাখুন।

ঈদের প্রস্তুতি

হাতে টাকা থাকলে ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলুন অল্প অল্প করে। ঈদের আগের সময়টায় কেনাকাটার ঝামেলা যত কম রাখবেন, ততই ভালো। উপহারের সামগ্রী বা শিশুদের জন্য কেনাকাটা করে ফেলা যায় প্রথমেই। পরিবারের বয়স্কদের জন্যেও ঈদের কেনাকাটা শুরুর দিকে করতে পারেন। বাইরে ঘুরে জিনিস কিনতে মন না চাইলে এখন থেকেই অনলাইন শপগুলোয় চোখ রাখুন। এসব শপে এক পণ্য খুব বেশি সংখ্যক থাকে না, তাই পছন্দের জিনিসটা যেন হাতছাড়া না হয়ে যায়।

নিজের ঘরে উৎসব

ঈদ যারা নিজেদের বাসগৃহে কাটাবেন, নিজেদের পাশাপাশি ঘরের জন্যেও আলাদা আয়োজন তাদের। ঈদের দিনের রান্না, ঘর সাজানো, অতিথি আপ্যায়ন- কাজের অন্ত নেই। পুরো মাস ধরে প্রস্তুতি নিতে হবে, অবশ্যই তেমন কথা নেই। কিন্তু সকল কাজ ঈদের আগের দিনের জন্য জমিয়ে রাখলে ঝামেলায় পড়তে হবে বৈকি। ঘর গুছিয়ে রাখার কাজটা কয়দিন আগেই শুরু করে দিন। তাতে ঈদের আগের দিন বেশি সময় পাবেন কিছু রান্না এগিয়ে রাখার, ঈদের দিনটা অনেকটাই রান্নাঘরে ফুরিয়ে যাবে না।

সালামী

বাচ্চাবাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে তাদের জন্য খুচরো সালামী আগেই পকেটে রাখুন। ভাংতির অভাবে তারা কিন্তু বড় নোট চেয়ে বসতে বাধ্য হয়। তখন তাদের দোষ দেয়া যাবে না!

সুস্থতা বজায় থাকুক

খাদ্যাভ্যাস সঠিক রাখুন। খালি পেটে দীর্ঘ একেকটা দিন পার করতে থাকলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিদ্রোহ করতে পারে। সেই সুযোগ দেয়া যাবে না। পর্যাপ্ত ফল, শরবত, সবজি-এইগুলো অবশ্যই রাখুন নিত্যদিনের খাবারে। খাবারের ব্যাপারে বেহিসাবি হলে তার বিরূপ ফল চেহারাতেও ছাপ ফেলবে। আপনি কি চাইবেন এত বড় উৎসবের মৌসুমে আপনার চেহারার লাবণ্য এতটুকুও হারাক?

সুস্থ থাকুন সবাই।

লিখেছেন- মুমতাহীনা মাহবুব

ছবি- ইমেজেসবাজার.কম