মেকাপ, সম্পাদকের পছন্দ, সৌন্দর্য পরামর্শ

ফাউন্ডেশন দিলে কালচে দেখায় – কেন?

অনেকগুলো ব্র‍্যান্ড-এর ফাউন্ডেশন কিনে ব্যবহার করে ফেলেছেন- ড্রাগস্টোর, হাই এন্ড ইত্যাদি। কিন্তু যেটাই ব্যবহার করছেন, ঘণ্টাখানেক পর কালচে দেখাচ্ছে। এই অভিযোগটা কিন্তু অনেকেরই। ফাউন্ডেশন-টা অক্সিডাইজড হয়ে যায়, ফলে স্কিন কালচে দেখায়। আমরা কি জানি, অক্সিডাইজেশন-টা আসলে কি? একটা আপেল কেটে রাখলে যেমন বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে সেটা কালচে হয়ে যায়, স্কিনের উপর ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রেও তাই হয়। এই অক্সিডাইজেশনের জন্য কিন্তু কোন একটা স্পেসিফিক কারণকে শনাক্ত করা সম্ভব না। স্কিনের ন্যাচারাল অয়েলের সাথে ফাউন্ডেশনের অয়েল এবং পিগমেন্ট কিভাবে রিঅ্যাক্ট করছে, স্কিনের উপরের লেয়ারের pH Level, বাতাসের আর্দ্রতা, সূর্যের প্রখরতা- অনেক কারণেই এটা সাধারণত হয়ে থাকে।

এই সমস্যা থেকে রেহাই পাবার উপায় কি?

(১) প্রাইমার ব্যবহার করা 

প্রাইমার কিন্তু শুধু ত্বকের রোমকূপগুলোকে ভিজ্যুয়ালি মিনিমাইজ করতে সাহায্য করে না, সেই সাথে স্কিন এবং ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটা লেয়ার তৈরিতেও সহায়তা করে, ফলে সেটা ফাউন্ডেশন আর স্কিনের ন্যাচারাল অয়েলের সাথে রিঅ্যাকশনকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

স্কিন ড্রাই হলে হাইড্রেটিং প্রাইমার, অয়েলি হলে ম্যাটিফায়িং প্রাইমার ব্যবহার করুন। আর যদি কম্বিনেশন হয় অর্থাৎ পুরো মুখ ড্রাই বা নরমাল এবং টি-জোন আর অন্য সামান্য অংশ অয়েলি সেক্ষেত্রে অবশ্যই শুষ্ক স্থানের জন্য হাইড্রেটিং প্রাইমার এবং তৈলাক্ত স্থানের জন্য ম্যাটিফায়িং প্রাইমার ব্যবহার করুন। দেখে নিবেন প্রাইমারটি সিলিকোন বেইজড ফর্মুলায় তৈরি কিনা। সিলিকোন বেইজড ফর্মুলায় তৈরি প্রাইমার অক্সিডেশন প্রসেসে বাধা প্রদানে সহায়তা করে।

(২) স্কিনকে ব্লট করা 

প্রাইমার লাগানোর ৩-৫ মিনিট পর একবার একটা ভালো মানের ফেস্যিয়াল টিস্যু (দুই পরতের) থেকে একটি পাতলা লেয়ার খুলে স্কিনকে ব্লট করুন। আর ফাউন্ডেশন লাগানোর পর ব্লেন্ড করা শেষ করে আরেকটা যে পাতলা লেয়ার ছিল, ঐটা দিয়ে আরেকবার স্কিনকে ব্লট করুন। ত্বকের উপরিভাগের বাড়তি তেল দূর হবে, ফলে অক্সিডেশন প্রসেস রোধ হবে।

(৩) সঠিকভাবে মেকআপ সেট করা 

ট্যাল্ক বেইজড লুজ পাউডার বা কম্প্যাক্ট পাউডার রোমকূপগুলোকে বন্ধ করে ফেলতে পারে, এবং এগুলো স্কিনকে বেশি ড্রাই করে তুলতে পারে, ফলে স্কিন কেকি দেখাতে পারে। সিলিকা পাউডার এক্ষেত্রে ভালো অপশন।

সেই সাথে ভালো মানের মেকআপ সেটিং স্প্রে ইউজ করাটাও জরুরী। আপনি ইনডোরে থাকেন, কিংবা আউটডোরে থাকেন, মেকআপ সেটিং স্প্রে ইউজ না করলে মেকআপ-টা স্মাজ হতে পারে, প্রাণবন্ত দেখাবে না।

(৪) ব্র্যান্ড চেইঞ্জ করা এবং নিজের আন্ডারটোন দেখে কেনা

নিজের আন্ডারটোন না বুঝে ফাউন্ডেশন কিনলেও অনেক সময় এ সমস্যা হয়। আবার কিছু ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশন এমনিতেই অক্সিডাইজড হয়। কাজেই নিজের আন্ডারটোন দেখে পারফেক্ট শেইডের ফাউন্ডেশন কিনুন। সেই সাথে ব্র্যান্ড-টাও চেইঞ্জ করে দেখতে পারেন।

(৫) স্কিনকেয়ারে ভুল

নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী পারফেক্ট ক্লেনজার, টোনার আর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলেও অনেক সময় ফাউন্ডেশন অক্সিডাইজাশন-এর সমস্যা হতে পারে। তাই আপনার স্কিন টাইপ অনুযায়ী ভালো মানের ক্লেনজার, টোনার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

(৬) স্কিনের pH ব্যালেন্স ঠিক করা 

স্কিনের স্বাভাবিক pH লেভেল কোন কারণে কম/বেশি হলেও ফাউন্ডেশন অক্সিডাইজড হতে পারে। আপনার স্কিন টাইপ অনুযায়ী অবশ্যই ভালো মানের টোনার ব্যবহার করবেন। আমি পারসোনালি অনেক ধরনের টোনার ইউজ করে শেষমেষ একটা রুটিনে এসে স্থির হয়েছি, সেটা হলো ১ঃ১ অনুপাতের এবং আনফিল্টারড অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ইউজ করা। আমার স্কিন অয়েলি। যাদের স্কিন ড্রাই তারা ২ঃ১ অনুপাতে ইউজ করতে পারেন। অ্যালকোহল-সমৃদ্ধ টোনার অনেক সময় স্কিনকে ওভারড্রাই করে ফেলে। স্কিন টাইপ বুঝে টোনার ইউজ করা ভালো।

মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী কখনোই ব্যবহার করবেন না। সবসময় হাতে সময় নিয়ে ফাউন্ডেশন কিনুন। নিজের আন্ডারটোন এবং পারফেক্ট শেইড বুঝুন। ফাউন্ডেশন ট্রাই করার জন্য সবসময় জ-লাইনের ঠিক ওপরের জায়গাটাকে বেছে নিন। দোকানে ফাউন্ডেশন ট্রাই করার পর সাথে সাথেই না কিনে একটু এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করুন, অন্যান্য প্রোডাক্ট দেখুন এবং কিনুন। ঠিক ১৫ মিনিট পর দিনের আলোয় বের হয়ে এসে দেখুন ফাউন্ডেশন-টা অক্সিডাইজ করেছে কিনা, স্কিনের ন্যাচারাল কালারের মত দেখাচ্ছে কিনা। যদি সব ঠিক থাকে, তবেই সেই ফাউন্ডেশন-টি কিনুন।

 

 

লিখেছেন: অর্থিয়া

Comments

comments

Recommended