রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য ফাস্ট অ্যান্ড ইজি সলিউশন – Shajgoj



রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য ফাস্ট অ্যান্ড ইজি সলিউশন


এপ্রিল ২৯, ২০১৮



চরম শীত পড়লো এবার তাই না? নরমালি চুলের যত্নে একটু রেগুলার তেল মাখা বা সপ্তাহে একবার নিয়ম করে মাস্ক ইউজ করে, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! আর গরমে আর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার জ্বালায় তো সেসবেরই পাট চুকে গেছে তাই না? জানেন? আমি নিজেই গত ১-১.৫ মাস ধরে মাথায় একবার মেহেদি দেবার চান্স পাই নি! আর সারা রাত মাথায় তেল দিয়ে রেখে ঠাণ্ডা বাঁধানোর ইচ্ছা কারই বা আছে বলুন?

আর এসব আলসেমির রেজাল্ট হিসেবে এখন মাথা ভর্তি কাকের বাসার মতো চুলগুলো নিয়ে বিপাকেই পরেছি! ভাবতেও পারছি না কালার করা বা রিবনডিং করা চুল যাদের তাদের এই শীতে চুলের মিনিমাম যত্নটুকু নিতে কতটা কষ্ট হয়েছে! তাই আজকের লেখার টপিক হিসেবে রুক্ষ শুষ্ক কাকের বাসা চুলের জন্য খুব ইজি কিছু সলিউশন নিয়ে কথা বলব… আশা করি শীতের প্রকোপে আপনার মরমর চুলে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এগুলো একটু হলেও হেল্প করবে।

ইজি প্রি-শ্যাম্পু ট্রিটমেন্ট

সারারাত মাথায় তেল রাখলেই ঠাণ্ডা লেগে যায়? চুল থেকে তেল দূর করতে বার বার শ্যাম্পু করতে হয়? প্রথম প্রবলেমটা আমার পরিচিত অনেকেরই আছে, আবার সেকেন্ড প্রবলেমটা খুব অয়েলি স্ক্যাল্প যাদের তাদের বেলায় দেখা যায়। তাদের জন্য বলছি, চিন্তার কিছু নেই! খুব ইজিলি সারা রাত ওয়েল ট্রিটমেন্টের বেনেফিট আপনি পেতে পারেন খুব ইজি কিছু স্টেপে।

যা লাগবে: প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল (১ টেবিল চামচ), বড় মগে গরম পানি নিয়ে তাতে তেলের বোতলটা কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখলেই তেল গলে যায় ইজিলি, এ কারণে “শীতে তেল জমে গেছে, তাই তেল দেই নি” কথাটা বলার চান্স আমরা অলসরা আর পাচ্ছি না!

আমি সবসময় এই প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল-ই ইউজ করি। সাজগোজের “বিশুদ্ধ নারিকেল তেল কিভাবে চিনতে হয়”- ভিডিওটা দেখে সেই মতো নিজে টেস্ট করে মার্কেটে ইজিলি পাওয়া যায় এমন ব্র্যান্ডের ভেতর থেকে এটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তাই এই রেসিপি-গুলোতে আপাতত এটাই ইউজ করছি।

একটা আস্ত ডিম। চুলে ভলিউম ফিরিয়ে দিতে ডিমের জুড়ি নেই!

প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল, ডিম আর ১ চামচ পানি একত্রে ভালভাবে ফেটিয়ে মিক্স করে নিন। খুব লাইট একটা মাস্ক তৈরি হবে । এটা চুলে মেখে জাস্ট ২০-৩০ মিনিট রাখবেন। যাদের ঠাণ্ডার ধাত কম তারা ১ ঘণ্টা ও রাখতে পারেন। এরপরে আপনার পছন্দের শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলবেন। হালকা হবার কারণে খুব ইজিলি মাস্কটা ধুয়ে যাবে । বাট চুলে আদ্রতা ফিরে পাবেন ষোলোআনা! কালার বা রিবনডিং করা চুলে যারা মেহেদি ইউজ করতে পারে না তাদের জন্য এই মাস্কটি অনেক কাজে দেবে। প্রতি সপ্তাহে কষ্ট করে একবার এটা করলেই রেজাল্ট পাবেন।

ডিপ কন্ডিশনার

এটা আরও ইজি! প্রথম ট্রিটমেন্ট-টার একটা সাবস্টিটিউট বলতে পারেন! খুব রুক্ষ শুষ্ক চুলে সপ্তাহে ১-২ বার ট্রাই করতে পারেন। আমি তারপরেও সবাইকে প্রি-শ্যাম্পু মেথড-টাই ট্রাই করতে বলব। বাট যারা একেবারেই চুলে মাস্ক টাস্ক মেখে কষ্ট করতে চান না তারা রুক্ষ চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই ভাবে চুল ডিপ-কন্ডিশন করতে পারেন।

যা লাগবে: জাস্ট আধা চা চামচ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল।

কি করবেন? শ্যাম্পুর পর তেলটার সাথে সমপরিমাণে পানি খুব ভালভাবে মিশিয়ে নিন। দেখবেন, অস্বচ্ছ একটা লিকুইড তৈরি হয়েছে। এই মিশ্রণটা আপনার ভেজা চুলের কানের কাছ থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে জাস্ট ২ মিনিট রাখুন। তারপর আবার খুব ভালভাবে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কি? সহজ না? এই পরিমাণটা আমার কোমর পর্যন্ত লম্বা রুক্ষ চুলে ভালো কাজ দেয়, আপনার চুল ছোট হলে আরও কম তেল ইউজ করলেও চলবে। এতে চুল চিটচিটে লাগার রিস্ক থাকবে না।

ময়েসচারাইজিং স্প্রে

এটা আগের দুই মেথড থেকেও কম টাইম কনজিউমিং! যারা রুক্ষ চুলের যত্নে একফোঁটা সময় বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তারা শ্যাম্পুর পর এই ময়েশ্চারাইজিং স্প্রে ইউজ করে ভালো ফল পাবেন। আর গ্রীষ্মে যেকেউ এটা ট্রাই করতে পারবেন।

যা লাগবে:

  • এলোভেরা জেল (২ টেবিল চামচ)
  • প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল (২ টেবিল চামচ)
  • পানি (৩-৪ টেবিল চামচ)
  • গ্লিসারিন (১ টেবিল চামচ, চুল বেশি অয়েলি হলে এটা বাদ দিতে পারেন)

জাস্ট সব উপাদানগুলো একটা ছোট স্প্রে বোতলে ঢেলে ভালভাবে ঝাঁকিয়ে মিক্স করুন। শ্যাম্পুর পর চুল একটু ভেজা ভেজা থাকা অবস্থায় এটা ৩-৪ বার পুরো চুলে (স্ক্যাল্প বাদে) স্প্রে করে নিন। হয়ে গেল সহজে রুক্ষ চুলের একটু যত্ন!

এটা যারা করবেন তারা ডিপ-কন্ডিশন-এর ট্রিটমেন্ট-টা না করলেও চলবে। স্প্রে বোতলটা ফ্রিজে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখতে পারবেন। প্রতিবার ইউজ করার আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন!

চুল পড়া বন্ধে

সবশেষে আসি চুল পড়া প্রসঙ্গে! খুশকি, ধুলো ময়লা সব মিলিয়ে গ্রীষ্মে চুল পড়ার হার সবারি একটু হলেও বেড়ে যায় তাই না? আমি নিচের রেসিপিটা আজকাল ইউজ করছি। খুশকি কনট্রোল আর চুল পড়া রোধে ভালই লাগছে, তাই আপনাদের সাথেও শেয়ার করলাম।

যা লাগবে:

  • ৪ টা মাঝারি সাইজের পেয়াজ, কুঁচি করে কাটা
  • ৫০০ মিলি প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল

খুব অল্প আঁচে তেল চুলায় একটা পাত্রে হালকা গরম করে নিন। এবার তাতে পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে খুবই অল্প আঁচে ১৫ মিনিট রাখুন। খেয়াল রাখবেন, আঁচ যেন অল্প হয়, নয়ত তেল নয় বেরেস্তা তৈরি হবে! এবার পেঁয়াজসহ তেল নামিয়ে রেখে দিন ৪-৫ ঘণ্টা। তারপরে পেঁয়াজগুলো ছেঁকে ফেলে দিয়ে তেলটা একটা অস্বচ্ছ বোতলে ভরে রেখে দিন। এই তেলটুকু ৩-৪ সপ্তাহ ভালো থাকবে।

বেনিফিট- চুল পড়া বন্ধে আর নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। আর এজন্য অবশ্যই সপ্তাহে ২ রাতে স্কাল্পে ভালভাবে এই তেল মেখে সারা রাত রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করতে হবে।

আচ্ছা, কেন আমি প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করি? এটা একটু ক্লিয়ারলি বলি এখন।

আমার চুল এত রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল যে, আমি কিছুতেই কিছু করতে পারছিলাম না। নরমাল তেলে কিছু হচ্ছিল না। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল তখন একটা জাদুর মত কাজ করলো। মেথি, আমলকী আর অ্যালোভেরা- একসাথে এই ৩ টি উপাদান পাওয়া, তাও আবার একই তেলে… জাদু নয় তো কি! চুলের নরিশমেন্ট চুল পড়া কমানো, চুলের গোড়া মজবুত করা আর চুলের কন্ডিশনিং করে স্মুদ করা- এই বেনেফিটগুলো এই প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল আমাকে দিয়েছে। অন্তত এখন আমার চুলগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তাই অসংখ্য ধন্যবাদ প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার কোকোনাট অয়েল-কে।

আমার পছন্দের খুব ইজি আর কার্যকরী রেসিপি-গুলো শেয়ার করলাম। আশা করি ট্রাই করে দেখবেন। আরও কম খরচে ইজি হেয়ার কেয়ার আর স্কিন কেয়ার নিয়ে খুব শীঘ্রই লিখবো। ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন।

 

 

লিখেছেন- তাবাসসুম মীম