খাদ্য ও স্বাস্থ্য, চুলের যত্ন, ত্বকের যত্ন, সুস্বাস্থ্য

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের অজানা ৬ ব্যবহার

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের নামটি আজকাল বেশ শুনতে পাওয়া যায়। ওজন কমানোর জন্য অনেকেই এটি খেয়ে থাকেন। শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, ত্বক এবং চুলের যত্ন নিতেও অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের জুড়ি নেই।

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারটা কি?

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপাদান যাতে রয়েছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড এবং ম্যালিক অ্যাসিড। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন, এনজাইম, মিনারেল সল্ট এবং অ্যামিনো অ্যাসিড, যা সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি, পেশীতে ব্যথা, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করে থাকে। স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি সৌন্দর্য রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার।

ত্বক এবং চুলের যত্নে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের কিছু কার্যকারী ব্যবহার নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

(১) ব্রণকে বলুন বাই বাই

এক অংশ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং দুই অংশ পানি একটি পাত্রে মিশিয়ে নিন। একটি তুলোর বল মিশ্রণে ভিজিয়ে নিন। এটি ব্রণের উপর রাখুন ১০ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার প্রসেসটি রিপিট করুন।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা ব্রণ সাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ত্বকের পিএইচ লেভেলের ভারসাম্য বজায় রাখে।

(২) খুশকি দূর করতে

একটি পাত্রে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার নিয়ে নিন। এরপর একটি তুলোর বল তাতে ভিজিয়ে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে লাগান। এবার একটি টাওয়েল গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। এই টাওয়েল দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘন্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল  ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইবার এই পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করুন। দেখবেন এক মাসের মধ্যে খুশকি গায়েব হয়ে গেছে।

(৩) স্কিন টোনার  

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বেশ উপকারী। এর আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ত্বকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। এছাড়া ত্বকের পিএচ লেভেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার।

আধা কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং এর সাথে পানি মিশিয়ে নিন। আপনি চাইলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মেশাতে পারেন। একটি তুলোর বল এতে ভিজিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। এটি কয়েক মিনিট ত্বকে রেখে দিন। দিনে দুইবার ব্যবহার করুন। আপনি যদি স্বাভাবিক ত্বকের অধিকারী হন তবে এক অংশ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং চার অংশ পানি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।

(৪) সানবার্ন রোধে

ত্বকে একবার সানবার্ন হলে তা দূর করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ত্বকের এই রোদেপোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করবে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। সমপরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং ঠাণ্ডা পানি একসাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি দিনে কয়েকবার ব্যবহার করুন।

(৫) চুলের আগা-ফাটা রোধ

চুলের আগা ফাটা রোধ করতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার অনেক কার্যকর। শ্যাম্পু করার পর এটি চুলে লাগান। তারপর অনেক মিনিট পর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। কিছুদিনের মধ্যে চুলের আগা ফাটা দূর হয়ে যাবে।

(৬) চুলের রুক্ষতা দূর করতে

রুক্ষ, শুষ্ক চুল নিয়ে চিন্তিত? চুলের এই রুক্ষতা দূর করে চুলকে শাইনি করে তুলতে সাহায্য করবে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। ১/৪ কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং দুই কাপ পানি একসাথে মিশিয়ে নিন। চুল শ্যাম্পু করার পর এটি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাথার তালুতে এটি ম্যাসাজ করে লাগান। ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

(৭) নখের হলদেটে ভাব দূর করা

বিভিন্ন কারণে নখ হলেদেটে হয়ে যায়। নখের এই হলদেটে ভাব দূর করে দেয় অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। ১/২ কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে আঙ্গুল ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলন। অলিভ অয়েল দিয়ে আঙ্গুলগুলো ম্যাসাজ করুন। এটি দিনে দুইবার ব্যবহার করুন।

তবে কোনকিছুরই অতিরিক্ত কিন্তু ভালো নয়। প্রয়োজনের বেশি পরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খেলে দাঁতের ক্ষয়, হাড়ের ডেনসিটি কমে যাওয়া (অস্টিওপরোসিস), হাইপোক্যালেমিয়া (পটাসিয়াম লেভেল কমে যাওয়া), ব্লাড সুগার লেভেল কমে যাওয়া, টিস্যু ড্যামেজ ইত্যাদি সাইড ইফেক্টের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  তাই পরিমিত পরিমাণে এবং দরকার হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উত্তম।

আশা করি, পোস্টটি আপনাদের জন্য হেল্পফুল হবে।

লিখেছেন- নিগার বর্ষা

ছবি- হেলথলাইন.কম

সুত্র- টপটেনহোমরেমেডিজ.কম

Comments

comments

Recommended