নারী, তুমি জানো তুমি পারবে…


নারী দিবসে নারীদের কথাটা একটু অন্যরকমভাবে শুরু করা যাক। আজ বড় বড় নারী ব্যক্তিত্বদের কথা বলবো না। আজ বলবো সাধারণ নারীদের কথা যারা হয়ত বিশেষ কোন কাজ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান নি, কিন্তু প্রতিটি দিনকেই বিশেষ করে তুলছেন জীবনযুদ্ধ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে।

নারী… সে একজন মা, একজন কন্যা, একজন বোন, একজন বধূ ও একজন বন্ধু। আমাদের মায়েরা, প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্তে আমাদের আগলে রাখেন। আমাদের এভাবে ভালবেসেই তিনি বেঁচে থাকেন। কন্যারা  লক্ষ্মী হয়ে তার পরিবারে মঙ্গল বয়ে আনে। বোনেরা আমাদের ছায়া হয়ে পাশে থাকে। বধূ পরিবারের ঢাল হয়ে রক্ষা করে। আর বন্ধু আপনার সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থেকে জীবনের মানেটা বুঝতে সাহায্য করে। এভাবে অগণিত পরিচয়ে ঢাকা একটি অবয়ব- এই নারী।

কোমল শরীরের ভেতর কিন্তু অবিচল একটা মন নিয়ে আমরা নারীরা প্রতিনিয়ত চলছি, তাই না? একজন গার্মেন্টস নারীকর্মী, একজন বাসাবাড়িতে কাজ করা মহিলা, একজন ইটের ভাটায় ইট ভেঙে চলেছে যেই নারিটি, একজন ফুল বিক্রেতা মেয়ে, একজন দোকানী.. এভাবে প্রত্যেক রমণী তার জীবনটাকে পায়ে পিষে সংসার টেনে চলেছেন দিনের পর দিন। তার বদলে প্রাপ্য সম্মানটা কি তাকে আমরা দিতে পারছি? আচ্ছা একজন পতিতার অশ্রু শুকানো চোখের নিভু নিভু আলোর ছটা কজন দেখে বলুন তো? তাদের অনেকেই নিজের সন্তানকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলে। তার বিষম কষ্টটা বোঝার কেউ নেই, কারণ সমাজের দৃষ্টিতে সে নিষিদ্ধ স্বত্বা। তার বেঁচে থাকাটাও একটা অজানা কিছু।

একজন গৃহিণী, যার কাজকে বলা হয়, বিনা বেতনের চব্বিশ ঘণ্টার চাকরী! খুব বড়াই করে কখনো তাকেও শোনানো হয়, “তুমি সারাদিন ঘরে বসে কি করো? কিছুই না!” এই কিছুই না টা যে সমস্ত কিছু, তা আমাদের একান্তের এই চব্বিশ ঘণ্টা কাজে ব্যস্ত থাকা মানুষটার অনুপস্থিতিতে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়।

দুর্বল আসলে কেউই নয় জানেন? সবাই দৌড়াচ্ছে। কারণ সবাই বাঁচতে চায়… বাঁচতে হয়। কখনো কখনো এমন খেয়ালও আসে অনেকের, “ঈশ! যদি ছেলে হতাম, কত ভালো হত! জীবনের কষ্টগুলো কম তো হত!” আসলেই কি? বিশ্বাস করুন, এ কথাটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনাকে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, আপনি সেভাবেই সেরা। আপনি নারী হয়ে জন্মেছেন? এটাই আপনার অনন্য পরিচয়, আপনার অসাধারণত্বের অর্জন।

আপনাকে কেউ দুর্বল, অযোগ্য বা অহেতুক ভাবলে তাকে পাল্টা ঘৃণা করবেন না যেন! বরং তার চোখে নারীত্বের পরম কৃতিত্বটিকে তুলে ধরে তার ভুল ভাঙান। ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুক, প্রত্যেক নারীই একেকজন সুপার-ওমেন। নারীজীবন শুধু শাড়ি-চুড়ি-টিপ-আলতাতেই সীমাবদ্ধ নেই। চলতে-ফিরতে প্রতিটা ক্ষেত্রেই নারী এখন জীবন্ত।

তবুও অনেক মেয়েই অন্ধকারে বন্দী আছে, ছিল এবং অপ্রিয় সত্য হলেও সত্যি যে ভবিষ্যতেও থাকবে। পথে-ঘাটে, জীবনে হয়রানি চলবেই। কিন্তু এর জন্য মৌন থেকে অন্যায় সহ্য করে অথবা চিৎকার করে বুদ্ধিহীনের মত চললে হবে না।

প্রতিবাদী হতে হবে, নির্বোধ নয়।

হিংস্র হতে হবে, নির্দয় নয়।

কারণ হতে হবে, অমূলক নয়।

তুমি নারী। তোমার পরিচয় তোমার মধ্যেই আছে। তোমাকে কারও কাছে তোমার মাহাত্ম্য প্রমাণ করতে হবে না। তা তোমার কর্মেই প্রমাণিত হবে।তুমি তোমার নারীত্বে বিশ্বাস রাখো। তুমি সবার আগে তোমার বিশ্বস্ত হও। পৃথিবী তখন একদিন নিজে থেকেই তোমায় মনে গেঁথে নেবে স্বর্ণাক্ষরে।

লিখেছেন- আনিকা ফওজিয়া

ছবি- ভাগাবম্ব.কম