চুলের যত্ন

চুল পড়ার কারণ ও সল্যুশন

এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন যার চুল পড়ার সমস্যাটি নেই। চুল পড়া শুরু হলো, আর অমনি ট্রিটমেন্ট করার জন্যে উঠেপড়ে লাগলাম। ২-১ দিন ট্রাই করার পর বলতে শুরু করলাম কিছুতেই কোনো লাভ হচ্ছে না। আচ্ছা বলুন তো, কয়জন আছেন যারা চুল পড়ার মেইন রিজনটা খুঁজতে যান! অনেকেই চুল পড়ার আসল কারণ না জেনেই ট্রিটমেন্ট এর চিন্তা করেন। যাতে লাভ তো কিছুই হয় না, বরং হতাশা বাড়ে। আবার অনেকের তো এসব বিষয়ে ধৈর্যই নেই। ২-১ দিন কেয়ার করেই সব শেষ!!

একটা কথা কি, ২ দিন না খেয়ে যেমন অন্যদিন প্রচুর খাবার নিয়ে বসলে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয় না, চুলের ব্যাপারটাও তাই। আপনার নিজের জিনিস, আপনার নিজেকেই যত্নে রাখতে হবে।

তো, আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব। তা হলো চুল পড়ার কারণগুলো এবং তার কিছু সমাধান। চলুন জেনে নেই।

চুল পড়ার কারণগুলো

১. টেক কেয়ার:

প্রথমেই যে কমন কারণটার কথা আমি বলব, তা হলো চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়া। চুলের সঠিক যত্ন বলতে আমি বুঝাচ্ছি, বেসিক যে জিনিসগুলো। যেমন – শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার অয়েলিং,হেয়ার মাস্ক ইত্যাদি। অনেকেই অলসতার কারণে এগুলো এড়িয়ে যায়। যার ফলে চুলের গোড়ায় ময়লা জমে, চুল দূর্বল হয়ে যায় এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাই এই বেসিক জিনিসগুলো কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

২. খুশকি:

অনেক আপুই বলেন, শীত এলে কেন এতো চুল পড়ে! কারণ, অনেকেরই দেখা যায়, শীতকালে খুশকি হওয়ার প্রবনতা বেড়ে যায়। আর খুশকি যেহেতু এক ধরনের ফাংগাস যা মাথার স্কাল্প ঢেকে দেয়, তাই এর ফলে টেম্পোরারি হেয়ার ফল হতে পারে। তাই খুশকির ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে হেয়ার ফল কমানো যাবে।

৩. শারীরিক অসুস্থতা:

বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দিতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা বা পরিবর্তন শরীরের ব্লাড সাপ্লাইয়ের উপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে মাথার স্কাল্পে ব্লাড সার্কুলেশনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং চুল পড়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া মহিলাদের পিরিয়ডের সময়টাতে অনেকেরই অনেকবেশী চুল পড়ে।

৪. মেডিসিন:

মেডিসিন তো আমাদের বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচায়। তবে কিছু মেডিসিনের সাইড ইফেক্ট এর কারণে প্রচুর চুল পড়তে পারে। অনেকেই প্রচুর ভিটামিন এ জাতীয় মেডিসিন নিয়ে থাকেন, যা চুল পড়ার জন্যে দায়ী।

৫. পরিপূর্ণ ভিটামিনের অভাব:

যারা ডায়েটে আছেন / ভেজিটেরিয়ান / হেভী পিরিয়ড ইত্যাদি পরিপূর্ণ ভিটামিন, প্রোটিন, আয়রন, জিংক ইত্যাদির অভাবের জন্যে দায়ী। তাই যারা ডায়েটে আছেন তারা খেয়াল রাখবেন, শরীর যাতে তার পর্যাপ্ত ভিটামিন এবং মিনারেলস পায়। আর হেভি পিরিয়ড এর সময় পুষ্টিকর খাবার কিন্তু মাস্ট।

৬. হরমোনাল প্রবলেম:

হরমোনাল প্রবলেম চুল পড়ার অনেক একটি বড় কারণ, বিশেষ করে যাদের থাইরয়েড আছে। এছাড়াও আর একটি হরমোনাল ইস্যু হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম।

৭. স্ট্রেইস:

মনে যদি দুশ্চিন্তা নিয়ে বসবাস করেন, তাহলে উপর দিয়ে যতই ট্রিটমেন্ট করেন না কেন, চুল পড়া কমবে না। তাই যতটা সম্ভব স্ট্রেইস থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন।

৮. কেমিকেলস:

নিজেদের আকর্ষনীয় দেখাতে আমরা হেয়ার কালার, হেয়ার রিবন্ডিং করে চলেছি। এই সকল প্রোডাক্টে থাকা কেমিকেলস প্রতিনিয়ত চুলের ক্ষতি করে যাচ্ছে আর চুল পড়াও বেড়ে যাচ্ছে। তাই এই সকল প্রোডাক্টস থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা যায়, ততই চুলের জন্যে ভালো।

৯. দূষণ:

আজকাল রাস্তায় চুল খুলে বের হলেই চুলের অবস্থা বারোটা বাজতে সময় লাগে না। ধুলোবালি ও দূষণ চুল পড়ার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে একটি। তাই বাইরে বের হলে চুল বেঁধে অথবা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে বের হওয়াই ভালো। এছাড়া পানির কারণেও চুল পড়ে অনেক সময়। আর সেই টপিকটা নিয়ে অন্যদিন ডিটেইল-এ কথা বলবো।

চুল পড়ার সল্যুশন

কারণগুলোতো জেনে নিলেন, এবার থেকে তো যাচাই করে নিতে পারবেন কি কারণে চুল পড়ছে। তাহলে এবার চলে আসি একটু সল্যুশন এর দিকে। চুল পড়া রোধে চুলের স্বাস্থ্য এর দিকে নজর রাখা খুবই জরুরী। চুল পড়ার বেসিক সল্যুশন এর জন্যে কার্যকরী কিছু সমাধানের কথা চলুন জেনে নেই।

** চুল পড়ার কারণ হিসেবে চুলের বেসিক পরিচর্যার কথা বলেছি প্রথমেই। আর এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, হেয়ার অয়েলিং। এক্ষেত্রে, রিজনেবল দামে যে অয়েলটি বেশ ভালো কাজ দেয় সেটি হল, প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার তেলটি।

** হেয়ার কেয়ারে আমি ন্যাচারাল ইনগ্রিডিয়েন্টগুলোকে সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আর এই তেলে মেথি, আমলকী এবং অ্যালোভেরা জেল এর মতো ন্যাচারাল উপাদান রয়েছে। আমরা তো সকলেই জানি, চুল পড়া রোধে এই উপাদানগুলো কতোটা উপকারী। এই তেলটা একটি ছোট বাটিতে নিয়ে প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে মাথার চুল আঁচড়ে নিয়ে সিঁথি কেটে কেটে স্কাল্পে এবং পুরোচুলে লাগাবেন এবং ৫ মিনিট মাথার স্কাল্প ম্যাসাজ করবেন। এই স্টেপটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরদিন চুল শ্যাম্পু করে ফেলবেন। এভাবে সপ্তাহে ২-৩ দিন করবেন।

** চুল পড়া রোধে এবং মাথার স্কাল্পে ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধিতে আর একটি উপকারী পদ্ধতি হলো হট অয়েল ট্রিটমেন্ট। এজন্যে, প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার তেলটিকে হালকা গরম করে নিয়ে একইভাবে মাথার স্কাল্প এবং চুলে লাগিয়ে নিন। এরপর আমি যে স্টেপটি করতে পছন্দ করি তা হলো, মাথায় একটি হট টাওয়েল পেচিয়ে রাখি। ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে নেই। এই স্টেপটি ফলো করলে শ্যাম্পু করার পর নিজেই তফাত দেখতে পারবেন।

** চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে এবং চুল পড়া কমিয়ে আনতে সপ্তাহে ১ দিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। চুল পড়ার জন্যে আমার ফেভারিট মাস্কটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। এই মাস্কটি তৈরীর জন্যে, একটি বাটিতে ১/৩ কাপ কোকোনাট মিল্ক, ১ চা চামচ পেয়াজের রস, ১ চা চামচ এলোভেরা জেল এবং ২ চা চামচ প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার তেল নিয়ে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মাস্কটি চুলের সিঁথি কেটে কেটে পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।

এই তো ছিল, চুল পড়ার কারণ এবং তার সমাধান নিয়ে যত কথা। আশা করছি আপনাদের অনেক বেশী হেল্প হবে।

লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

Comments

comments

Recommended