কর্ম জীবনের শুরু!


অফিসের প্রথম দিন থেকেই বসের মন জয় করুন সহজেই নতুন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করা প্রত্যেকের জীবনে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি একদিকে যেমন মানুষের জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করে তেমনিভাবে তার সামনে নতুন একটি চ্যালেঞ্জেরও সৃষ্টি করে। অফিসে বসের কাছে প্রথমদিন থেকেই ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাহলে আসুন দেখি বসের মন জয় করার ক্ষেত্র কোন বিষয়গুলো আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

কাজে দ্রুত অবদান রাখুন: খুব দ্রুত অফিসের দলীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার চেষ্টা করুন। যারা এই কাজটি সফলভাবে করতে পারে তারা বসের ইতিবাচক মনোভাব লাভ করতে সক্ষম হয়। তারা বসের মনে এই ধারণা জন্মাতে সক্ষম হয় যে, তারা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদে বিজয়ী হিসেবে থাকবে।

বড় একটি আইডিয়া নিয়ে আসুন: সময় ব্যয় না করে খুব দ্রুতই বসের কাছে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য সাহসী একটি আইডিয়ার প্রস্তাব করুন। এটি হবে আপনার আত্নবিশ্বাস ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের একটি বড় মাধ্যম।

কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করুন: প্রথমদিকে অফিসের কাজে সময় হিসেব করে কাজ না করাই ভাল। অফিসের কাজে অতিরিক্ত সময় ও প্রয়াস প্রদর্শন করুন। বস এ ধরনের কর্মীদের বেশি পছন্দ করেন। নিজের দায়িত্ব–কর্তব্যের পাশাপাশি অন্য সবার দায়িত্ব–কর্তব্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন।

সুসম্পর্ক বজায় রাখুন: সবাইকে দেখাতে হবে যে, আপনি লাজুক নন এবং আপনি দলের একজন সদস্য হতে প্রস্তুত। সবার সাথে নিজের পরিচিতি বাড়িয়ে নিন। সবচেয়ে ভাল হয় সবার নাম আর তার সাথে প্রত্যেকের ব্যাপারে ছোট খাটো তথ্য মনে রাখুন। এটি আপনাকে সবার সাথে সুসম্পর্ক নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ক্যারিয়ারে দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জনে দলে নিজের সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হাসি মুখে কাজ করুন: অফিসের সবার সাথে হাসি মুখে কাজ করুন। কারণ অফিসের বস সবসময় এটি পর্যবেক্ষণ করেন যে, আপনি সবার সাথে কীভাবে কথা বলেন ও যোগাযোগ রাখেন। হাসি মুখে কথা বলা ও কাজ করা আপনাকে সবার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করবে, তা না হলে আপনি কাজে সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

কাজে আগ্রহী হউন: অফিসের প্রথমদিন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করুন, যত সম্ভব তাদের মধ্যে নিজের পরিচিতি বাড়িয়ে নিন। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের সাথে আলাপ–আলোচনা করুন। আপনার পরিকল্পনা ও মতামত তাদের কাছে সুচারুভাবে উপস্থাপন করুন। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও মননশক্তিকে ব্যবহার করুন।

প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য- উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিন: দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন করতে হলে প্রথমদিন থেকেই প্রতিষ্ঠানের  লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী নীতি বা কৌশল সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান অর্জন আপনার কর্মদক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ দক্ষতা অর্জন আপনার দৈনন্দিন কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বস আপনার কাছে কি প্রত্যাশা করেন এবং আপনাকে কি করতে হবে সে ব্যাপারে আপনার সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে হবে।

গবেষণা করুন: কাজ করে করে অনেক কিছু শেখা যায়, কিন্তু কিছু কিছু বিষয় থাকে যেগুলো পড়াশোনায় ও গবেষণার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। বিভিন্ন ধরনের বই ও গবেষণাপত্র অধ্যয়ন এ ক্ষেত্রে খুবই ফলপ্রসু হতে পারে। এটি আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে। মানুষের মননশক্তি ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে গবেষণা খুবই সহায়ক।

ছবি – দিব্যালেন্স ডট কম

লিখেছেন –  হসিয়া খংপডা