এসো নিজে করি, সম্পাদকের পছন্দ, সৌন্দর্য পরামর্শ

উজ্জ্বল ত্বকের ম্যাজিকাল এক্সফোলিয়েটর!

অনেক দিন পরে ঊর্মির সাথে দেখা। ওকে দেখেই অবাক! ৩০ ছুঁই ছুঁই  করলেও চেহারায় এখনও সেই লাবণ্যতা রয়ে গেছে। দেখা হবার সাথে সাথে প্রথম কথার মতোই বেড়িয়ে এলো, কি ব্যাপার বল তো তুই তো এখনও আগের মতোই সুন্দর আছিস! ওর মুখে প্রশান্তির হাসি।

পুরনো বান্ধবীর সাথে দেখা একটু লেগ পুলিং না করলে কি হয়! এখনও কি বলবি আমি তো কিছুই করি না! হাসতে হাসতে ঊর্মি বলল, এখন তা বলার সুযোগ নেই। এখন একটু নিজের দিকে খেয়াল না রাখলে তো বয়স যৌবন গিলে খাবে!!

তাহলে স্বীকার করছিস যে বয়সকে দমিয়ে রাখার চেষ্টায় তুইও কম যাস না? কথায় কথায় অনেক পুরনো ফ্রেন্ডের কথা তো জানা হল। অনেক স্মৃতিচারণ। এসব কথা আপনাদের বলছি কেন? জানতে পারবেন। পড়তে থাকুন।

একটু আগেই তো বলেছিলাম অনেক কথাই হল সেদিন। আমার সেই সুন্দরী ফ্রেন্ডটিও কিন্তু তার গ্লোয়ি স্কিনের রহস্য আমাকে জানিয়ে দিয়েছিল। এবং তার দেয়া রেসিপি টা ফলো করে কিন্তু আমি উপকৃত হয়েছি! আর তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে ওর গ্লোয়ি ত্বকের এক্সফলিয়েটর রেসিপি টি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

ত্বকের যত্নের জন্য পারফেক্ট টাইম আমার মনে হয় রাতটাই বেষ্ট। এই সময় বাড়তি কোন কাজ থাকে না। যারা খুব ব্যস্ত দিন কাটান। তারাও যদি চান রাতে অন্তত ১ ঘণ্টা রাখতে পারেন নিজের জন্য। রেস্টরুমে গান গেয়ে গেয়ে মুখ ফেইস ওয়াশ দিয়ে ধোয়ার বদলে হাতের কাছে রাখুন স্ক্র্যাবার। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বই পড়ার আগে একটু প্যাক লাগিয়ে নিলেন মুখে, হাতে, পায়ে।  একটু ট্রাই করে দেখুন। হাতে সময় নেই বলে আর ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কি কোন লাভ হচ্ছে আমার বা আপনার। সময়ের কাছে অসহায় না হয়ে নিজেকে ভালোবাসাটা জরুরী। তবেই তো হঠাৎ কোন পুরনো চেহারা আপনাকে দেখে ততোটাই অবাক হবে যতটা আমি আমার ফ্রেন্ডকে দেখে হয়েছিলাম।

ত্বকের স্মুদনেস এবং কাঙ্ক্ষিত গ্লোয়ি লুক পেতে হলে এক্সফলিয়েশন মাস্ট! তবে সেটা প্রতিদিন নয় সপ্তাহে খুব বেশি করে হলেও ৩ দিন মাঝে একদিন করে গ্যাপ দিয়ে।  তাহলে দেখে নেয়া যাক, স্কিন এক্সফলিয়েটর কীভাবে তৈরি করবেন।

সবগুলো উপাদান মিক্স করে একটি এয়ার টাইট জারে রেখে দিতে পারেন। ২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্ক্রাবটি ভালো থাকবে। সার্কুলার মোশনে নিচ থেকে উপরের দিকে ম্যাসাজ করতে থাকুন। ৩ থেকে ৫ মিনিট স্ক্র্যাবিং করে মুছে ফেলুন।

যাদের রেগুলার সাজগোজের রূপচর্চা পড়া হয় তারা এতদিনে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং এলিমেন্ট সম্বন্ধে। তবে এই ন্যাচারাল ব্রাইটেনিং স্ক্র্যাবে আমন্ড অয়েল এবং স্যুইট অরেঞ্জ যোগ নতুন লাগছে তো। স্যুইট অরেঞ্জ এসেনশিয়াল অয়েল ত্বকের গভিরে প্রবেশ করে ত্বকের উজ্জলতাকে বুস্ট আপ করে তুলবে।

আমন্ড অয়েলের উপাদান প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনের কাজ করবে। আবার ভেবে বসবেন না যে এই স্ক্র্যাবার ইউজ তো করছেন কাজেই আর সানস্ক্রিন লাগানোর মটেই প্রয়োজন নেই। বাইরে এবং চুলার কাছে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই অবশ্যই করতে হবে।

সবচেয়ে জরুরী হল ময়েশ্চারাইজিং! এক্সফলিয়েশন এর পর ত্বক খুব ড্রাই হয়ে যায় তাই ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিতে ভুলবেন না।

মডেল – নীলা

ছবি – কৌশিক ইকবাল

লিখেছেন – মরিয়ম আক্তার

 

 

Comments

comments

Recommended