ত্বকের যত্ন, সম্পাদকের পছন্দ

সাত দিনেই উজ্জ্বল ত্বক!

পারফেক্ট ত্বক কে না চায় বলুন? আমরা সবাই চাই আমাদের ত্বক হোক একদম নিখুঁত। কিন্তু ত্বকের সমস্যা যেন একের পর এক লেগেই থাকে। আজ পিম্পল, তো কাল ডার্ক প্যাচ এরকম নানা সমস্যা লেগেই থাকে। তখন আমরা করি কি, সব সমস্যার সমাধান  একসাথে শুরু করে দেই। এতে করে কাজের বদলে অনেক সময় অকাজই বেশি হয়। এই কথা মাথায় রেখেই আজ একটি সাত দিনের রুটিন তৈরি করবো আপনাদের জন্যে যাতে, স্কিন এর কেয়ার থাকে একদম ঠিকঠাক। এই রুটিন মেনে চললে সাত দিনের মাথায় একটু হলেও পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন আপনি।  তাহলে আর কথা কেন। চলুন চলে যাই আমাদের সাত দিনের রূপচর্চার রুটিনে।

 দিন ১ 

প্রথম দিনের কাজ হল CTM মেইনটেইন করা। নতুন মনে হচ্ছে? এটি আর কিছুই না, ক্লিঞ্জিং, টোনিং আর ময়েশ্চারাইজিং। আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী একটি ক্লিজার দিয়ে মুখ ধুয়ে দিন এর শুরু করুন। এরপরে লাগান টোনার। টোনার একদিকে যেমন আপনার ত্বকের শেষ বিন্দু ময়লাটুকুও তুলে ফেলবে, অন্যদিকে ত্বকের পি এইচ ব্যাল্যান্স ঠিক রাখবে এবং ত্বকের ওপেন পোর গুলো বন্ধ করে দেবে। এরপরে লাগান একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার।

প্রথম দিন আমরা একটা হোয়াইটেনিং ফেইস প্যাক লাগাবো। এই ফেইস প্যাক আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী বানিয়ে নেবেন আপনি। তবে বেসিক কিছু  হোয়াইটেনিং উপাদান হল পাকা পেঁপে, লেবু, দুধ, দই, মধু এবং টমেটো। এই উপাদানগুলো নিয়ে আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী একটি ফেইস  প্যাক লাগাতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বক হলে মধু বাদ দিতে পারেন।

দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সারা দিনে মুখে লাগানো সমস্ত মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলা। এবং এর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে বেবি অয়েল দিয়ে মুখের ত্বক রাব করে নেয়া। এরপরে ঘুমুবার আগে আরেকবার CTM মেইনটেইন করা। এটি করার পরে চোখের নিচে আই সিরাম লাগিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ুন।

দিন ২

দ্বিতীয় দিন এ এসে বাইরের রূপচর্চার পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার ওপর একটু লক্ষ্য রাখতে হবে, কেননা শুধুমাত্র বাইরের যত্নে ত্বকের গ্লো আনা সম্ভব না।  তাই এই দিন যতটা বেশি সম্ভব পানি এবং ফলমূল খেতে হবে।

দ্বিতীয় দিনে এসে CTM রুটিন শেষ করে আমরা একটা ফ্রুট ফেইস প্যাক লাগাবো। ফ্রুট ফেইস প্যাক বানানো খুবই সহজ। শুধু ত্বকের ধরণটা বুঝে লাগাতে হবে। যেমন শুষ্ক ত্বকের জন্যে কলা আবার অয়েলই ত্বকের জন্য লাগাতে পারেন স্ট্রবেরি।  আগের দিন এর মতো রাতেও আবার CTM রুটিন শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ুন।

দিন ৩

তৃতীয় দিনে এসে আমরা ত্বকের ডেড সেল গুলো সরিয়ে ফেলব। সেই জন্যে আমাদের করতে হবে এক্সফলিয়েশন। এক্সফলিয়েশন যে শুধু ত্বকের ডেড সেল দূর করবে, তা কিন্তু নয়, এতে করে ত্বকে যে ফেইস প্যাক বা ফেইস মাস্ক বা যা কিছুই লাগানো হোক না কেন, সেটা অনেক বেশি পরিমানে শোষণ করতে পারবে।

এক্সফলিয়েশন এর জন্যে বাড়িতে বানানো স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন, আবার চাইলে সুবিধা অনুযায়ী কেনা স্ক্রাবারও ব্যবহার করতে পারেন। এক্সফলিয়েশন এর পরপরই কিন্তু টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং করাটা আবশ্যক। এই ধাপের পরে আপনি চাইলে একটা নারিশিং প্যাক পাগাতে পারেন।

তৃতীয় দিন রাতে  CTM রুটিন এ ক্লিঞ্জিং এর পরে আমরা একটা ফেইস প্যাক লাগাবো আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী।  এরপরে আই সিরাম লাগিয়ে ঘুমুতে যান।

 দিন ৪

চতুর্থ দিনের মাথায় আপনি নিজেই আপনার ত্বকের টেক্সচার, টোন সব কিছুতেই একটু হলেও ইমপ্রুভমেন্ট লক্ষ্য করবেন। চতুর্থ দিনে ক্লিঞ্জিং এর পরে আমরা মুখে ভাপ দেব। এতে করে ত্বকের পোরস খুলে যাবে। এতে করে ত্বক পরিস্কার করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ৫ মিনিট ভাপ দেয়ার পরে  একটা ব্ল্যাক হেডস ক্লিনার দিয়ে মুখের যেসব অংশে ব্ল্যাক হেডস এবং হোয়াইট হেডস আছে, সেগুলো চেপে চেপে পরিষ্কার করে ফেলুন। এরপরে চাইলে আপনি একটি মুলতানি মাটির প্যাক বা মধু-ওটমিল এর প্যাক লাগাতে পারে। এই ধাপের পরে টোনিং করাটা মাস্ট। নইলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তারপর যথারীতি ময়েশ্চারাইজার।

রাতে আগের মতোই CTM রুটিন শেষ করে শুয়ে পড়ুন।

 দিন ৫

পঞ্চম দিন এ এসে CTM রুটিন এ আমরা যোগ করবো অ্যালোভেরা ম্যাসাজ। আপনি চাইলে সরাসরি অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল তুলে ব্যবহার করতে পারেন। অনেকের আবার সরাসরি অ্যালোভেরা জেল লাগালে অ্যালার্জিও হয়, তারা প্রসেস করা কোনও অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করবেন।

আর রাতের বেলার CTM রুটিন এ আমরা যোগ করবো একটা চন্দনের ফেইস প্যাক। ফেইস প্যাক এর মূল উপাদান হবে চন্দন, বাকি উপাদান আপনি আপনার ত্বক অনুযায়ী যোগ করবেন।

দিন ৬

ষষ্ঠ দিনে এসে আমরা  আমাদের  নিয়মিত CTM রুটিন এর সাথে আরেকবার এক্সফলিয়েশন করবো। আগের মতো এক্সফলিয়েশন এর পরপরই কিন্তু টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং করে নিতে হবে। আর সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফল-সবজি খেতে হবে।

 দিন ৭

সপ্তম দিন এ এসে আমরা আরেকবার ফ্রুট ফেইস প্যাক লাগাবো। সেই সাথে সকালে ও রাতের বেলার CTM রুটিন  মেইনটেইন করবো।

এই হল সাত দিনের রুটিন। এর সাথে যে জিনিসগুলো করতে হবে তা হল, বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগানো এবং প্রতিদিন হালকা ফ্রি এক্সারসাইজ। এই সব কিছু ঠিকঠাক মতো করতে পারলে সাত দিনের মাথায় আপনি নিজেই নিজের ত্বকের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।  তাহলে আর দেরি কেন? এই তো উৎসবের মৌসুম, কবে কোথায় দাওয়াত পড়ে যাবে। আজ থেকে শুরু করে দিন তাহলে আপনার গ্লোইং স্কিন রুটিন।

ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।

মডেল –  শবনম ফারিয়া

ছবি – কৌশিক ইকবাল

লিখেছেন – মাহবুবা বীথি

Comments

comments

Recommended