ত্বকের যত্ন

ত্বকের পাশাপাশি চাই মেকাপ কিটস এর যত্ন

রাতে প্রতিদিন মেকাপ পরিষ্কার করে তো ঘুমান, কিন্তু যে জিনিসগুলো দিয়ে মেকাপ করেন সেগুলো কি পরিষ্কার করা হয়? হ্যাঁ, আমি মেকআপ কিটের কথাই বলছি। প্রতিদিন ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে কন্ট্যুরিং, হাইলাইটার, আইশ্যাডো কত কিছু ব্যবহার করেন। এসবে ইউজ করেন কতরকম ব্রাশ, বিউটি ব্লেন্ডার, আইল্যাশ কার্লার, শার্পনার আরো কত কি! এমনকি চিরুনিও কিন্তু মেকাপ টুলসের মধ্যেই পড়ে। এই মেকাপ কিট গুলো শেষ কবে পরিষ্কার করেছিলেন মনে আছে?

স্কিন কেয়ার নিয়ে যত ব্লগিং, টিউটোরিয়াল করা হোক না কেন সবার প্রথমে যে টিপসটি থাকে তা হলো, দিনশেষে খুব ভালোভাবে মেকাপ রিমুভ করে নিতে হবে। কারণ, মুখ পরিষ্কার না করলে পিম্পলস, ব্ল্যাকহেডস ও নানারকম ইনফেকশন হওয়ার চান্স থেকে যায়। কিন্তু মুখের মেকাপ রিমুভিংয়ের সাথে সাথে মেকাপের কিটসগুলোও পরিষ্কার করা জরুরী। যা আমরা অনেকেই করি না। অনেকদিন পরিষ্কার না করার কারণে এসব কিটে বিভিন্ন রকম ব্যাকটেরিয়া জমে যায় যা পরে মুখে ব্যবহার করলে আরো সিরিয়াস ইনফেকশন হওয়ার চান্স থাকে। এই মেকাপ কিট গুলো পরিষ্কার করার খুব সহজ কিছু টিপস আজকে শেয়ার করব।

কতদিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে?

বিভিন্ন ডার্মাটোলজিস্টের মতে, যারা রেগুলার মেকাপ করেন তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন মেকাপ কিট পরিষ্কার করা উচিত। স্পেশালি মেকাপ ব্রাশ, বিউটি ব্লেন্ডার। কারণ এইগুলো সরাসরি মুখে ব্যাবহার করা হয়। আর অন্যান্য কিট গুলো দুই সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করা যেতে পারে। তাছাড়া মেকাপ কিট নিয়মিত পরিষ্কার করলে এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় ও মেকাপ ভালো ব্লেন্ড হয়। অনেকদিন ক্লিন না করলে এর উপর তেল ও ময়লা জমে যায় যার কারণে মেকাপের সময় ব্লেন্ড হতে ঝামেলা হয়।

কোন মেকাপ টুলস কীভাবে পরিষ্কার করবেন তা ভাবছেন? মেকাপ ব্রাশ, হেয়ার ব্রাশ, টুইজার একেকটি কিট পরিষ্কার করার পদ্ধতি একেক রকম।

  • মেকাপ ব্রাশ

ফাউন্ডেশন, কন্ট্যুরিং, হাইলাইটারের জন্য আলাদা আলাদা ব্রাশ ইউজ করা হয়। এছাড়া চোখের জন্য ব্যবহার করা হয় আলাদা ব্রাশ। এগুলো সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিষ্কার করা উচিত। যারা অকেশনালি মেকাপ করেন তার দুই সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করতে পারেন।

হাতের তালুতে অল্প বেবি শ্যাম্পু বা হালকা ক্লিনজার নিন। এবার একটি ব্রাশ ভিজিয়ে নিয়ে তা হাতের তালুতে নেয়া শ্যাম্পুর উপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হালকাভাবে ঘষতে থাকুন যেভাবে মেকাপ ব্লেন্ড করেন ঠিক সেভাবে। দেখবেন ব্রাশে লেগে থাকা ময়লা ও মেকাপগুলো উঠে আসছে। সব ময়লা পরিষ্কার হয়ে গেলে এবার পানি ছেড়ে তার নিচে হাত রেখে একিভাবে ঘষতে থাকুন। দেখবেন পরিষ্কার হয়ে গেছে। ধোয়া হয়ে গেলে ব্রাশ গুলো কখনও খাড়াভাবে রেখে শুকাবেন না। এতে পানি নিচের দিকে যেয়ে জমে যায় ও ব্রাশ নষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই ফ্ল্যাট ভাবে রেখে ব্রাশের সামনের দিকটি সামান্য নিচু করে রেখে শুকাবেন।

  • বিউটি ব্লেন্ডার বা মেকাপ স্পঞ্জ

প্রতিবার ব্যবহারের পরপরই মেকাপ স্পঞ্জটি পরিষ্কার করে নিবেন। একটি সালফেট ফ্রি সাবান নিয়ে তা স্পঞ্জে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এবার স্পঞ্জটি ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিন। সব সাবান বের হয়ে গেলে চেপে অতিরিক্ত পানি বের করে একটি পরিষ্কার টাওয়েল দিয়ে আরেকটু চেপে মুছে নিন।

  • হেয়ার ব্রাশ বা চিরুনি

হেয়ার ব্রাশ বা চিরুনি আপনি দুই থেকে তিন সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করতে পারেন। একটি বোলে মাইল্ড কোন শ্যাম্পু নিয়ে তাতে ব্রাশটি ৩ থেকে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এবার একটি পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করে নিন। ব্রাশ যদি প্লাস্টিকের না হয়ে ফেব্রিকের হয় তাহলে এতক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না। সেক্ষেত্রে সামনের ব্রাশযুক্ত অংশটি শুধু ভিজিয়ে নিবেন। এরপর মেকাপ ব্রাশের মতো করে পরিষ্কার করে ফ্ল্যাটভাবে রেখে শুকাবেন।

  • কাজল ও লিপ লাইনার শার্পনার

এই জিনিসটিকে আমরা কেউই তেমন গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এটিও যে মেকাপ কিটের একটি অন্যতম অংশ তা আপনি না মেনে পারবেন না। অন্যান্য টুলসের মতো এটিও সপ্তাহে একদিন পরিষ্কার করতে হবে। একটি কটনে অল্প অ্যালকোহল নিয়ে তা দিয়ে ঘষে শার্পনারের ব্লেড ও অন্যান্য অংশে লেগে থাকা লিপ লাইনার ও কাজলের ময়লা পরিষ্কার করে নিন। এই ময়লাগুলোকে আমরা খুব একটা কেয়ার করি না। কিন্তু এগুলো অনেকদিন ধরে জমে থেকে তাতে ব্যাক্টেরিয়ার গ্রোথ হয়। পরে যখন আমরা আবার শার্প করতে যাই তখন সেই ব্যাক্টেরিয়া লিপ লাইনার ও কাজলে লেগে যায়। তাই একে অবহেলা করা চলবে না।

  • আইল্যাশ কার্লার

শার্পনারের মতোই একটি কটন প্যাডে সামান্য মেকাপ রিমুভার লাগিয়ে নিয়ে তা দিয়ে আইল্যাশ কার্লারের রাবার প্যাড ভালভাবে মুছে নিন। এতে রাবার প্যাডে জমে থাকা মাশকারা যা আবার আপনার আইল্যাশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এবার হালকা গরম পানি দিয়ে কার্লারটি ধুয়ে নিন। আপনার আইল্যাশ কার্লার প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন।

আপনার বিউটি ব্লেন্ডার বা মেকাপ স্পঞ্জটি তিন থেকে চার মাসের বেশি ব্যবহার করবেন না। আর ব্রাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি দেখেন এটির স্মুথ ভাব আর পাচ্ছেন না বা হালকা খোঁচা লাগছে সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে ব্রাশ চেইঞ্জ করার সময় হয়েছে।

আপনি কি আপনার ত্বককে ভালোবাসেন? তাহলে আজ থেকেই ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি মেকাপ কিটসেরও যত্ন নেয়া শুরু করুন। কারণ এটি আপনার ত্বকের খুব কাছের একটি জিনিস।

ছবি –  উইকিহাও ডট কম, স্টাইলক্রেজ ডট কম

লিখেছেন – অ্যালিস

Comments

comments

Recommended