চুল, প্রসাধনী সম্পর্কে, সম্পাদকের পছন্দ

কোমল হোক চুলের যত্ন!

‘মাইল্ড শ্যাম্পু’ শব্দটা এই পেজের কতোগুলো লেখায় অথবা ভিডিও কনটেন্টে পেয়েছেন বলুন তো। অনেক অনেক বার তাই না? চুলের যত্নে যেকোনো মাস্ক বা তেলের রেসিপি দেয়ার পরপর আমরা সবসময়ই বলে দেই যে চুল যেন ধোবার সময় অবশ্যই অবশ্যই মাইল্ড শ্যাম্পু  ব্যাবহার করা হয়।

কিন্তু খেয়াল করে দেখলাম স্পেসিফিকালি এই বিশেষ ধরণের শ্যাম্পু কি? এগুলো কোথায় কত দামে পাওয়া যায়? আর কেনই বা এগুলোই ইউজ করতে হবে হেলদি শাইনি চুল আর স্বাস্থ্যবান স্কাল্পের জন্য…?  এসব নিয়ে একটু ইনফরমেটিভ পোস্ট আমরা দেইনি তেমন। আর তাই পাঠক বারবার ‘মাইল্ড শ্যাম্পু’ ইউজ করার জন্য বাজারে গিয়েও সঠিক ব্র্যান্ড চিনতে না পাড়ার কারণ খালি হাতে ফিরে আসছেন এবং কনফিউজড হচ্ছেন।

মাইল্ড শ্যাম্পু- সংক্রান্ত কিছু বেসিক প্রশ্নের উত্তর এবং বিভিন্ন প্রাইস রেঞ্জে বিভিন্ন চুলের জন্য এই ধরণের শ্যাম্পু অথবা এর কাছাকাছি কিছু অপশন নিয়ে কথা বলব আজকের লেখায়।

মাইল্ড শ্যাম্পু আসলে কি?

না, শ্যাম্পু ব্র্যান্ডের নামটাই ‘মাইল্ড শ্যাম্পু’ নয়। সো এই ব্র্যান্ড দোকানে খুঁজে কোন লাভ নেই।

মনে রাখতে হবে, শ্যাম্পু একটি ক্লিঞ্জার। এর কাজ নোংরা ধুলা ময়লা পরিষ্কার করা। আর কিছুই নয়। সো ময়লা পরিষ্কার করার জন্য শ্যাম্পু বিভিন্ন ধরণের ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে। অনেক সময় এই ডিটারজেন্ট গুলো চুল এবং মাথার ত্বকের জন্য অনেক বেশি হার্শ হয়।

চিন্তা করুণ, আপনি নিশ্চয়ই আপনার দামি জামদানী শাড়িটা আপনার কাঁথার মতো করে সাবান দিয়ে ঘষে আঁচড়ে আঁচড়ে ধোবেন না তাই না? আপনি এই ফ্র্যাজাইল ফ্যাব্রিকের জন্য খুব সাবধানে হালকা কোন ডিটারজেন্ট ইউজ করবেন/ আরও কেয়ারফুল হয়ে সেটা ড্রাই ক্লিনারে দেবেন, রাইট?

আপনার চুল তো ওই শাড়ি থেকেও দামি তাই না? তবে আপনি কি চাইবেন কাপড় কাঁচার কড়া ডিটারজেন্ট দিয়ে ঘষে ঘষে আপনার অমূল্য চুল পরিস্কার করতে? অবশ্যই না!

আর এখানেই চলে আসে মাইল্ড শ্যাম্পু প্রসঙ্গ। জামদানী শাড়ীর সাবান যেমন ফ্যাব্রিককে প্রটেক্ট করার জন্য খুব হেভি হার্শ ডিটারজেন্ট এড়িয়ে চলে, তেমনি ডেইলি অথবা সপ্তাহে ৩-৪ বার শ্যাম্পু করার জন্য যেন চুলের কোন ক্ষতি না হয় তাই এ ধরণের স্পেশাল শ্যাম্পু গুলোও কোন নরমাল হার্শ ক্লিনজিং এজেন্ট ইউজ করে না।

মাইল্ড শ্যাম্পু কেনার সময় মনে রাখবেন-

  • মাইল্ড শ্যাম্পু যেকোনো ধরণের সালফেট বেসড ক্লিনজার ইউজ করবে না। এতে সাধারনত নন আয়োনিক সারফেকট্যাণ্ট ইউজ করা হবে।
  • অ্যালকোহল থাকবেই না, কারণ অ্যালকোহল চুল এবং স্কাল্প অতিরিক্ত ড্রাই এবং রুক্ষ করবে।
  • যেকোনো ধরণের আর্টিফিশিয়াল রঙ অথবা পারফিউম থাকবে না অথবা কম থাকবে।
  • সিলিকন থাকবে না। রঙ, পারফিউম সিলিকন এগুলো চুলের কোন উন্নতি তো করেই না বরং উল্টো ক্ষতি করে, সো এগুলো যত এড়িয়ে চলবেন ততই ভালো।

কিছু সাজেশন-

দাম- ৯০০ টাকার মতো। স্যাফায়ারসহ যেকোনো বড় অনলাইন অথেনটিক কসমেটিক সেলারের কাছে পাবেন। এই শ্যাম্পু অরগানিক উপাদান ইউজ করে। এবং সপ্তাহে সেফলি ৩-৪ বার ইউজ করা যায়। ড্রাই, অয়েলি, কালারড চুলের জন্য আলাদা আলাদা ভ্যারিয়েশন রয়েছে। নিজের চুলের ধরন হিসেবে চুজ করতে পারবেন।

 

  • রাহুয়া শ্যাম্পু

অপেক্ষাকৃত নতুন এই প্রোডাক্ট ১০০% ন্যাচারাল উপাদান দিয়ে তৈরি এবং সব ধরণের সালফেট ফ্রি। একই সাথে এটি একটি গ্রিন বিউটি প্রোডাক্ট। এসব কারণে ধীরে ধীরে এই প্রোডাক্ট বিভিন্ন সার্কেলে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ডেইলি ইউজের জন্য পারফেক্ট। কিন্তু দামটা বেশি। প্রায় ৩৫০০-৪০০০ টাকা। সো এটাকে লাক্সারি শ্যাম্পু বলা চলে।

 

শিশুদের দের জন্য তৈরি এই শ্যাম্পু কমপ্লিটলি সালফেট ফ্রি, প্যারাবেন ফ্রি এবং ডেইলি ইউজের জন্য একেবারে পারফেক্ট। দাম ৯০০-১০০০ টাকা।

  • এছাড়াও খুব ভালো মাইল্ড শ্যাম্পু ব্র্যান্ডের ভেতরে আছে ইন্ডিয়ান- ফরেস্ট এসেনশিয়াল , কামা আয়ুর্বেদা। এদের হেয়ার ক্লিঞ্জার ডেইলি ইউজ করা যায়। দাম ২০০০-৩০০০ টাকার মতো।
  • কানাডিয়ান ‘কালিয়া ন্যাচারাল’ শ্যাম্পু আমি নিজে গত ১ বছর ধরে ইউজ করছি। এবং এটা আমার খুবি পছন্দের প্রোডাক্ট। প্রাইস ১৩০০ টাকা মতো পড়বে ওয়েট চার্জ ইত্যাদিসহ। এটা প্রিঅর্ডার না করে কেনার কোন উপায় নেই।

সো দেখতেই পাচ্ছেন খুব ভালো মাইল্ড শ্যাম্পু ব্র্যান্ড ইজিলি পাওয়া যায় না আর দামও খুব কম নয়। কারণ এ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতার অভাব এবং ফলাফলে দেশের সেলারদের ভালো মানের শ্যাম্পু আমদানির অনাগ্রহ। তো নিতান্তই এই শ্যাম্পু গুলো কালেক্ট করতে না পারলে কি ইউজ করবেন?

  • ট্রেসেমে বোটানিক শ্যাম্পু, সিলিকন নেই এতে। সালফেট আছে। কিন্তু বাজারের সাধারন শ্যাম্পু থেকে মানে ভালো এবং চুলের জন্য সেফার। দাম ২৭০ টাকা । যেকোনো সুপারশপ, ট্রেসেমে কিওস্ক এবং স্যাফায়ারে পাবেন।
  • হারবাল এসেন্স নেকেড শ্যাম্পু। এটাও সিলিকন, কালার ইত্যাদি মুক্ত। কিন্তু চুল একটু ড্রাই হয়ে যায়। এজন্য এটা সপ্তাহে ২-৩ বার ইউজ করলে বেটার রেজাল্ট পাবেন। দাম ৭০০-৮০০ টাকা। স্যাফায়ারে পাবেন।

কারা ইউজ করবেন মাইল্ড শ্যাম্পু ?

সবাই। কিন্তু বুঝতেই পারছেন এখানে এফরডেবিলিটির একটা ব্যাপার আছে। এজন্য আমার বুদ্ধি হচ্ছে –

যারা হিজাব করেন, হেলমেট পড়েন অথবা রোজ অনেককণ বাহিরে ধুলা ময়লায় থাকেন যেমন ছাত্ররা, তারা অবশ্যই দরকার মতো রোজ/ সপ্তাহে ৩-৪ দিন মাইল্ড শ্যাম্পু অথবা আপনার পছন্দের বেবি শ্যাম্পু ইউজ করবেন। আপনাদের জন্য এটা মাস্ট! বেবি শ্যাম্পু নরমাল শ্যাম্পু থেকে চুলের ক্ষতি কম করে।

যারা অফিসে কাজ করেন, অথবা যাদের রোজ শ্যাম্পু করার দরকার পড়ে না তারা সপ্তাহে ২-৩ দিন অল্টারনেটিভ অপশনের শ্যাম্পুগুলো ইউজ করতে পারেন। ড্যামেজ একটু কম হবে, এবং খরচটাও সাধ্যের মধ্যে থাকবে। এবং মাইল্ড শ্যাম্পু হোক বা না হোক। চেষ্টা করবেন আর্টিফিশিয়াল কালার, পারফিউম, সিলিকন-যুক্ত শ্যাম্পু যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে। মাইল্ড শ্যাম্পু নিয়ে আরও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন। চেষ্টা করব উত্তর দেয়ার।

 

লিখেছেন – মীম তাবাসসুম

 

 

Comments

comments

Recommended