ত্বকের যত্ন, সম্পাদকের পছন্দ, সুস্বাস্থ্য

সজীব, উজ্জ্বল ত্বক এবং সুস্বাস্থ্যের “সিক্রেট” ড্রিংক!

কিছুদিন ধরে স্কিন এর ডাল লাইফলেস ভাবটা একটু বেশি চোখে বাঁধছে? আগের মতো শাইন গ্লো কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না? রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, সারাদিন টায়ার্ড লাগছে? অথবা যেকোনো সিজনাল চেঞ্জের সময়ই জ্বর ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়ছেন?

তো এখন কি করবেন? রাজ্যের ক্রিম কিনে এনে মুখে মাখবেন? নাকি ডাক্তারের কাছে দৌড়াবেন? একটু ডিপলি চিন্তা করলে দেখতে পাবেন এই সব সমস্যাগুলোই আপনার স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। হেলথ প্রব্লেম থাকলে আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন, স্মুথ ইয়ুথফুল বাউন্সি স্কিন, শাইনি সিল্কি চুল কিছুই পাবেন না। এটাই সত্যি। সো চলুন, দেখি স্কিনের হারানো লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে হাজার হাজার টাকার ক্রিম না কিনে অন্য কোন উপায় খুঁজে। যা আপনার রূপ লাবণ্য ফিরিয়ে আনবে, আর ভেতর থেকে আপনাকে ফিরিয়ে দেবে আপনার সুস্বাস্থ্য।

“গোল্ডেন মিল্ক”- কি এটা?

একেবারেই আমাদের ঘরের জিনিস। প্রাচিন আয়ুর্বেদে সুস্বাস্থ্য রক্ষায় হলদি দুধের উপকারিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, ‘হলদি দুধ’ অর্থাৎ ‘হলুদ মেশানো’ দুধই হচ্ছে ‘গোল্ডেন মিল্ক” । এর মূল উপাদান? হলুদ আর দুধ। কিন্তু কেন এটা খাবেন এবং খেয়ে কি কি বেনিফিট পাবেন, কখন খেলে বেস্ট জানতে চাইলে পড়তে থাকুন।

গোল্ডেন মিল্কের রেসিপি

উপাদান

  • হলুদ পাউডার (হাফ কাপ)

সবসময় চেষ্টা করবেন হলুদ আস্ত কিনে নিজে ভাঙ্গিয়ে নিতে। বাজারে ভেজাল বিহীন পণ্য খুব কম। আর ভেজাল গোল্ডেন মিল্ক খাওয়া বা না খাওয়া একই কথা।

  • গোল মরিচের গুঁড়া (দেড় চা চামচ)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান! ১৯৯২ সালের একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, হলুদের সবচেয়ে দরকারি উপাদান হচ্ছে “কুকুরমিন’ (এটার জন্যই গোল্ডেন মিল্কের এত জয়জয়কার)। কিন্তু মানবদেহ কুকুরমিন ডাইজেস্ট করতে এবং ইউজ করতে অতটা সক্ষম নয়। কিন্তু  অল্প একটু গোলমরিচ যদি হলুদের সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয় সেটা কুকুরমিন দেহে অ্যাবজর্বেশন ২০০০% বাড়িয়ে দেয়। মানে? আপনি হলুদের পুরো গুণাগুণ এবং বেনিফিট তাই পাচ্ছেন!!

  • ৫ টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অরগানিক নারিকেল তেল

প্রতিদিন অল্প একটু নারিকেল খাওয়া স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য খুবি ভালো। কিন্তু ভার্জিন নারিকেল তেল কোনভাবেই চুলায় গরম করা যাবে না। এতে এর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এভাবে খেলে একি ঢিলে ২ পাখি মারতে পারছেন। আমি নিজের বানান নারিকেল তেল ব্যবহার করি। এ ধরনের খাঁটি ঘানি ভাঙ্গা নারিকেল তেল সংগ্রহ করতে পারলে সেটাই ইউজ করবেন । আর যদি নারিকেল তেল না পান, তবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ ওয়েল একই পরিমাণে ব্যবহার করবেন। যেকোনো সুপারশপে পাবেন। এবং একই রুল মনে রাখবেন, এক্সট্রা ভার্জিন কোন তেল চুলায় দিয়ে রান্না করবেন না। এতে তেলের সব গুণাগুণই নষ্ট হয়।

প্রণালী-

  • হলুদ গুঁড়া ১ কাপ পানির সাথে মিক্স করে অল্প আঁচে ৬-৮ মিনিট চুলায় জ্বাল দিন। বেশ ঘন পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে নিন।
  • হলুদ পেস্ট ঠাণ্ডা করে তাতে গোলমরিচের গুঁড়া আর তেল খুব ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন।
  • ব্যাস হয়ে গেল, এই পেস্ট একটা এয়ারটাইট জারে ফ্রিজে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখতে পারবেন। এতে আলসেমি করে গোল্ডেন মিল্ক খাওয়াও বন্ধ হবে না, আর রোজকার ঝক্কিও পোহাতে হবে না।

কখন? কীভাবে?

রোজ রাতে খুব হালকা উষ্ণ এক কাপ খাঁটি দুধের সাথে জার থেকে জাস্ট ১ চা চামচ পেস্ট নিয়ে মিক্স করে ফেলুন। তারপর খেয়ে নিন দুধটা। আর খেতে বেশি তিতা লাগলে দুধে ১ চা চামচ খাঁটি মধু মিক্স করবেন। স্বাদ আরও বাড়বে!

খাঁটি দুধ না পেলে গুড়ো দুধ ২ চা চামচ হালকা উষ্ণ পানিতে মিক্স করে তাতে পেস্ট মিশিয়ে নিতে পারেন।

কেন রাতে খাবেন?

ঘুমানোর আগে উষ্ণ দুধ খেলে ঘুম খুবি ভালো হয়। চেষ্টা করবেন রাত ৮ টার মধ্যে ডিনার শেষ করে রাত ১০ টার আগেই এক কাপ গোল্ডেন মিল্ক খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে। এতে রোজকার টায়ার্ডনেসটাও দূর হবে।

কেন খাবেন রোজ গোল্ডেন মিল্ক?

হেলথ বেনিফিটস-

  • ডেইলি এককাপ গোল্ডেন মিল্ক আপনার মেটাবলিসম রেট বাড়াবে। সো যারা অনেকদিন ধরে ওজন কমানোর চেষ্টা করেও কোন ফল পাচ্ছেন না তাদের জন্য এটা মাস্ট হ্যাভ
  • ভবিষ্যৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধির হার কনট্রোলে রাখবে।
  • হলুদ ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রামাণিত। সো এই কারণে হলেও আমাদের সবার ডেইলি এক কাপ প্রপার গোল্ডেন মিল্ক খাবার অভ্যাস তৈরি করা উচিৎ। এবং আপনার ছোট বাচ্চাকেও রোজ গোল্ডেন মিল্ক খাওয়াবেন, একই কারণে।
  • গোল্ডেন মিল্ক দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সিজনাল ফ্লু/ জ্বরের সমস্যায় এটা খুবি ভালো ফল দেবে।
  • নারিকেল তেল হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  • ডায়াবেটিসে হেল্প করে, ইনসুলিন লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • কোলেস্টেরল লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যাদের কোলেস্টেরল প্রবলেম আছে তারা নারিকেল তেলের বদলে অলিভ অয়েলটাই ব্যবহার করবেন।
  • যাদের পিরিয়ডের সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয় তারা রোজ রাতে গোল্ডেন মিল্ক খেলে অনেক উপকার পাবেন। অজথা নিজে নিজে পেইনকিলার খাবার কোন দরকার হবে না।
  • হলুদ এবং দুধের ক্যালসিয়াম নারী এবং বৃদ্ধদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরা হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং ক্যালসিয়াম ডেফিসিয়েন্সিতে ভোগে।

স্কিন বেনিফিট-

  • হলুদ ন্যাচারালি অত্যন্ত হাই অ্যান্টি অক্সিডান্ট সমৃদ্ধ। এটা ত্বকের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ধ্বংস করে। ফ্রি র‍্যাডিকালের কারণেই আমাদের ত্বক বয়সের সাথে সাথে জৌলুস হারায় এবং রিঙ্কেল ফাইন লাইন এর ফাঁদে পড়ে যায়। ডেইলি সঠিক পরিমাণে হলুদ খেলে অর্থাৎ গোল্ডেন মিল্ক খেলে এই সমস্যাগুলো অনেক অনেক কমে যায়। আর ছোটবেলা থেকেই রোজ গোল্ডেন মিল্ক খাওয়ার হ্যাবিট থাকলে ত্বকে রিঙ্কেল পড়তে সময় ও নেবে প্রচুর। কেনা চায় সময়ের ঘড়িকে থামিয়ে দিতে?
  • সান ড্যামেজ এবং পলিউশনের কারণে ত্বকে দেখা যায় মেছতা, হাইপারপিগ্মেনটেশন। গোল্ডেন মিল্কের সবগুলো উপাদান সান ড্যামেজের হার কমাতে সাহায্য করে। রেগুলার প্রপার সানস্ক্রিন এবং গোল্ডেন মিল্ক আপনার ত্বকের হঠাৎ ডালনেস দেখা দেয়া, লাবণ্য হারিয়ে যাওয়ার সমস্যা একেবারেই থামিয়ে দিতে সক্ষম।
  • গোল্ডেন মিল্ক দেহের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। এতে দেহের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়।
  • গোল্ডেন মিল্ক হরমনাল ব্রণ প্রব্লেমে হেল্প করে। এটা একই সাথে ব্রণ ওঠার হার কমায়, এক্সিসটিং ব্রণ দ্রুত সারিয়ে তোলে। এবং যেহেতু বডির সেলফ হিলিং সিস্টেম বেড়ে যায় গোল্ডেন মিল্কের কারণে এটা ব্রণ/ কাঁটা ছেঁড়ার দাগও পড়তে দেয় না।
  • “রেগুলার ডেইলি মিল্ক খাবার অভ্যাস করলে সাথে প্রপার সানস্ক্রিন এবং মিনিমাল একটা স্কিন কেয়ার রুটিন থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিন টোন বজায় রাখাটা কোন ব্যাপারই না। সো যারা দিন দিন কালো হচ্ছেন, ত্বক কুঁচকে যাচ্ছে তাদের জন্য এগুলো মাস্ট।

তো? আর দেরি কেন? আজই বানিয়ে ফেলুন হলুদের পেস্ট আর রাত থেকেই পরিবারের সবাইকে বানিয়ে দিন উষ্ণ কমফোর্টিং এক কাপ গোল্ডেন মিল্ক… বাইরে থেকে ঘষাঘষি না করে আসুন সবাই দেহের ভেতরের অবস্থা নিয়ে আরেকটু সচেতন হই। আর ধীরে ধীরে একটা ভালো অভ্যাস তৈরি করি।

লিখেছেন – মুশতারী মীম

 

Comments

comments

Recommended