ত্বকের যত্ন, সম্পাদকের পছন্দ, সৌন্দর্য পরামর্শ

শীতে ত্বকের যত্ন: শুরু থেকে শেষ!

বছরের এই সময়টা আমার বেশ পছন্দ। কনকনে শীতও না আবার গরম ও না। এর মানে কিন্তু শীত তার রুক্ষতা নিয়ে দরজায় কড়া  নাড়ছে। তাই এর প্রভাব স্কিনে পড়ার আগেই চটজলদি প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাক!

আগে ভাগে প্রস্তুতি নিয়ে ফেললে স্কিন ড্যামেজ অনেকটা রোধ করা যায়। আর এখনই হচ্ছে পারফেক্ট  সময়। তো চলুন জেনে নিই, কীভাবে ত্বকের যত্নে শীতের আগাম প্রস্তুতি নিবেন।

প্রথম ধাপ (স্কিন ক্লিঞ্জিং)

স্কিন ক্লিজিং এখন থেকেই কোনো মাইল্ড ফেইসওয়াশ দিয়ে করা শুরু করতে হবে । যাদের অয়েলি স্কিন তারাও শীতে কিছুটা ড্রাই এর দিকে চলে যায়। তাদেরও এটা মেনটেইন করেই চলতে হবে। চাইলে হোমমেইড ফেইসওয়াশ ব্যবহার করতে পারবেন। এই হোমমেইড ফেইসওয়াশটি এস.এল.এস এবং প্যারাবেন এর মতো কেমিক্যাল থেকে মুক্ত।এটি স্কিন থেকে ময়লা দূর করতে সাহায্য করবে, স্কিন লাইট, হাইড্রেট এবং সফট করে তুলবে।

উপকরণ
(১) অ্যালোভেরা জেল
(২) মধু
(৩) গ্রেট করা যে কোনো মাইল্ড সাবান
(৪) ফুটানো গরম পানি
(৫) পাম্পসহ একটি পরিষ্কার খালি বোতল

যেভাবে তৈরি করবেন –

– প্রথমে একটি বাটিতে একটি মাইল্ড সাবান নিয়ে তা গ্রেটারে গ্রেট করে নিন। যেন তা ২ টেবিল চামচ পরিমাণে হয়।

– অন্য একটি বাটিতে গ্রেট করা সাবান এবং হাফ কাপ গরম পানি নিয়ে ভালোভাবে মেশাতে থাকুন, যতক্ষণ না সাবান পুরোপুরিভাবে গুলে যায়।

– এবার এর মধ্যে ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ মধু যোগ করুন। খুব ভালোভাবে মেশাতে থাকুন, যেন সব উপকরণ পানির সাথে একদম মিশে যায়।

– ব্যস, আমাদের হোমমেইড ফেইসওয়াশ প্রস্তুত।- একটি খালি বোতলে ফেইসওয়াস টি ঢেলে নিন।এই উপকরণ থেকে আপনি ২০০ এম.এল ফেইসওয়াশ পাবেন।

ব্যবহারবিধি –

ফেইসওয়াশ টি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাকিয়ে নিন। পানির সাহায্যে আপনার মুখ ভিজিয়ে নিন। কিছুটা ফেইসওয়াশ হাতের তালুতে নিয়ে ফেনা তৈরি করে নিন এবং ফেইস এ লাগিয়ে নিয়ে ম্যাসাজ করুন ১ মিনিট। এরপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই ফেইসওয়াশটি দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারবেন। অবশ্যই ফেইসওয়াশ করার পর টোনার এবং ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। এই ফেইসওয়াশটি ১০-১৫ দিন রুম টেম্পারেচার এ ভালো থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপ (স্ক্রাবিং)

ফেইস এবং বডির ডেড স্কিন সেল রিমুভ এবং রুক্ষতা দূর করে সফট এবং স্মুদ করে তুলতে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ৩ দিন স্ক্রাবিং মাস্ট।  এখানে আমি কিছু উইন্টার স্পেশার ফেইস এবং বডি স্ক্রাবের রেসিপি শেয়ার করলাম।

উপকরণ
(১) ব্রাউন/ হোয়াইট সুগার
(২) কোকোনাট অয়েল
(৩) এসেনশিয়াল অয়েল (অপশনাল)
(৪) কফি পাউডার

যেভাবে তৈরি এবং ব্যবহার করবেন

– একটি পাত্রে ১/৪ কাপ ব্রাউন/হোয়াইট সুগার, ৩ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল, ৩-৪ ড্রপ এসেনশিয়াল অয়েল, ৪ টেবিল চামচ কফি পাউডার নিয়ে একসাথে মিশিয়ে নিন। কন্সিস্টেন্সি যদি বেশি ড্রাই লাগে তবে এর সাথে আর একটু কোকোনাট অয়েল যোগ করে নিবেন। এই স্ক্রাবটি ক্লিন ফেইস এবং বডিতে সার্কুলার মোশনে ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

তৃতীয় ধাপ ফেইস মাস্ক

শীতকালে স্কিন সফট, স্মুদ এবং ব্রাইট রাখতে হলে সপ্তাহে একদিন ফেইস মাস্ক ব্যবহার করবেন। নিচে আমার ফেভারিট একটা ফেইস মাস্কের রেসিপি বলে দিচ্ছি।

উপকরণ

(১) ওটস

(২) মিল্ক

(৩) আমন্ড বাদাম

(৪) মধু

যেভাবে তৈরি এবং ব্যবহার করবেন –

– একটি বাটিতে কিছুটা হালকা গরম পানি নিয়ে ৬-৭  টি আমন্ড বাদাম ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এতে বাদামের খোসাটা নরম হয়ে আসবে। বাদামের খোসাগুলো ছাড়িয়ে নিন। চাইলে এগুলো একটু গুড়ো করে নিতে পারেন। এতে ব্লেন্ড করতে সুবিধা হবে।

– এবার অন্য একটি বাটিতে ২ চা চামচ ওটস নিন। এর মধ্যে ৪-৫ চামচ কাঁচা দুধ এবং এক চা চামচ মধু মিলিয়ে নিন।  একটি ব্লেন্ডারে ওটস দুধের মিশ্রণ এবং আমন্ড বাদামগুলো ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।

– ফেইস ক্লিন করে নিয়ে এই মাস্কটি একটি ফেইস ব্রাশে নিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

চতুর্থ ময়েশ্চারাইজার

শীতকালে যেটাকে আমি স্কিনের প্রাণ বলবো তা হলো ময়েশ্চারাইজার। শীতকালে ভালো কোনো ডিপ ময়েশ্চারাইজার স্কিনে লাগিয়ে নিবেন। তবে চাইলে বানিয়েও নিতে পারেন।

উপকরণ

(১) গ্রিন টি

(২) কোকোনাট অয়েল

(৩) এসেনশিয়াল অয়েল

(৪) বি ওয়াক্স

(৫) অ্যালোভেরা জেল

(৬) খালি কন্টেইনার

যেভাবে তৈরী এবং ব্যবহার করবেন

– একটি হিটপ্রুফ কাঁচের বাটিতে ২ চা চামচ বি ওয়াক্স, ৩ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল নিয়ে চুলায় ডাবল বয়লারে গলিয়ে নিন।এজন্যে একটি পাত্রে পানি নিয়ে এর উপরে কাঁচের বাটিটি বসিয়ে দিন।মিশ্রণটি গলে গেলে এর মধ্যে ১ টি গ্রিন টি ব্যাগের পুরোটা ঢেলে নিন। ২০ সেকেন্ড গরম করে নিন।

– একটি পাতলা কাপড় অথবা চিজ ক্লথে মিশ্রণটি ছেঁকে গ্রিন টি আলাদা করে নিন। এরপর চটজলদি এর মধ্যে ১ টেবিল চামচ এ লোভেরা জেল এবং কয়েক ফোটা এসেন্সিয়াল অয়েল যোগ করে একটি ইলেক্ট্রিক বিটারের সাহায্যে লো স্পিডে বিট করে নিন যতক্ষণে না একটা থিক ক্রিমি কনসিসটেন্সি আসে। ব্যস আপনার হোমমেইড ময়েশ্চারাইজার রেডি। কন্টেইনারে ময়েশ্চারাইজারটি সংরক্ষন করুন।

আজকাল তো স্কিন কেয়ারে বডি বাটার বেশ জনপ্রিয়। শীতের রুক্ষতা থেকে বাচতে গোসলের পরে এখন থেকেই একটা ভালো মানের বডি বাটার লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। তবে, ঘরেও কিন্তু মাত্র ৩ টি উপকরণে বানিয়ে নিতে পারেন বডি বাটার।

উপকরণ

(১) কোকোনাট অয়েল

(২) আমন্ড অয়েল

(৩) শেয়া বাটার

যেভাবে তৈরী করবেন

– একটি হিটপ্রুফ কাঁচের বাটিতে ১/৩ কাপ শেয়া বাটার,  ১/৪ কাপ কোকোনাট অয়েল এবং ৩ টেবিল চামচ আমন্ড অয়ল নিয়ে একটি ডাবল বয়লারে গলিয়ে নিন।

– গলানো হয়ে গেলে হালকা ঠান্ডা হয়ে হালকা জমতে দিন। এবার  একটি ইলেক্ট্রিক বিটারের সাহাযে ৫-১০ মিনিট বিট করতে থাকুন। যতক্ষণ না থিক একটা কনসিসটেন্সি আসে। ব্যস!!! এটি একটি জারে সংরক্ষণ করুন।

এই তো জেনে নিলেন, কীভাবে স্কিনের ক্ষেত্রে শীতের জন্যে আগাম প্রস্তুতি নিবেন। তো আর দেরি কিসের। আজ থেকেই শুরু হয়ে যাক।

মডেল – সামা মেহজাবিন রিনতি 

ছবি – টিএমজে ফটোগ্রাফি

লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

Comments

comments

Recommended