চুলের যত্ন, সৌন্দর্য পরামর্শ

রিবন্ডিং করা চুলের সোন্দর্য রক্ষায় করণীয় এবং বর্জনীয়

সোজা মসৃণ এবং ঝলমলে চুল সবার বিশেষ পছন্দের। আর তাই বর্তমান সময়ে হেয়ার রিবন্ডিং পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই সাথে আমিও গত বছরের শেষে অনেকটা শখের বসেই রিবন্ডিং করি। প্রথম দিকে চুল একদম মনের মতোই ছিল। কয়েক মাস পর চুলে কিছু সমস্যা লক্ষ্য করি। যেমন চুল পড়া বেড়ে যাওয়া, চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া,আগা ফেটে যাওয়া,চুলে ভাজ পড়া, কিছু অংশ বাঁকা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

হবেই বা না কেন! কেমিক্যাল ক্রিমের ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের ন্যাচারাল রূপ পরিবর্তন করে চুলকে ইচ্ছে মতো রূপে সেট করে এবং চুলকে স্ট্রেইট করে তোলে।কাজেই চুলের বারোটা তো বাজিয়েছেই কিন্তু এভাবে ফেলে রাখলে তো একদিন মাথায় একটিও চুল অবশিষ্ট থাকবে না। এই বিষয়ে আমি হেয়ার এক্সপার্টের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করি। তাদের মতে,“যেহেতু কেমিক্যাল এবং হিট ব্যবহার করে একটি দীর্ঘ পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে চুল রিবন্ডিং করানো হয় তাই চুলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য রিবন্ডিং চুলের যত্ন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই হবে। তবে নিয়মিত পরিচর্চার মাধ্যমে রিবন্ডিং করা চুলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুন্দর রাখা সম্ভব। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।”

প্রথমে জানব  রিবন্ডিং চুলের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো পরিহার করতে হবে!

(১) রিবন্ডিং করার তিন দিন পর্যন্ত চুল পানিতে ভেজানো যাবেনা অথবা কোন প্যাক ব্যবহার করা যাবে না।

(২) বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা,স্কার্ফ,হেট ব্যবহার করুন চুলকে রোদ,বৃষ্টি হতে সুরক্ষিত রাখতে।

(৩) চুলে কালার,হাইলাইটিং,মেহেদী বা হেনা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

(৪) চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

(৫) রিবন্ডিং এর এক মাস পর্যন্ত চুল বাঁধা যাবেনা বা কানের পেছনে রাখা যাবে না।

(৬) চুলে বেণী বা এ ধরনের হেয়ার স্টাইল করা থেকে বিরত থাকুন।এ ধরনের হেয়ার স্টাইলে চুলে ভাজ পড়ে যেতে পারে।

(৭) চুলে গরম পানি ব্যবহার করবেন না।

এতক্ষণ তো কী কী বিষয় পরিহার করা উচিৎ তা জানলাম। এবার আসা যাক, এই  রিবন্ডিং করা চুলের যত্ন কীভাবে নেয়া যেতে পারে সেই সম্পর্কে-

  • সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলে তেল লাগাবেন। নারিকেল তেলর সাথে আমলকি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে শ্যাম্পু করার আগে মাথার তালুতে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।
  • সপ্তাহে অন্তত তিন দিন শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে চুলের গোড়ায় কন্ডিশনার লাগাবেন না।
  • শ্যাম্পু করার পর দুই লিটার পানিতে কয়েক ফোটা ভিনেগার মিশিয়ে চুল ধুতে পারেন। এতে চুল মসৃণ হবে।
  • চুলে খুশকির সমস্যা এড়াতে মাথার তালুতে লেবু বা পেঁয়াজের রস লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।
  • চুলের রুক্ষতা কমাতে শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন।
  • ১৫ দিন অন্তর অন্তর চুলে স্পা করুন। স্পা ক্রিম কিনে ঘরে বসেই স্পা করতে পারেন অথবা ঘরে বসেই হেয়ার স্পা তৈরি করুন। এক্ষেত্রে দুই টেবিল চামচ দুধ ও দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে চুলে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন।
  • ২ সপ্তাহ অন্তর চুলে প্রোটিন ট্রিটমেণ্ট করুন। ঘরে বসেই তা করতে পারেন। দুটি ডিম, এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে ৩০ মিনিট রেখে চুলে শ্যাম্পু করে নিন।
  • চুলের আগা দুই মাস অন্তর কাটুন। খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন যেন ভেতর থেকেও চুল পুষ্টি পায়।

এভাবে নিয়মিত যত্ন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে রিবন্ডিং করা চুলের সোন্দর্য ও স্থায়িত্ব দুটোই বৃদ্ধি পাবে। ভালো থাকবেন।

ছবি – পিন্টারেস্ট ডট কম

লিখেছেন – আফসানা প্রীতি

Comments

comments

Recommended