চুলের যত্ন, সম্পাদকের পছন্দ, সৌন্দর্য পরামর্শ

মাত্র তিনটি উপাদানেই লম্বা চুল

লম্বা চুলের শখ নেই এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। যদিও আমাদের ব্যস্ত জীবনে লম্বা চুল মেইনটেইন করতে গিয়ে সবাইকেই কমবেশি হিমশিম খেতে হয়, তবুও “চুলটা যদি আর একটু যদি লম্বা করা যেতো” এই শখটা কিন্তু সবারই থাকে। এই চুল লম্বা করতে আমরা কত কি-ই না করি। প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ভিটামিন সেই ভিটামিন গিলে বসে থাকি! দেশ বিদেশের দামি দামি হেয়ার রিগ্রোথ লেবেলওয়ালা প্রোডাক্ট দেখলে লাফাতে লাফাতে কিনতে চলে যাই! এই হার্বাল তেল ঐ ম্যাজিকাল তেল দেখলেই চোখের সামনে স্বপ্ন দেখে ফেলি যে আজকে রাতে মেখে আগামীকালই দুই-চার ইঞ্চি চুল লম্বা হয়ে যাবে! আখেরে কি হয় বলেন তো? চুল লম্বা হয়? ঘন হয়? চুল পড়া বন্ধ হয়?

-না

টাকাও জলে যায়, আর অত্যধিক কেমিক্যাল সমৃদ্ধ প্রোডাক্ট ব্যবহার করার কারণে চুল যদি এক আধটু লম্বা হয়েও যায়, তারপরে কিন্তু লং রানে ড্রাই হেয়ার , রাফ হেয়ার , ড্যামেজড হেয়ার নিয়ে হায়হুতাশ করতে বসা লাগে।

তাহলে উপায়? চুল লম্বা কীভাবে করা যায়? মাত্র ৩টি উপাদান দিয়েই কিন্তু চুল লম্বা করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন একটু ধৈর্য আর নিয়মিত পরিচর্যা, কারণ ভালো সব জিনিসই কিন্তু চট করে আসে না। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক –

  • ৩ টেবিল চামচ খাঁটি নারকেল তেল
  • ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস
  • ২ চা চামচ কালিজিরা গুঁড়ো

একটা ছোট বাটিতে ৩ টেবিল চামচ খাঁটি নারকেল তেল নিয়ে তাতে ২ চা চামচ কালিজিরার গুঁড়ো দিয়ে হালকা গরম করে নিন। একটা বড় বাটিতে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে তার উপরে তেলের বাটিটা মিনিট পাঁচেক বসিয়ে রাখলেই তেল গরম হয়ে যাবে। এবার এই তেলে ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে নিন। ব্যস আপনার তেল তৈরি!

পুরো মাথার চুলকে ছোট ছোট সেকশনে ভাগ করে নিন। এবার বিলি কেটে কেটে পুরো মাথার স্ক্যাল্পে ধীরে ধীরে তেলটা লাগিয়ে নিন। সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করতে থাকুন। চুল লম্বা করার প্রথম টেকনিক-টাই কিন্তু হলো স্ক্যাল্প ম্যাসাজিং। আপনি যত ভালোভাবে স্ক্যাল্পে অয়েল ম্যাসাজ করবেন তত আপনার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ভালোভাবে হবে, ডেডসেলসগুলো দূর হবে, আর নতুন চুল গজাবে। ফলে চুল লম্বা হবে। সবশেষে চুলেও তেল লাগিয়ে নিন। এবার চল্লিশ মিনিট পর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে নিঙরে নিন, আর পুরো মাথার চুলে তোয়ালেটা মুড়িয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এটাকে বলা হয় স্টিম নেয়া। স্টিম নেয়ার ফলে তেলটা ভালোভাবে স্ক্যাল্পে অ্যাবসর্ব হয়ে যায়। আর চুল তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে ঘন আর লম্বা হয়।

(১) নারকেল তেল

চুলের সার্বিক যত্নের জন্য সবার আগে কোন জিনিসটার নাম মাথায় আসে বলুন তো? আপনার মা অথবা দাদী/নানীকে যদি প্রশ্ন করেন যে তারা তাদের চুলের যত্নে কী ব্যবহার করতেন, উনারা কী উত্তর দিবেন বলেন তো? শতকরা ৮০% মানুষ কিন্তু উত্তর দিবেন – নারকেল তেল! নারকেল তেলে কি নেই! এতে থাকা মনোস্যাচুরেটেড এসেন্সিয়াল ফ্যাট আর প্রোটিন চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, চুলকে গোঁড়া থেকে মজবুত করে। এতে আছে লরিক এসিড যা চুলের সাথে প্রোটিনের বন্ধনটাকে দৃঢ় করে। এর ন্যাচারাল অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল আর অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান চুলের গ্রোথ রোধের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া আর ফাঙ্গাসের গ্রোথ হতে দেয় না। ফলে চুল হয়ে ওঠে ঘন, মজবুত আর লম্বা।

(২) পেঁয়াজের রস

চুলের গ্রোথ বাড়াতে, চুলের অকালপক্বতা রোধ করতে পেঁয়াজের রস খুবই কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। অনেকেই পেঁয়াজের রসের গন্ধ সহজ করতে পারেন না। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি – করলা ও কিন্তু খেতে তেতো, কিন্তু শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। কাজেই যদি চুল লম্বা হয়, একটা ঘণ্টার জন্য না হয় একটু উৎকট ঘন্ধটুকু সহ্যই করলেন!

(৩) কালিজিরার গুঁড়ো

কালিজিরার গুণের কথা কি আর লিখে শেষ করা যায়? কালিজিরাতে থাকা ন্যাচারাল অ্যান্টি অক্সিডেন্টস চুল পড়া কমিয়ে চুল ঘন আর লম্বা হতে সাহায্য করে।

আচ্ছা, এই তেল দেয়ার পাশাপাশি আর যে জিনিসগুলো করতে হবে সেটা হলো নিয়মিত, প্রতি এক-তিন মাস অন্তর চুলের আগা ছেঁটে ফেলতে হবে। অনেকেই আমরা এই জিনিসটা করি না। ফলে চুল লম্বা হতে থাকলেও আগাটা পাতলা হতে থাকে, আর আগা ফাটা চুলের কারণে চুল যে আসলেই কতটুকু লম্বা হয়েছে সেটা বোঝা যায় না। রাতে চুল হালকা করে বেঁধে ঘুমাবেন, কখনোই টাইট করে বাঁধবেন না। আর চুলের আগাটা কোন সিল্কের কাপড়ের টুকরো দিয়ে মুড়িয়ে রাবারব্যান্ড দিয়ে বেঁধে ঘুমোবেন। অথবা সিল্কের কাপড়ের তৈরি বালিশের কভার ব্যবহারে চেষ্টা করুন, এতে করে চুলটা বালিশের কভারে ঘষা লেগে ড্যামেজ হবার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। সেই সাথে প্রয়োজন একটা ব্যালান্সড প্রোটিন আর ভিটামিন রিচ ডায়েট, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, ৮ ঘণ্টার ঘুম আর দিনে কমপক্ষে ২-৩ লিটার পানি পান।

Take Care of Yourself, Because You Are Worth It.

লিখেছেন – ফারহানা প্রীতি

Comments

comments

Recommended