এসো নিজে করি, চুলের যত্ন, সম্পাদকের পছন্দ, সৌন্দর্য পরামর্শ

রুক্ষ এবং দুর্বল চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে দারুণ কার্যকরী মাস্ক

চুলের অবস্থা একটু খারাপের দিকে গেলেই মা বলতেন কি এখনও বলেন নিয়মিত নারকেল তেল দিলে তো এই অবস্থা হতো না !! আমার কাছে মনে হতো নারকেল তেল যে আসলেই চুলের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তা তো লোকমুখে শোনা, সত্যতা আসলে কতটুকু! বেশ অনেক রিসার্চ করে অনেক আর্টিকেল পড়ে মার সাথে একমতে আসতে পেরেছি। আসলে আমি কেন আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত কেবল মুখে শুনে নয় যে কোন জেনে বুঝে সন্তুষ্ট হলে তবেই সেই কাজটা করা। আর অনেক দিন ধরে ইচ্ছে ছিল আমার এই ফাইন্ডিংগুলো আপনাদের সামনে অল্প বিস্তর তুলে ধরার।

আজকের আর্টিকেলে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব- নারকেল তেলে বিদ্যমান উপাদানগুলোর কার্যকারিতা, ডিপ কন্ডিশনার হিসেবে নারকেল তেলের ভূমিকা সম্পর্কে –

নারকেল তেলে বিদ্যমান উপাদানগুলোর কার্যকারিতা

(১) প্রাকৃতিক নারকেল তেলে রয়েছে ভিটামিন ই ছাড়াও  Lauric Acid এবং Linolec acid মতো ফ্যাটি অ্যাসিডগুলো । এইসব উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন কেমিক্যাল প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরেও চুলের প্রোটিন ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে ভেতর থেকে শক্তি জুগিয়ে থাকে যার ফলে চুলের ভাঙন কমে ।

(২) আপনি কি জানেন অন্যান্য তেলের তুলনায় নারকেল তেল চুলের ভেতরে সহজে প্রবেশ করতে পারে ফলে শ্যাম্পু (সালফেটযুক্ত) ব্যবহারের ফলে কিউটিকলে যে পরিমাণ ক্ষতি সাধন হয় তা নারকেল তেলের সহজ প্রবেশ এবং প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ক্ষতি কমিয়ে আনে ?

(৩) সালফেট বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল চুল থেকে কিউটিকল আলাদা করে ফেলে । এই কিউটিকল মূলত চুলের ভেতরের কোষগুলোকে বাইরের ক্ষতিকর জীবাণু থেকে রক্ষা করে । আদ্রতার সংস্পর্শে এলেই চুলে ফ্রিজিনেস চলে আসে এবং চুল ড্রাই হয়ে যায়।

কাজেই এসব সমস্যা থেকে চুলকে রক্ষা করতে দরকার পড়ে যত্নের । সেক্ষেত্রে এমন একটি উপায় চাই যা চুলকে গভীর থেকে নারিশ করবে এবং স্বাস্থ্যবান করে তুলবে। কাজেই কোকোনাট অয়েল আসলে কতটা কার্যকরীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা দূর করুন।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন নানী-দাদীদের রূপচর্চার উপাদানগুলো কিন্তু একেবারে ফেলে দেবার মতো নয়। যেখানে দামি দামি প্রোডাক্ট সেখানে চুলের স্বাস্থ্য সারিয়ে তুলতে পারছে না সেখানে হাজার বছরের পুরনো উপাদান খুব সাধারণ নারিকেলের তেলই আপনার একমাত্র ভরসা হতে পারে। কোকোনাট অয়েলের নিজস্ব কোন প্রোটিন উপাদান নেই তবে এটি চুলের নিজস্ব প্রোটিন উপাদান ধরে রাখতে সাহায্য করে যার ফলে নিয়মিত (প্রতিদিন কিন্তু নয়) চুলের নারিশমেন্টের জন্য নারকেল তেল ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরী।

কিন্তু ভাবছেন নারকেল তেল দিয়ে তো আবার চুলে শ্যাম্পু-ই করছি তাহলে আর লাভ হচ্ছে কি! ব্যাপারটা এমন নয় যে কেমিক্যালের ক্ষতিকর উপাদানগুলো তেল দেয়ার কারণে ভেতরেই প্রবেশ করতে পারবে না । তবে নারকেল তেলের উপাদানগুলো চুলে প্রতিরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করে যার ফলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমে যা যায়।

বোঝা গেল তো দুর্বল চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে আপনার হাতের কাছে থাকা চাই কোকোনাট অয়েল।

ডিপ কন্ডিশনার হিসেবে নারকেল তেলের কার্যকারিতা –

বাজারের হাজারটা প্রোডাক্ট মেখে চুলে তাৎক্ষনিক ফলাফল পেলেও আদোতে আপনার চুল কিন্তু দুর্বল , রুক্ষই রয়ে গেল। কাজেই চুলের উপরে কেবল প্রলেপ না লাগিয়ে যদি চুলের জন্যই তো মূলত ডিপ কন্ডিশনিং-এর জন্য সবচেয়ে রিলায়্যাবল উপাদানটি হল নারকেল তেল। আগেই বলেছি , কোকোনাট অয়েল চুলের প্রোটিন বজায় রাখতে সাহায্য করে। কেমিক্যাল ব্যবহার , অযত্নের কারণে চুল ধীরে ধীরে তার প্রোটিন হারিয়ে ফেলে। নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহারে চুলের প্রোটিন লেভেল ঠিক থাকে। এবং চুলের ময়েশ্চারকে ধরে রাখে যার ফলে চুল হয় সিল্কি এবং শাইনি।

নারিকেল তেলে রয়েছে ভিটামিন ই , কে এবং আয়রন । এই উপাদানগুলো খুব সহজে স্কাল্পের মাধ্যমে চুলে গিয়ে পৌছায় । স্কাল্পে নারিকেল তেল ম্যাসাজের ফলে ব্লাড সার্কুলেশন বেড়ে যায় এবং চুল নারকেল তেলে বিদ্যমান সব ভিটামিন সহজেই অ্যাবজর্ব করতে পারে। আর এই ভিটামিনগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগানোর সাথে সাথে স্কাল্পের ময়েশ্চার ধরে রাখে এবং খুশকির উপস্থিতি কমে । আর এভাবেই মূলত নারকেল তেল চুলের গভিরে প্রবেশ করে হেয়ার ডিপ কন্ডিশনিং করে থাকে।

বোঝা গেল তো ! চুলের ডিপ কন্ডিশনার হিসেবে কীভাবে নারকেল তেল কাজ করে। আর এই নারকেল তেলের সাথে আরও কিছু উপাদান মিক্স করে নিজেই তৈরি করে ফেলা যায় ডিপ কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক।

 

এই রেসিপিটি আমি সপ্তাহে অন্তত ৩ বার অ্যাপ্লাই করার চেষ্টা করি । এবং শ্যাম্পু হিসেবে অবশ্যই মাইল্ড (সালফেট বিহীন) শ্যাম্পু ইউজ করি। তাহলে দেখে নেয়া যাক ডিপ কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে যা যা লাগছে –

(১) কোকোনাট অয়েল – ২ টেবিল চামচ
(২) অ্যালোভেরা জেল – ২ টেবিল চামচ
(৩) ক্যাস্টর অয়েল – ১ টেবিল চামচ
(৪) ডিম – ১ টি
(৫) লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ

 

উপকরণগুলো মিক্স করে পরিষ্কার চুলে গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। এবার স্কাল্পে ঘাড়ের থেকে উপরের দিয়ে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন ৫ থেকে ৮ মিনিট। চুল যদি অতিরিক্ত ড্যামেজড হয় তাহলে শাওয়ার ক্যাপ পরে গরম গরম ভাব নিয়ে নিতে পারেন । তারপর ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

 

হয়েই গেল চুলের যত্নে ডিপ কন্ডিশনিং কেয়ার। শ্যাম্পুর পর চুল শুকালে হাত বুলিয়ে দেখুন সফট শাইনি এবং মজবুত হয়ে উঠেছে। এভাবে নিয়মিত এই প্যাকটি অ্যাপ্লাই করলে দেখবেন চুল মজবুত হবার সাথে সাথে নতুন নতুন চুল গজাতে শুরু করেছে এবং চুল পড়াও কমে যাবে।

লিখেছেন – মরিয়ম আক্তার

Comments

comments

Recommended