প্রসাধনী সম্পর্কে, মুখ, সম্পাদকের পছন্দ

শুধুমাত্র নারকেল তেলেই যেভাবে ব্রণ থেকে মুক্তি পেলাম

আজকে আমি এমন একটি প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ দিব, যেটি আমার স্কিনকে তো বদলে দিয়েছে প্লাস আমার ধারণাকেও। কথা না বাড়িয়ে চলুন, সরাসরি চলে যাই রিভিউতে।

আমার আগের ত্বকের অবস্থা যা ছিল-  

গত উইন্টার সিজন এ, অলমোস্ট লাস্ট ২ মাস ধরে আমি একটি স্কিন প্রবলেম এ ভুগছিলাম। সেটি হচ্ছে একনে। তাও আবার যেন তেন নয়, টানা ৪-৫দিন পর পর এ ১টা সেরে আরেকটা উঠত এমন অবস্থা। আমার কখন এমন টানা ব্রণ হবার অভিজ্ঞতা হয়নি। ব্রণ যেন আমার রেগুলার ১টা প্রবলেম হয়ে দাড়িয়েছিল।

শুধু তাই নয়, চলে যাবার পর ড্রাই দাগ ছেড়ে যেত। আর খুব ব্যাথা করে উঠত। হয়ত অনেকেই আমাকে বলতে আসবে অর আমাকে শোনাতে আসবে যে মেকআপ ইউজ করি দেখে আমার এই অবস্থা। মেকআপ ইউজ করলে তাদেরই এই অবস্থা হয় যারা না বুঝে, না যাচাই করে যা না তাই মুখে মাখে, আর মেকাপকে আপন মনে করে সেটা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ইভেন তারা মনে করে যে, ফেসওয়াশ দিয়ে মেকাপ ক্লিন করেছি চলবে অথচ তারা জানে না এখনো সেটি তার স্কিন এ লেগে আছে। দয়া করে,আমাকে তাদের দলে ফেলে আমর নলেজএর অপমান করবেন না। আমি নতুন ঘোরের মাঝে মেকাপ জানা ব্লগার না! মেকআপ নিয়ে আমি ২০১০ থেকে রিসার্চ, প্র্যাকটিস এবং ইউজ করি।

কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করে,যাচাই করে, তবেই আমার মূল্যবান টাকা সেই প্রোডাক্ট এ ইনভেস্ট করি। একটা আইশ্যাডো বা লিপস্টিককেনার আগেও আমি ১০বার যাচাই করে দেখি। অনেক কথা বলে ফেললাম। মেইন টপিক এ ব্যাক করি, এই টাইপ এর একনে আমর এইপর্যন্ত লাইফটাইম এ আমি ফেস খুব বেশি চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। মেকআপ করার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছিল। কোনো কিছুই ইউজকরতে ইচ্ছে করতনা। একনেড্রয়িং লোশন ব্যবহার করেছি কিন্তু দাগ যেত না। অনেক দিন ধরে অনলাইন এ বিভিন্ন ধরণের একনে সলিউশন প্রোডাক্ট নিয়ে রাইটিংগুলো পড়া শুরু করলাম। শেষে ৩টা জিনিস পেলাম যেটি আমদের সবার ঘরেই থাকে।

১. হলুদের গুঁড়া (Turmeric powder)

২. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার (Apple cider vinegar) 

৩. নারকেল তেল (Coconut oil)

হাতের কাছে মেকাপ টেবিল এর উপরে দেখলাম, আমার ছোটবোনের ব্যবহারকরাSuperdrug Coconut Oil।ব্যবহার করা শুরু করলাম ঐদিন থেকে। আমি বলে বুঝতে পারবনা। তারপর থেকে আমার আর নতুন করে ব্রণ ১টাও উঠলনা। বরং দাগ আরো হালকা হতে শুরু করলো। দাগ এর জায়গাগুলো আস্তে আস্তে কালো থেকে লাল হয়ে ধীরে ধীরে আমার ফেস ক্লিয়ার হতে শুরু করলো। লাস্ট ১ মাস ধরে আমার নতুন করে কোনো ব্রণ উঠেনি।

DSC_2962

একটা ২টা পুরো ১ মাসে উঠলেও কোকোনাট অয়েল এর কারণে খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাচ্ছিলো। আমি অনেক আগেই এটা নিয়ে রিভিউ দিতে পারতাম কিন্তু দেয়নি কারণ, স্কিন কেয়ার এর রিভিউ ২ দিন ইউজ করেই দেয়া সম্ভব হয় না। এর জন্য মাসের পর মাস সময় লেগে যায়। আমাদের ঘরে পরে থাকা প্রোডাক্টযে আমাদের স্কিন লাইফ সেভার হবে তা আমি এই লাস্ট ১মাসে মন প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করলাম।

আমাদের ১টি ভুল ধারণা আছে যে আমাদের স্কিন অয়েলি সো অয়েল আমদের স্কিন-এ ইউজ করা যাবে না। I am sorry to say, এই ধারণাটি ভুল। “Oils are super-nourishing, so they combat flakes, dehydration, and the dried-out sebum that clogs pores,” says Kristen Ma, aesthetician and author of Beauty: Pure and Simple. “They’re also a great protective barrier for sensitive skin,”  

কোথায় পাবো? বাংলাদেশে Superdrug এর Coconut Oil পাওয়াটা বেশ কষ্ট সাধ্য। সেক্ষেত্রে ভালো ১০০% পিউর এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করতে পারেন নিঃসন্দেহে।  যেমন আপনি নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন তাছাড়া স্কিন ক্যাফে এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট ওয়েলেও একই রেজাল্ট আসবে বলে আমার ধারণা। তবে মিলারেল অয়েলযুক্ত নারকেল তেল ব্যবহার করলে আশানুরূপ ফল পাবেন না।  

 

এবার আমি বলব কীভাবে কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করবেন? আমি নিজে যেভাবে এই কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করেছিসেই স্টেপগুলো শেয়ারকরছি।

১. প্রতি রাতে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিমুখ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।

২. তারপর আঙ্গুলে অল্প করে সেই ঘন কোকোনাট অয়েল নিই।

৩. হাতের তালুতে ভালোভাবে ঘষতে থাকি যতক্ষণ না পর্যন্ত তালুতে হালকা গরমভাব অনুভূতহয়।

৪. ওয়ার্ম ভাব ফিল হবার সাথে সাথে আমি আমার দু’গালে সেটি আস্তে আস্তে প্রেস করে ম্যাসেজ করতে থাকি।

৫. পুরো মুখে ‘ফেস ম্যাসাজ’ এর মতো সার্কুলার মোশন-এ পুরো ফেস-এ ম্যাসাজ করতে থাকি।

৬. ঘাড় এবং চোয়ালেও ম্যাসেজ করতে থাকি।

৭. ঘুমানোর আগে কোকোনাট অয়েলব্যবহার করে থাকি। এবং কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করার পর আর অন্য কিছুই মুখে লাগাইনি।

৮. ঘুম থেকে সকালে উঠে সাধারণত ফেসওয়াশদিয়ে মুখ ধুইয়ে ফেলি।

নারকেল তেল মুখে দেয়ার পর আমি যে নিয়মগুলো অনুসরণ করি সেগুলো হচ্ছে -

  • নারকেল তেল ব্যবহার করার পর মুখে আর কোনো কিছু ইউজ না করা।
  •  ব্যবহারের পরপরই কোন ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাইনা করা।
  •  ১ মাস অথবা ২৫দিন পরপর স্কিনে কোকোনাট অয়েলব্যবহার করা থেকে ব্রেক দিয়ে ১০দিনের জন্যরেগুলার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। তারপর আবার কোকোনাট অয়েলে ব্যাক করা।

লিখেছেনঃ  বিউটি ব্লগার ও ইউটিউবার  তৃষিতা নওরোজ

 

Recommended


Comments

comments

2 Comments

Leave a Comment

*