অন্যান্য, ক্যারিয়ার, সম্পাদকের পছন্দ

চাকরীর ইন্টারভিউ-এ যেসব ব্যাপারগুলো মাথায় রাখা উচিত

একটা প্রবাদ আছে, “লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে”, কিন্তু সেই গাড়ি চড়তে গেলেও যে আপনাকে পরীক্ষা দিতে হবে! কি অবাক হচ্ছেন! ভাবছেন তো যে, আবার কোন পরীক্ষার কথা বলছি! বলছি চাকরীর পরীক্ষার কথা, মানে মৌখিক পরীক্ষা অথবা ইন্টারভিউ। লেখাপড়া শেষ করে চাকরী জীবনে প্রবেশের মুখের দরজাটির নাম হচ্ছে ইন্টারভিউ।  ঘাবড়ে যাবেন না, কিছু ব্যাপার মাথায় রাখলেই এই ইন্টারভিউ শব্দটাই আপনার জীবনের প্রিয় একটি শব্দ হতে পারে এবং চাকরীর দুয়ার আপনার জন্য প্রসন্ন হয়ে যাবে।  চলুন তাহলে জেনে নেই যে, কোন কোন ব্যাপারগুলো মাথায় রাখতে হবে।

(১) যেদিন আপনি ইন্টারভিউ এর জন্য উপস্থিত হবেন, তার আগের দিন সেই কোম্পানি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন। এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে গুগল। কোম্পানির নাম লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে জাবেন যাবতীয় তত্থ্য। তাই বলে সবকিছু মুখস্ত করে ফেলতে হবে টা কিন্তু নয়। অন্তত কোম্পানির সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাটুকু (যেমন- বিজনেস, প্রোডাক্ট ইত্যাদি) নিয়ে রাখতে পারেন।

(২) ইন্টারভিউ এর জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে সেখানে পৌছানো উচিৎ। ইন্টারভিউ বোর্ডে দেরি করে যাওয়া আপনার উপর একটা খারাপ ধারণা পোষণ করে। আর আমাদের দেশের রাস্তাঘাটের যানজটের কথা মাথায় রেখে, হাতে অন্তত ৩০ মিনিট বেশি সময় নিয়েই তবে বাসা থেকে ইন্টারভিউ এর জন্য বের হবেন।

(৩) এবার আসি পোশাকের ব্যাপারে। অনেকেই আছেন খুব সাধারণ পোশাক আর স্যান্ডেল পড়েই চলে যান ইন্টারভিউ দিতে। এই কাজটি করবেন না, আমি বলছি না যে খুব অসাধারণ কোন পোশাক পরতে হবে তবে পোশাক অবশ্যই মার্জিত এবং রুচিশীল হতে হবে আর সাথে আপনার পায়ের জুতাটিও। এলোমেলো চুলে কখনওই ইন্টারভিউ দিতে যাওয়া উচিৎ নয়। মনে রাখবেন, একজন পরিপাটি মানুষকে দেখতে সবাই পছন্দ করে।

(৪) কোম্পানির সম্পর্কে জেনেও গেলেন আবার সময়মত পরিপাটি হয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডেও পৌছলেন কিন্তু প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে গেলেন তখন! না একদমই ঘাবড়ানো চলবে না। মনে রাখবেন আপনি আপনার যোগ্যতার খাতিরেই চাকরী পাবেন তাই সম্পূর্ণ আত্নবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন আর যদি না পারেন তাহলে সাবলীল ভাবে বলে দিন যে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না। কোন প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকা দোষের কিছু নয়।

(৫) সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলাটা সুরুচির পরিচয় বহন করে। যতটুকুই বলবেন অবশ্যই সাবলীলভাবে, গুছিয়ে এবং মার্জিত করে বলার চেষ্টা করবেন। আর হ্যাঁ, উত্তর দেয়ার সময় অবশ্যই আই কন্টাক্ট করুন। সবশেষে, আপনার মনে কোন প্রশ্ন থেকে থাকলে বা কিছু জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করুন।

সর্বপরি, সম্পূর্ণ আত্নবিশ্বাসের সাথে ইন্টারভিউ বোর্ডকে ফেস করতে হবে। ভয় পাবেন না, মনে রাখবেন আপনি আপনার যোগ্যতাতেই পড়াশোনা শেষ করে আজকে চাকরীর জন্য চেষ্টা করছেন। আর একটা কথা, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ইন্টারভিউ খারাপ হলে কষ্ট পাবেন না। চেষ্টা করতে থাকুন সাফল্য আপনার আসবেই। শুভ কামনা রইলো!

ছবি – ফাইন্ডজবস ডট ভিএন

লিখেছেন –  রেজওয়ানা সিরাজ

Recommended


Comments

comments

Leave a Comment

*