অন্যান্য

ল্যাপটপ ভালো রাখার কয়েকটি উপায়

আজকাল কম বেশি সবাই আমরা ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু সবারই একই সমস্যা দেখা যায় যেটা সেটা হলো খুব দ্রুত ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যাওয়া আর তার জন্য আমরা দায়ী করে থাকি ল্যাপটপের ব্র্যান্ডকে। অনেক সময় নিজের ভাগ্যকেও দোষারোপ করতে ছাড়িনা। কিন্তু ব্র্যান্ড বা ভাগ্য কোনটিই আপনার ল্যাপটপ নষ্টের জন্য দায়ী নয় বরং দায়ী আপনি নিজে, দায়ী আপনার অসাবধানতা। তাহলে কি এবার নিজেকে দোষারোপ করবেন? না। নিজেকে যাতে আর দোষ দিতে না হয় তাই আপনাদের সুবিধার্থে নীচে ল্যাপটপের যত্ন নেয়ার কিছু টিপস দেয়া হলোঃ

০১. ল্যাপটপের ধারে কাছে কখনো তরল কিছু রাখবেন না। যেমন- চা, কফি, দুধ, শরবত, লবণ পানি ইত্যাদি। গরম চা, কফি যাই খান না কেন তা ল্যাপটপ থেকে দূরে রাখুন আর নিতান্তই যদি রাখার প্রয়োজন পড়ে তবে ঢেকে রাখুন যাতে গরম ভাপ ল্যাপটপের কাছে না পৌঁছে।

০২. সব সময় ল্যাপটপে এ্যান্টিভাইরাস রাখবেন। মনে রাখবেন, ভাইরাস থেকে আপনার ল্যাপটপ কখনই নিরাপদ না আর তাই ভালো মানের যেকোনো এ্যান্টিভাইরাস যেমন ক্যাস্পারাস্কি, নরটন, আভাইরা ইত্যাদি এ্যান্টিভাইরাস ল্যাপটপে ইনস্টল করে নিন।

০৩. কখনও ল্যাপটপের উপর খাবার রেখে খাবেন না। এতে খাবারের ছোট দানা আপনার কী-বোর্ডে অনেক সময় ঢুকে গিয়ে ধীরে ধীরে কী-বোর্ডের বাটন নষ্ট করে দিতে পারে।

০৪. ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় হাত যেন পরিষ্কার থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

০৫. যখন আপনি ল্যাপটপ বন্ধ করবেন তখন লক্ষ্য রাখবেন যেন কোন ক্ষুদ্র জিনিসও ল্যাপটপের উপর না থাকে। যেমন কলম, পেন্সিল ইত্যাদি। দুই হাত দিয়ে ধরে ঢাকনা দিয়ে ঢাকুন। এক হাত দিয়ে ধরলে ল্যাপটপের উপর চাপ পড়ে।

০৬. কখনও ল্যাপটপ সরানোর প্রয়োজন হলে ল্যাপটপের মনিটর ধরে কোনদিন তা উঠাবেন না। এতে মনিটরের ডিসপ্লে নষ্ট হতে পারে।

০৭. পাওয়ার সকেট থেকে কোনদিন কর্ড  টান দিয়ে খোলা বা লাগানোর চেষ্টা করবেন না। এতে সকেট ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

০৮. কর্ড পারলে ট্যাপ দিয়ে আটকে রাখুন অথবা এমন কর্ড ব্যবহার করুন যাতে ল্যাপটপের কাজ শেষ হয়ে গেলে খুব সহজেই তা খুলে রাখা যায়। সবসময় চেয়ার থেকে কর্ড কিছুটা দূরে রাখুন যাতে আপনি চেয়ার নিয়ে নাড়াচাড়া করলেও আপনার পা অথবা চেয়ার কর্ডে না লাগে।

০৯. কোন ডিভাইস যেমন মডেম, পেনড্রাইভ ঢুকাতে হলে তার উপযোগী পোর্টে ঢুকান। তার জন্য পোর্টের প্রতীক আর ডিভাইসের প্রতীক মিলিয়ে তারপর ঢুকান। প্রত্যেক ল্যাপটপের আলাদা পোর্ট আলাদা প্রতীক সম্পন্ন।

১০. ল্যাপটপে যেসব সিডি ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই আলাদা ব্যাগে রাখুন আর যখন বের করবেন অত্যন্ত যত্ন সহকারে বের করুন। অনেক সময় সিডি থেকেও ল্যাপটপ নষ্ট হতে পারে। সিডি ব্যবহার করার সময় সিডির লেভেল চেক করে নিন।

১১. ল্যাপটপ এমন কোন জায়গায় রাখবেন না যেখানে তাপমাত্রা খুব ওঠা নামা করে। শীতকালে এক রুম থেকে অন্য রুমে নিলে সাথে সাথেই ল্যাপটপ অন করবেন না। আগে ল্যাপটপকে ঘরের তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে সময় দিন। তারপর কিছুক্ষণ পর অন করুন। সূর্যের আলোতেও ল্যাপটপ অন করবেন না।

১২. অনেকে ল্যাপটপ গাড়িতে রেখে যায়। এই কাজ কোনদিন করবেন না। ল্যাপটপ গাড়ির তাপমাত্রার সাথে মানানসই না। বন্ধ গাড়ী রোদে থাকলে অনেক গরম হয়ে যায়।

১৩. ল্যাপটপ বছরে একবার পরিষ্কার করুন। এই কাজ আপনি নিজে পারলে ভালো, তবে না পারলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে করিয়ে নিন। কারণ ময়লা পড়ার কারণে পার্টস গুলো নষ্ট হয়ে ল্যাপটপ আর কাজ করেনা।

১৪. ল্যাপটপের উপর কখনো ভারী জিনিষপত্র রাখবেন না। এমনকি ভারী বইও রাখবেন না।

১৫. ল্যাপটপ সবসময় ল্যাপটপ ব্যাগে রাখবেন। অনেকে আজকাল ছোট ছোট ব্যাগে ল্যাপটপ বহন করে থাকে। এতে ব্যাগ ছিড়ে ল্যাপটপ পড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে।

১৬. ল্যাপটপ সব সময় একটি সমান্তরাল ও পরিষ্কার জায়গার উপর রেখে কাজ করবেন।

১৭. মাঝে মাঝে পুরাতন টুথব্রাশ দিয়ে কী-বোর্ড ও অন্যান্য পার্টস পরিষ্কার করুন।

কষ্টের টাকায় কেনা ল্যাপটপ যদি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সত্যি অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে ল্যাপটপ ভালো রাখতে পারেন অনেকদিন।

লিখেছেনঃ পাপিয়া সুলতানা

ছবিঃ সাইক্লিক্স.কম

Comments

comments

Recommended