হাসিমুখ

প্রচেষ্টা স্কুলঃ আসুন কিছু স্বপ্নের সুরক্ষা করি

“ শিশুশ্রম বন্ধ কর, শিশুদের শিক্ষিত কর ”
এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৪০ জন পথশিশু নিয়ে  প্রচেষ্টা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে। চাওয়াটা খুব বেশি ছিল না, শুধু কয়েকটি খেটে খাওয়া টোকাই, শ্রমিক শিশু ও এতিম শিশুকে ন্যূনতম পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১০০। স্কুলটিতে শিক্ষকরা ক্লাস নেন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার সহ সব শিক্ষা উপকরণ ফ্রি দেয়া হয়। পথশিশুদের অবৈতনিক শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

কিন্তু কোন স্থায়ী জায়গা না থাকায় স্কুলটি চালাতে গিয়ে উদ্দ্যোক্তারা এতদিন বিভিন্ন প্রতিকুলতার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। আসছে অক্টোবরের ১ম সোমবার ৭ তারিখ বিশ্ব শিশু দিবস। ওই দিন তারা প্রচেষ্টা স্কুলঃ পথশিশু ও শিশুশ্রমিক শিক্ষা কেন্দ্র এর স্থায়ী ভাবে উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। স্থায়ী ভাবে চালু করার জন্য বাড়ির মালিককে ৫০০০০ টাকা অগ্রিম দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, স্কুলটি চালাতে প্রতি মাসে প্রায় ২০,০০০ টাকার মতো খরচ হয়। এর মধ্যে ১৪,০০০ টাকাই শুধু দিতে হয় ঘর ভাড়া বাবদ, বাকি ৬,০০০ টাকা লাগে বাচ্চাদের জন্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করতে। এমতাবস্থায় শুধু এককালীন সাহায্য নয় মাসে মাসে টাকা দিতে পারবেন এমন ডোনার প্রয়োজন এই উদ্দ্যোগটিকে সফল করতে। প্রচেষ্টা স্কুল একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প।

হাতিরঝিল উত্তর বেগুনবাড়িতে সিদ্দিক মাষ্টারের ঢালে স্কুলটি অবস্থিত। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনার ব্যবস্থা আছে। এখানে বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছেলে মেয়েরা পড়িয়ে থাকেন। শুধু টাকা পয়সা নয়, যদি আগ্রহী হন এখানে শিক্ষক হিসাবেও কাজ করতে পারেন, বা সেটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এক বেলার জন্য ঘুরে আসুন স্কুলটাতে, কথা বলুন এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সাথে, আপনার অনুপ্রেরণাই হয়ত ওদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।

আর যারা সাহায্য করতে চান, তারা নিচের নম্বরে বিকাশ করুন অথবা ডাচ বাংলায় টাকা পাঠাতে পারেন। বিস্তারিত জানতে আমাদেরকে ইনবক্স করতে পারেন, অথবা নিচের নম্বরে ফোনও করতে পারেন উদ্দ্যোক্তাদের।

বিকাশ- +৮৮০১৬১৬৪৪৪৯৯১
DBBL- +৮৮০১৬৭০০৯০১০৩৩

আপনার হয়ত মনে হবে এটি কোন উদ্দ্যোগ নয়, হয়ত মনে হবে ১০০টা পথশিশুকে শিক্ষিত করে কি হবে? হয়ত কিছুই হবে না, তবুও ঐ শিশুগুলো অন্তত তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, হয়ত এই ১০০ জন একদিন ১০০০ জন হবে অথবা হয়ত এই ১০০ জন থেকেই আগামী দিনের সম্ভাবনাময় কোন মুখ বের হয়ে আসবে।

আমরা চ্যারিটি কথাটির পক্ষপাতী না, আপনি ভাবুন আপনি সাহায্য করছেন না বরং এই বাতাসের যেই অক্সিজেন গ্রহন করে বেঁচে আছেন, বড় হয়েছেন, মনে করুন আজকে একটু অক্সিজেন সেই বাতাসে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এটা আমাদের কাছে এই শিশুগুলোর প্রাপ্য। পথের শিশু বলে এড়িয়ে না যাই। বরং আমরা সবাই মিলে “আমরা” হই। দেশটা তো আমাদের ই, তাই না?

লিখেছেনঃ তাসিয়া

ছবিঃ ঢাকাট্রিবিউন ডট কম

Comments

comments

Recommended