অন্যান্য, সম্পর্ক

ভালবাসার সম্পর্কে ঈর্ষা? দূর করে দিন এখনি!

খুব গভীর ভালবাসার সম্পর্কে মাঝে মাঝে একটুখানি ঈর্ষাও কিন্তু পরিস্থিতিকে বদলে দেয়। তবে একটু বিবেচনা আর উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে তা সহসাই সামাল দেয়া চলে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈর্ষাকে দমন করাই শ্রেয়, কেননা সম্পর্ক ধ্বংস করায় এর কোন জুড়ি নেই! কিন্তু কিভাবে ঈর্ষার আগুন থেকে দূরে থাকবেন? জেনে নিই চলুন।

সঙ্গীর ওপর আস্থা রাখুনঃ

হ্যাঁ, সঙ্গীকে, সঙ্গীর কথাকে বিশ্বাস করুন। মনে রাখবেন, সে যদি আপনার সাথে মিথ্যে বলে, তাহলে সে নিজেকেই ঠকাচ্ছে। আসলে বিশ্বাসকেই যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। সঙ্গীকে অনবরত সন্দেহের চোখে দেখা তার জন্য অপমানজনক। সবকিছু নিয়ে কথা তোলা বা প্রশ্ন করাটা সম্পর্ককে ভেঙ্গেও দিতে পারে। সঙ্গীকে সন্দেহ করার প্রবণতা যদি আপনার থেকেও যায়, তবুও তার সাথে এমন ভাব করুন যেন আপনি তাকে বিশ্বাস করছেন। যদি দেখতে পান যে আপনার সঙ্গীকে বিশ্বাস করে আপনি ভুল করেন নি, তবে তাকে অহেতুক সন্দেহ করা বাদ দিন।

নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন নাঃ

মাঝে মাঝে আত্ম-সম্মানবোধের অভাব থেকেও কিন্তু ঈর্ষার জন্ম হয়। “অন্যেরা আমাকে কেন এত পছন্দ করে?” বা “তাদের মত মানুষ আমার মত মানুষকে কেন পছন্দ করবে?” আসলে আমরা কেউই সঠিক জানিনা যে কেন অন্যেরা আমাদের পছন্দ করে বা ভালোবাসে। বিশ্ববিখ্যাত মোনালিসার চিত্রটি কি জানে যে কেন তার মূল্য এত বেশি? আমাদের ব্যাপারটাও ঠিক সেরকমই! আসলে আপনার ভেতরে এমন কিছু মানবিক গুণ থাকতে পারে, যা আপনাকে অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তাই অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য জোর করে কোন গুণের চর্চা করতে যাবেন না, তাহলে তা আপনার ভাবমূর্তিকে অপরের কাছে মেকি করে তুলতে পারে বরং নিজের ভেতরের ভালো গুণ গুলোকে বুঝতে চেষ্টা করুন আর সেটাকেই ফুটিয়ে তুলুন আপনার ট্রেডমার্ক হিসেবে।

সম্পর্ক নিয়ে খেলা করবেন নাঃ

যেকোনো সম্পর্কের জন্যই ঈর্ষা বিষয়টি বেশ অস্বস্তিকর। অনেকেই সঙ্গীকে ঈর্ষান্বিত করে মজা পাওয়ার চেষ্টা করে। এমনটি কখনই করা উচিত না। সারাক্ষণ সঙ্গীর কানের কাছে প্রাক্তন প্রেমিক /প্রেমিকার বা অফিসের সহকর্মী কিংবা পরিচিত যে কারও রূপ, গুণ, বুদ্ধির প্রশংসা করে যাওয়াটা ভবিষ্যতের জন্য কখনই ভালো না।

ব্যাপারটা ঠিক এমন নয় যে আপনাকে সবসময় এমন ভান করতে হবে যে আপনার সঙ্গী ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ আপনার প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নয় বরং এই বিষয়টি যেন কোন ভাবেই আপনাদের সম্পর্কের মাঝে এসে না দাঁড়ায়, আপনাকে সেই চেষ্টাই করে যেতে হবে। কাজেই সম্পর্ক নিয়ে খেলা করতে যাবেন না। সঙ্গীকে ঈর্ষাকাতর করে তোলার আগে একটু ভেবে দেখবেন এর ফলাফল কি হতে পারে!

দীর্ঘায়িত করুনঃ

রিল্যাক্স করুন এবার। সঙ্গী তার নিজের বন্ধু-বান্ধবের সাথে কিছু সময় একান্তে কাটাতে চাইলে তা করতে দিন। সব সময় তাকে নিজের মত করে পেতে চাইলে কিংবা তাকে তার মত করে থাকতে না দিলে তা আপনার জন্যই ক্ষতিকর। কারণ এই ‘জেলবন্দী’ অনুভূতি হয়ত বা তাকে বাধ্য করবে আপনার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে বা আপনাকে ফাঁকি দিতে। অবশ্য তাকে তার মত করে থাকতে দেয়ার মানে কিন্তু এই নয় যে সে সবসময়ই আপনাকে অবহেলা করবে বা আপনাকে সময় দেবেনা।

কল্পনাশক্তিকে ব্যবহার করুন, বিভ্রান্তি দূর করুনঃ

এটি অনুশীলন করতে পারেন – চোখ বন্ধ করে রিল্যাক্স করুন। এবার ভাবতে থাকুন যে কোন ধরনের সিচুয়েশানগুলো আপনাকে ঈর্ষান্বিত করে তোলে। কী দেখতে পাচ্ছেন মনের জানালায়? আপনার পার্টনার বাইরে অন্য কারও সাথে ঘুরছেন? বা অন্য কারও সাথে কথা বলছেন, হাসছেন? এবার গভীর একটি শ্বাস নিন। এবার নিজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দিকে মনোযোগ দিন। নিজেকে খুব শান্ত-শিষ্ট ও উপরের সিচুয়েশানগুলোর প্রতি উদাসীন একজন রূপে কল্পনা করুন। কারণ জীবনের সব কিছুর জন্য আসলে আপনাকেই দায় নিতে হবে এবং আপনিই পারেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে। ভাবতে থাকুন, আপনার সঙ্গীর কোন একটি আচরণ আপনাকে ঈর্ষান্বিত করে তুলছে আর আপনি তা খুব ঠাণ্ডা মাথায় উপেক্ষা করে ফেলতে পারছেন। এভাবে চর্চা করুন, ঈর্ষা আপনার ধারে-আছেও ঘেষতে সাহস করবেনা।

আসলে শুনতে কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি যে ঈর্ষার অনুভূতি আসলে অন্যের তুলনায় নিজেকে নিয়ে বেশি ভাবার অভ্যাস তৈরি করে। যা আসলে সঙ্গীর প্রতি আপনার ভালোবাসাকে কমিয়ে দেয়। এই ক্ষতিকর অনুভূতিটাকে দূরে সরিয়ে দেয়ার মানে কিন্তু এই নয় যে সঙ্গীকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসা বা তাকে অন্য কারও দিকে মনোযোগ না দিতে বাধ্য করা। ঈর্ষাকে দূরে রাখার একমাত্র উপায় হলো নিজের ইমোশান গুলোকে খুব যৌক্তিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। আশা করি ঈর্ষার আগুনে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবার মত ঘটনা আপনার জীবনে কখনও ঘটবেনা। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।

লিখেছেনঃ নুজহাত

ছবিঃ কিউটলিপয়জন্ড.কম

Comments

comments

Recommended