অন্যান্য

ফেসবুকঃ আপনার একাউন্টটি কি নিরাপদ?

আপনি কি জানেন আপনার প্রিয় ফেসবুকটি আপনার ভীতির কারণ হতে পারে। একটু অসচেতনতা ও অজ্ঞতার ফলে হ্যাক হয়ে যেতে পারে আপনার আইডি বা পাসওয়ার্ড কিংবা অপব্যবহার হতে পারে আপনার আইডির আনুসাঙ্গিক বিষয়াদির যেমন ছবি, ভিডিও, নোট ইত্যাদি। তাই নেট ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিশেষ করে ফেসবুকের সতর্কতা বিষয়ক জ্ঞান নখ দর্পণে থাকা বাঞ্ছণীয়। তাই চলুন জেনে নেই কেমন করে রক্ষা করবেন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সেফ ও সিকিউর রাখতে নিম্নোক্ত প্রাইভেসির দিকে খেয়াল রাখুন -

প্রথম ধাপঃ

০১. প্রথমেই বিরত থাকুন আননোন/ অচেনা লিংক ওপেন করা থেকে। যার তার যে কোন অপরিচিত সাইটের লিংক ওপেন করতে যাবেন না। এতে দুর্বিত্তরা পেয়ে যেতে পারে আপনার পাসওয়ার্ডটি।

০২. বেশ কিছুদিন পরপরই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন আর করার সময় এমন কিছু নির্বাচন করুন যা আপনার সাথে কোনভাবেই যায় না, মানে আপনার কোন কিছুর সাথে মিল রেখে পাসওয়ার্ড নির্বাচন করবেন না। পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় খেয়াল রাখুন তার লেভেল যেন স্ট্রং দেখায়। সেক্ষেত্রে কিছু কেস সেন্সেটিভ ব্যাপার থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

০৩. দুটি ই-মেইল এড্রেস দেয়ার চেষ্টা করুন। একটা যদিও অপশনাল, তবুও জরুরী। এতে আপনার অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি বাড়বে।

দ্বিতীয় ধাপঃ

এ ধাপে জানিয়ে দিচ্ছি প্রথম ধাপের অ্যাপ্লিকেশন কেমন করে করবেন।

০৪. আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার পর নিজের নাম ও হোম এর পাশেই একেবারে উপরের ডান দিকে দেখবেন গিয়ারের মত একটা জিনিস আছে সেটিতে ক্লিক করুন।

01

০৫. এবার সেখান থেকে জেনারেল সেটিংস এ যান, গেলেই দেখবেন অনেকগুলো অপশন আসছে।

02

০৬. সেখানকার ইউজার নেম থেকে ইউআরএল এর পরবর্তি অংশ থেকে নিজের নাম মুছে অন্য যে কোন কিছু ব্যবহার করুন।

০৭. এবার একে একে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড এর জায়গা থেকে বদলে নিতে পারবেন যখন প্রয়োজন।

তৃতীয় ধাপঃ

এবার আসুন যাওয়া যাক তৃতীয় তথা সর্বাপেক্ষা কার্যকর ধাপে-

০৮. এবার একই জায়গা থেকে জেনারেল সেটিংসের পরিবর্তে ক্লিক করুন সিকিউরিটি সেটিংসে।

03

০৯. সেখানে প্রথমেই দেখুন সিকিউর ব্রাউসিং, একে এনাব্যলড করুন।

১০. তারপরেই আসছে লগ ইন নোটিফিকেশন, একেও এনাব্যলড করুন; ফলে নতুন করে লগ ইন করার পর প্রত্যেক বার আপনাকে ফেসবুক থেকেই জানান দেবে।

04

১১. এরপরের কাজটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; লগ ইন অ্যাপ্রুভাল। এখান থেকে আপনাকে আপনার ব্যবহৃত ফোন নাম্বার দিয়ে সেট করতে হবে। এর ফলে যখনই আপনি নতুন কোন ব্রাউজার দিয়ে ব্রাউজ করতে চাইবেন বারবারই আপনার সেল ফোনে একটা করে কোড আসবে যা দিয়ে ভেরিফাই করে আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন। একে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেছি এই জন্য, যদি কেউ আপনার পাসওয়ার্ড পেয়েও যায় কিংবা আপনিও দিয়ে থাকেন তবুও সে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না যতক্ষণ না মোবাইলে আসা কোডটি দিয়ে অ্যাকসেস করবেন।

05

১২. আপনি চাইলে সিকিউরিটি পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে অ্যাপ্লিকেশন পাসওয়ার্ড-ও ব্যবহার করতে পারবেন।

১৩. আপনার চলতি ব্রাউজার বা সেল ফোনের মডেলটি রিকোগনাইজিড ডিভাইস হিসেবে সেভ করে রাখতে পারেন, যাতে প্রতিদিনের ব্রাউজিং সমস্যা গুলো এড়াতে পারেন।

১৪. এই জায়গা থেকে আপনি চাইলে আপনার অ্যাকাউন্টটি অস্থায়ী বা স্থায়ী ভাবে ডিঅ্যাকটিভ করে দিতে পারবেন। অস্থায়ী ভাবে করলে পুনরায় ওপেনের সময় শুধু ই-মেইল অ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিলেই হবে। আর স্থায়ী ভাবে ডিঅ্যাকটিভ করে দিলে পুরনো অ্যাকাউন্টে আর ঢুকতে পারবেন না, আবার নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

চতুর্থ বা শেষ ধাপঃ

১৫. এবার প্রাইভেসি সেটিংসে যেয়ে আপনার ইচ্ছামত ট্যাগিং, নোটিফিকেশন, ম্যাসেজিং ও ব্লকিং লিস্ট ঠিক করে নিন। আপনার পছন্দমত করে সাজিয়ে নিতে পারেন একে।

pri

অ্যাকাউন্ট তো প্রাইভেট করা হল, এবার?? হ্যা, ঠিক ধরেছেন, এবার পালা আপনার মূল্যবান ছবি গুলো রক্ষা করা। অনেকেই এক জনের ছবি ব্যবহার করে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে। শুধু তাই নয় কিছু কিছু মানুষরূপী পশু মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে অনেক রকম আজেবাজে পেজ চালনা করে আর ভয়ংকর রকমের এডিটের মাধ্যমে আপনাকে ফেলতে পারে নানা রকম বিব্রতকর পরিস্থিতে। তাই সতর্ক থাকাটাই একান্ত কাম্য। তাই জেনে নিন কী করবেন-

- ফেসবুকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী আপনি যখন নতুন কোন ছবি আপলোড করতে যান সেটা পাবলিক হয়ে যায়। তাই পাবলিশ করার সময়েই আপনার ছবির প্রাইভেসি ঠিক করে নিন।

- সেক্ষেত্রে যেখানটাতে গোল রকম ‘পাবলিক’ সাইন দেখায় সেখানে ক্লিক করুন।

- দেখবেন পাবলিক, ফ্রেন্ডস, কাস্টোমাইজড ও ওনলি মি অপশন রয়েছে। আপনার ইচ্ছামত প্রাইভেসি দিয়ে নিন।

photo

-প্রতিবারই ছবি পরিবর্তনের সময় একই ভাবে প্রাইভেসি ও পরিবর্তন করতে হবে।

- আর একটা কথা কভার ফটোর প্রাইভেসি আপনি কখনোই বদলাতে পারবেন না, সেটা সব সময়ই পাবলিক। তাই কভার পিক দেওয়ার ক্ষেত্রে বুঝে শুনে দিন।

এই ছিল আমার জানা মতে ফেসবুক সতর্কতার খুঁটিনাটি। প্রতিটি ধাপের কাজগুলো ঠিকমত পালন করলে আপনার অ্যাকাউন্ট বেঁচে যাবে হ্যাকিং এর যে কোন সমস্যা থেকে আর আপনি থাকবেন সুরক্ষিত।

লিখেছেনঃ রোজা স্বর্ণা

ছবিঃ টেকঅ্যাডিকশান.সিএ, ফেসবুক.কম

Recommended


Comments

comments

Leave a Comment

*